মঈন উদ্দীন বাপ্পী । হিলরিপোর্ট

রাঙামাটি: করোনার প্রভাবে পুরো দেশে এখন নাকাল। এর মধ্যে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী গার্মেন্টস সেক্টরের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তাই দীর্ঘদিন ধরে কর্মহীন এবং কষ্টেজনিত জীবন পার করা শ্রমিকরা পেটের দায়ে এইবার ছুটে চলছেন নিজ কর্মস্থলে যোগ দিতে।
কিন্তুু তাদের কর্মস্থলে যেতে প্রধান বাঁধা যোগাযোগ। কারণ পুরো দেশে এখন গণপরিবহন ব্যবস্থা বন্ধ রয়েছে। তারপরও পেটের তাগিদে, চাকরী বাঁচাতে তাদের ছুঁটতে হবে নিজ কর্মস্থলে।

রাঙামাটি থেকে চট্টগ্রামের দূরত্ব প্রায় ৭০কিলোমিটার। এর মধ্যে কর্মস্থল আরও ৫কিলোমিটারের দূরত্ব। তবে সবচেয়ে নিদারুণ বিষয় হলো- আর পুরো ৭৫কিলোমটিার পায়ে হেঁেট যেতে হবে এসব পোশাক শ্রমিকদের।

রোববার (০৫এপ্রিল) দুপুরে রাঙামাটি শহরের পথ মারিয়ে নিজ কর্মস্থল চট্টগ্রামে ছুটে চলছেন ছয়জনের একটি গার্মেন্টস শ্রমিকের দল।

তাদের মধ্যে আড়াই বছরের বাচ্চাসহ একজন নারী পোশাক শ্রমিক রয়েছেন। তিনি রাঙামাটি থেকে ৭৫কিলোমিটার পথ মাড়িয়ে চট্টগ্রামের নিজ কর্মস্থলে যোগদান করবেন।

এ বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, কি করবো? কে খাওয়াবে? এতদিন বাড়িতে ছিলাম কেউ তো একমুঠো ভাত মুখে তুলে দেয়নি। তাই বাঁচার তাগিতে মরার আগে কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে।

তার সাথে থাকা গামন্টেস কর্মী লিমা আক্তার বলেন, অফিস থেকে ফোন করেছে চাকরী বাঁচাতে চাইলে রোববারে মধ্যে যোগ দিতে হবে। না হলে চাকরী থাকবে না।

একই দলের আরেক নারী পোশাক শ্রমিক রাবেয়া আক্তার বলেন, রোববার ভোরে আমরা রাঙামাটির লংগদু উপজেলা থেকে একটি ভাড়া চালিত টেম্পু বোট নিয়ে রাঙামাটি শহরে প্রবেশ করি। এরপর পায়ে হেঁটে চট্টগ্রামের বন্দর টিলায় অবস্থিত নিজ কর্মস্থল ইয়ং ওয়ান গার্মেন্টেসের উদ্দেশ্যে ছুটে চলছি।

একই দলে থাকা পোশাক শ্রমিক আব্দুর রহমান বলেন, আমি গার্মেন্টেসে লেবার সেকশনে কাজ করি। মালিক পক্ষ বলেছে, আজকের মধ্যে কাজে যোগ না দিলে চাকরি থাকবে না। তাই বউ-বাচ্চার মুখে আহার তুলে দিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিজ কর্মস্থলের দিকে ছুটে চলছি। তাদের মতো চাকরি বাঁঁচাতে রাঙামাটি থেকে পায়ে হেঁটে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে নিজ কর্মস্থলে ছুটে যাচ্ছেন করিমন বেগমের মতো আরও অসংখ্য নারী।

দলে দলে ছুটে চলা এসব শ্রমিকদের পথে পথে পথে দায়িত্বরত পুলিশের কর্মকর্তারা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মানবিক কারণে ছেড়ে দিচ্ছেন।

সরকার করোনা মোকাবেলায় গত ২৬মার্চ থেকে ১০দিনের ছুটি ঘোষণা প্রদান করেছিলো। এখন প্রশ্ন হলো- গণপরিবহন বন্ধ থাকায় দীর্ঘপথ পথ পাড়ি দিয়ে এসব শ্রমিকরা নিরাপদে তাদের কর্মস্থলে পৌছতে পারবে তো? তারা করোনা মুক্ত থাকতে পারবে তো? এমন প্রশ্ন সচেতন মহলের।

এদিকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে রাঙামাটিতে জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী এবং পুলিশ নিয়মিত টহল জোরদার রেখেছে। জেলা প্রশাসনের অধীন নিয়মিত ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালিত হচ্ছে। পুরো শহরে চলছে অঘোষিত লকডাউন। মানুষ প্রয়োজন ছাড়া বের হচ্ছে না। যারা আইন অমান্য করে রাস্তায় ঘুরাঘুরি করছেন এবং যানবাহন চালানোর চেষ্টা করছেন তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ শাস্তির ব্যবস্থা করা হচ্ছে।