পুলক চক্রবর্তী । হিলরিপোর্ট

রাঙামাটি: সরকারি আমলাদের জন্য প্রতিবেদন তৈরী করা কারো কারো চোখে বেমানান মনে হলেও প্রকৃত অর্থে কাজের ধারাবাহিক গতি যখন অস্বাভাবিক ভালো আর অসাধারণ হয়ে উঠে, তখন তাঁর সর্ম্পকে লেখা যেতেই পারে।

প্রজাতন্ত্রের এক কর্মকর্তা। তিনি রাঙ্গামাটির দুর্গম বিলাইছড়ি উপজেলার বিদায়ী নির্বাহী অফিসার পারভেজ চৌধুরী। তিনি সদ্য টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসার পদে বদলী প্রাপ্ত হয়ে গতকাল সোমবার স্বস্ত্রীক বিলাইছড়ি থেকে বিদায় নিয়েছেন।

পারভেজ চৌধুরী বিগত ২২/০৮/১৯ইং সরকারি আদেশে বিলাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী
অফিসার হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। আর গতকাল সোমবার তিনি কাপ্তাইয়ের ইউএনও
মুনতাশির জাহানের হাতে দায়িত্ব অর্পণ করে বিলাইছড়ি উপজেলা থেকে বিদায়
নেন। মাঝখানে কেটে গেল দুটি বছর। এরইমধ্যে বিলাইছড়ির সবার কাছে তিনি
নিবেদিত প্রাণ হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেন পারভেজ চৌধুরী।

তিনি দুই বছর সময় প্রায় পুরোটাই কাটিয়েছেন বিলাইছড়িতে। তার অফিস কক্ষের
দরজা সবার জন্যই ছিল উন্মুক্ত। তাই তিনি জয় করে নিয়েছেন বিলাইছড়ি
উপজেলাবাসীর মন।

অল্প সময়ের মধ্যে তিনি পাল্টে দিয়েছেন বিলাইছড়ি উপজেলা চত্বরের দৃশ্য। বিশেষ করে পর্যটন বিনোদন কেন্দ্র নীলাদ্রি গড়ে তুলে তিনি এনে দিয়েছেন বিলাইছড়ির নতুন পরিচতি। এছাড়াও বিলাইছড়িতে নতুন বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র স্থাপন, ৫০ শয়্যার বহতল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মান,উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স নির্মান,বিলাইছড়ির উপজেলার গুরত্বপূর্ণ জায়গায় সৌর বিদ্যুৎ চালিত সড়ক বাতি স্থাপন করাসহ অনেক উন্নয়ন হয়েছে তার সময়ে।

তিনি দক্ষতা ও সুনামের সাথে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সুযােগ পেলেই অসহায় মানুষের পাশে দাড়িয়েছেন। তিনি মানসিক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী, শিক্ষার্থীসহ
সব সময় অসহায় মানুষের বিপদে আপদে মানুষের পাশে ছিলেন। কল্যানকর কাজের
জন্য তিনি টেলিভিশন ও সংবাদপত্রের শিরোনামেও উঠেছেন বহুবার।

মহামারী করোনাকালীন সময়েও তিনি শক্তহাতে মোকাবেলা করেছেন বিলাইছড়ির
লকডাউন পরিস্থিতি। যেখানে অনেক সরকারি কর্মকর্তা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন
দিনের পর দিন। মৃত্যুর ভয়কে উপেক্ষা করে ছুটে গেছেন দিকবিদিক। বিলাইছড়ির
পাহাড়ি এলাকায় সব এক করে ফেলেছেন তার কর্মজজ্ঞ দিয়ে।

করোনাকালীন সময়ে সরকারের ত্রান ও আর্থিক সহায়তা নিয়ে তিনি সকলকে সমন্বিত করে দাড়িয়েছেন অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের পাশে। ছুটে গেছেন উপজেলার সকল ইউনিয়নের গ্রামে। মানবিক এই কর্মকর্তা উপজেলাবাসিকে দিয়েছেন শান্তি ও স্বস্তি।

সেখানেই ইউএনও পারভেজ চৌধুরীর সফলতার গল্প রচিত। তিনি সফলভাবে কাজ করে গেছেন মাঠ প্রশাসনে। সব সময় ছুটে গেছেন দুর্গম পাহাড়ি গ্রামে। অবিরাম গতিতে তাঁর উদ্যম উৎসাহে এগিয়ে গেছে উপজেলা প্রশাসন। সাধারণ জনসাধারণের কল্যাণে বিগত দুটি বছর তিনি পালন করে গেছেন সরকারী গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষার্থীকে স্কুলড্রেস প্রদান, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নতুন বই-খাতা দেওয়া, উপজেলা নান্দনিক শিশুপার্ক স্থাপন, শিল্পকলা ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার উন্নয়ন, যুব রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির কার্যক্রমে সহায়তা প্রদান, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, বাজার তদারকি ও নিজ উদ্যোগে প্রাকৃতিক দুর্যোগ আক্রান্ত মানুষকে সরকারী বেসরকারি বিভিন্ন অনুদান দেওয়া। বিলাইছড়ির জন্য তিনি যথাযথভাবে আদায় করে নিয়েছেন সব কাজ। তাই বিলাইছড়ি উপজেলার মানুষ খুব সহজে ভুলতে পারবেন না বিদায়ী ইউএনও পারভেজ চৌধুরীকে। উত্তরসূরীদের ন্যায় তার হাত ধরেও আলোকিত দুর্গম পার্বত্য উপজেলা বিলাইছড়ি।