॥ আল মামুন ॥

খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলার সিন্দুকছড়িতে ইউপি চেয়ারম্যান, ব্যাংক ব্যবস্থাপক, ইউনিয়ন সমাজকর্মী ও ইউপি সদস্য মিলে প্রতিবন্ধী, বয়স্ক, বিধবা ভাতার লক্ষাধিক টাকার আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, ১ সেপ্টেম্বর শনিবার সাপ্তাহিক বন্ধের দিনে খাগড়াছড়ির নবসৃষ্ট গুইমারা উপজেলার (সাবেক মহালছড়ি উপজেলার) সিন্দুকছড়ি ইউনিয়নের হতদরিদ্র ২১৩ জন বিধবা, ২৯১ জন বয়স্ক, এবং ৬৫ জন প্রতিবন্ধীসহ সর্বমোট ৫৬৯ জন ভাতাভোগীর মাঝে তিন মাসের (এপ্রিল, মে, ও জুন ২০১৮) সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অন্যায় ও দুর্নীতি মাধ্যমে আত্মসাতে অভিযোগ উঠেছে।

সিন্দুকছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান রেদাক মার্মা, সোনালী ব্যাংক মহালছড়ি শাখার ব্যবস্থাপক প্রিয় রঞ্জন চাকমা, ইউনিয়ন সমাজকর্মী আলোময় চাকমা, সিন্দুকছড়ি ইউপি সদস্যদের যোগসাজশে ভাতাভোগী ৫৬৯ জন থেকে দুইশত টাকা হারে প্রায় এক লাখ তেরো হাজার ৮০০ টাকা আত্মসাত করার অভিযোগ করেছে স্থানীয় ভাতাভোগী হতদরিদ্ররা।

বর্তমানে এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মাঝে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন সমাজকর্মী, ব্যাংক ব্যবস্থাপক, ইউপি সদস্য মিলে হতদরিদ্রদের আত্মসাতকৃত টাকা ফেরতসহ জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছে স্থানীয় এলাকাবাসী।

প্রতিবন্ধী ভাতাভোগী হাসান আলী জানান, গত এপ্রিল, মে, জুন মাসের ভাতা ৭০০ শো টাকা হারে দুই হাজার ১০০ টাকা আনতে গেলে সমাজকর্মী এবং ব্যাংক কর্মকর্তা তাকে এক হাজার ৯০০ টাকা দেয় । দুইশত টাকা কম কেন তা জানতে চাইলে তারা বলেন, একশত টাকা মেম্বারদের জন্য এবং বাকি টাকা বিতরনকারীদের খরচের জন্য। বেশি বাড়াবাড়ি করলে পরোবর্তী মাস থেকে তাদেরকে বয়স্ক, বিধবা প্রতিবন্ধী ভাতার তালিকা থেকে বাদ দেয়া হবে। বয়স্ক ভাতা প্রাপ্ত আবুল বশর এবং লাল মিঞাঁ ও একই কথা বলেন।

এ নিয়ে চলছে গুইমারা উপজেলা নানা জল্পনা কল্পনা। কেউ কেউ বলছে একটি সরকারিকরণ ছুটির দিনে সোনালী ব্যাংক ম্যানেজার এতো টাকা পেল কোথায় থেকে। আবার কেউবা বলছে চেয়ারম্যান হতদরিদ্রদের টাকা মেরে খাওয়ার জন্যই ব্যাংকের ম্যানেজারের সংগে বন্ধের দিন বেছে নিয়েছে।

এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান রেদাক মার্মা জানান, বিষয়টি আমি শুনেছি। এটি খুবই দু:খজনক ঘটনা। বিষয়টি আমি দেখছি।
এ বিষয়ে মহালছড়ি সোনালী ব্যাংক ম্যানাজার প্রিয় রঞ্জন চাকমার সঙ্গে কথা বলার জন্য বারবার ফোন দিলে ও তাদের মুঠোফোন বন্ধ রাখায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গুইমারা উপজেলা নির্বাহি অফিসারের দৃষ্টি আকর্ষন করলে তিনি বলেন, শনিবার এ ধরনের প্রোগ্রাম করার কথা নয় এবং ছুটির দিনে এত টাকা তারা পেলো কোথায়? বিষয়টি আমি যাচাই করে আপনাদের জানাবো।  এলাকার সচেতন মহল হতদরিদ্রদের টাকা আত্মসাতকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের দ্রুত ব্যাবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।