॥ মঈন উদ্দীন বাপ্পী ॥

বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) রাঙামাটি শাখা প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিক ভাবে কার্প জাতীয় মাছের পোনা উৎপাদন শুরু করেছে। পরিক্ষামূলক উৎপাদন নয় বরং বাণিজ্যিক ভাবে সফল হওয়ার লক্ষ্যে পোনা উৎপাদন করেছে বলে প্রতিষ্ঠানটির দাবি।

প্রতিষ্ঠানটি রাঙামাটির লংগদু উপজেলার বাগাচত্ত্বর ইউনিয়নের মারিশ্যাচর এলাকায় পোনা উৎপাদনের লক্ষ্যে ২০১৬ সালে একটি হ্যাচারি প্রতিষ্ঠা করে। এ হ্যাচারীতে ২০১৮ সালের শুরুতে প্রথমবারের মতো পোনা উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করেছে।

প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্ঠদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, অতীতে জেলার বাহির থেকে ২০ থেকে ২৫ মেট্রিক টন মাছের পোনা ক্রয় করে কাপ্তাই হ্রদে অবমুক্ত করা হতো। পোনা ছাড়ার কিছুদিনের মধ্যে হাজার হাজার পোনা মরে ভেসে উঠতো। এর কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্ঠরা উল্লেখ করেন- দূরত্বের কারণে পোনাগুলো আনার সময় আঘাতপ্রাপ্ত হয়।

এজন্য অতিরিক্ত খরচ এবং সময়ের রোধ করতে স্থানীয় ভাবে পোনা উৎপাদনের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি কাজ শুরু করেছে। প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্টরা মনে করে, পোনা উৎপাদনের কারণে একদিকে যেমন বিএফডিসি’র খরচ লাঘব হবে, সরকার পাবে ব্যাপক রাজস্ব তেমনি স্থানীয় মৎস্য চাষিরাও লাভবান হবে।

হ্যাচারির কার্যক্রম সরেজমিনে দেখতে গেলে কথা হয় স্থানীয় মৎস্য চাষীদের সাথে।
লংগদু উপজেলার বগাচত্বর ইউনিয়নের মৎস্য চাষি শহিদুল ইসলাম কামাল জানান, বিএফডিসি’র স্থানীয় ভাবে পোনা উৎপাদন আমাদের জন্য একটি সুসংবাদ।

তিনি বলেন, বিগত সময়ে আমরা ফেনী, কুমিল্লা এবং হাটহাজারি থেকে পোনা ক্রয় করে চাষ করতাম। দূরত্বে কারণে অধিকাংশ পোনা মরে যেতো। এখন ঘরের কাছে পোনা পাওয়ায় ঝক্কি-ঝামেলা পৌহাতে হবে না। অতিরিক্ত খরচ এবং সময় বাঁচবে।

সম্প্রতি মারিশ্যাচর হ্যাচারী থেকে কার্প জাতীয় মাছের পোনা ক্রয় করে তার পুকুরে অবমুক্ত করা হয়েছে, পোনাগুলো সুস্থ্য আছে বলে তিনি জানান।

একই উপজেলার গুলশাখালী ইউনিয়নের মৎস্য চাষী সাহাবুল আলম জানান, জেলার বাহির থেকে ক্রয় করা পোনাগুলো দূরত্বে কারণে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে একাংশ মরে যায়। পুকুরে ছাড়ার পর আরো একাংশ মরে যায়। যে কারণে আমাদের লাভের পরিমাণটা কমে আসে। বিএফডিসি কর্তৃক স্থানীয় ভাবে পোনা উৎপাদন মাছ চাষে আরো উদ্ধুদ্ধ করবে বলে এ চাষী জানান।

হ্যাচারীতে পোনা উৎপাদন কার্যক্রমে দায়িত্বে থাকা নজরুল ইসলাম জানান, মা মাছ থেকে ডিম এবং পুরুষ মাছ থেকে শুক্রানু সংগ্রহ করে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে ৯৬-১২০ ঘন্টার মধ্যে পোনা উৎপাদন করা হচ্ছে। পোনাগুলোকে প্রথম তিনমাস হ্যাচারীতে রাখা হয়। পোনাগুলো ৩-৫ইঞ্চি আকার ধারণ করলে সেগুলোকে হ্রদে অবমুক্ত করা হবে বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, সঠিক পদ্ধতি অবলম্বনের মাধ্যমে বিএফডিসি’র হ্যাচারীতে প্রতি মৌসুমে ৬০ মেট্রিকটন পোনা উৎপাদন করা সম্ভব।

  • Facebook
  • Twitter
  • Print Friendly

বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) রাঙামাটি শাখার ব্যবস্থাপক কমান্ডার (নৌ-বাহিনী) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, আমাদের স্বপ্ন সত্যি হয়েছে। বাণিজ্যিক ভাবে পোনা উৎপাদন বিএফডিসি’র বিশাল সফলতা।

কমান্ডার আরও বলেন, জেলার বাহির থেকে প্রতি মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদে অবমুক্ত করার জন্য ২০-২৫ মেট্রিকটন পোনা ক্রয় করা হতো, খরচ পড়তো ৪০-৫০লাখ। এখন পোনা উৎপাদন করার কারণে খরচটা অর্ধেকে নেমে আসবে। উৎপাদিত পোনা বিক্রির মাধ্যমে অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় হবে। আগামী তিন বছরের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির রাজস্ব বহুগুণে বেড়ে যাবে বলে তিনি জানান।

কমান্ডার যোগ করে আরও জানান, প্রাথমিক ভাবে আমরা কার্প জাতীয় পোনা উৎপাদন করছি পরবর্তী স্থনীয় চাহিদার ভিত্তিতে শরপুটি এবং গ্রাস কার্প এর পোনা উৎপাদন কাজ শুরু করবো।