॥ মঈন উদ্দীন বাপ্পী ॥

পাহাড়, নদী আর সবুজ অরণ্যে মিলে মিশে একাকার নৈস্বর্গীক খ্যাত পাহাড়ি জেলা রাঙামাটির ইতিহাস এক বৈচিত্রময় রূপ ধারণ করেছে। এখানে যেমন বহু জাতি স্বত্তার বসবাসের কারণে এ এলাকা সারাদেশের তুলনায় ভিন্নতা পেয়েছে তেমনি এখানকার সংস্কৃতি এ অঞ্চলকে করেছে সমৃদ্ধশালী।

এ ইতিহাস পুরনো হলেও এ অঞ্চলকে চরম উতরাই পেরোতে হয়েছে নানা সময়ে। ১৯৬২ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কর্ণফুলী নদীতে বাঁধ দিয়ে কাপ্তাই হ্রদ তৈরি করলে রাঙামাটির ঐতিহ্যর পুরনো শহর পানির নিচে তলিয়ে যায়। ৬২ পরবর্তী সময়ে পাহাড় কেন্দ্রীক যে শহরটি গড়ে উঠেছে তাকে সকলে রাঙামাটি হিসেবে বেশ ভাল চিনে। তবে এলাকার বয়ো:জৈষ্টরা এ শহরকে নতুন রাঙামাটি শহর বলে থাকে।

কাপ্তাই হ্রদে রাঙামাটির পুরনো শহর ডুবে সকল ঐতিহ্য বিলীন হয়ে যাওয়ার পর আবারো নতুন করে সবকিছু গড়ে উঠতে থাকে। রাঙামাটি শহরের পুলিশ লাইন এলাকায় কাপ্তাই হ্রদ ঘেঁষে ৪৩শতক জায়গা জুড়ে গড়ে উঠেছে ‘আপার রাঙামাটি জামে মসজিদ’।

  • Facebook
  • Twitter
  • Print Friendly

বর্তমানে আপার রাঙামাটি জামে মসজিদটি জেলার মধ্যে সবচেয়ে পুরনো এবং প্রথম জামে মসজিদ। ৬২পরবর্তী পাকিস্তান আমলে নির্মিত একতলা বিশিষ্ট জামে মসজিদটিতে বর্তমানে ৫০০ মানুষ এক সাথে নামাজ আদায় করতে পারে।

কিন্তু পুরনো এ মসজিদটিতে এত বছরেও আধুনিকতার কোন ছোঁয়া লাগেনি। অনেক মসজিদ পরবর্তী সময়ে নির্মিত হওয়ার পর আধুনিকতার ছোঁয়া পেয়ে গেলেও জেলার বর্তমানে সবচেয়ে পুরনো এ মসজিদটি তেমন কোন সরকারি সুযোগ সুবিধা পায়নি। ফলে পুরনো স্থাপনা নিয়ে মসজিদের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

সরেজমিনে গেলে কথা হয় স্থানীয় মুসল্লীদের সাথে। তাদের অভিযোগ- জেলার মধ্যে প্রথম এবং পুরনো এ জামে মসজিদটি। জায়গা সংকুলান থাকায় মুসল্লীদের মসজিদের উঠানে নামাজ আদায় করতে হয়। মসজিদটি আধুনিক স্থাপনায় গড়ে না উঠায় মসজিদটির পরিধি বড় করা যাচ্ছে না। এছাড়া ওযু খানাটি সেই পুরনো আমলের। তাদের দাবি- মসজিদটি অতিস্বত্তর আধুনিক স্বয়ং স্বম্পন্ন মসজিদ হিসেবে গড়ে তোলা হোক।

মসজিদটির বর্তমান খতিব, মৌলবী মো. আবু তালহা জানান, ২০১২ সাল থেকে এ মসজিদে কর্মরত রয়েছি। বর্তমানে তিনজন হাফেজ দ্বারা তারাবির সালাত আদায় করা হচ্ছে। প্রথম ৬টি রোজায় দেড় পাড়া করে পড়া হলেও ৬রোজা পরবর্তী ১পাড়া করে পড়ে তারাবির সালাত আদায় করা হচ্ছে। ২৬ রোজায় দিনগত রাতে কোনআনে খতম বা তারাবির খতম শেষ করা হবে।

তিনি বলেন- কষ্ট হলেও এ মসজিদে ৫০০ লোক একসাথে সালাত আদায় করতে পারে। মসজিদের পরিধি না থাকায় মসজিদের উঠানে মুসল্লীদের সালাত আদায় করতে হয়।

মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দীন বাবুল জানান, আমাদের মুসল্লীদের আর কষ্ট করতে হবে না। বর্তমান সরকার ঘোষিত যে ৫৬০টি মডেল মসজিদ তৈরির ঘোষণা প্রদান করেছে তার মধ্যে আমাদের মসজিদটি মডেল মসজিদে পরিণত হবে। এটা শুধু মসজিদ নয় একটি কমপ্লেক্স। চারতলা বিশিষ্ট এ কমপ্লেক্সে মসজিদ, ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, হাজীদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ইসলামী ফাউন্ডেশনের কার্যালয়, বিদেশী ডেলিগেটদের থাকার ব্যবস্থা, ১০০জন নারী এক সাথে সালাত আদায় করার সুব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ কমপ্লেক্সে লিফট ব্যবস্থা থাকবে। ১৮ কোটি টাকা ব্যায়ে কমপ্লেক্সেটি নির্মাণ করা হবে।

তিনি আক্ষেপের সাথে বলেন, গণপূর্ত বিভাগ রাঙামাটি শাখার সাবেক উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (সিভিল) জহির রায়হানের গাফিলতির কারণে আমাদের কমপ্লেক্সেটি প্রথম ধাপের প্রাক্কালনে নির্মাণ করাতে পারিনি। বর্তমানে পুন:রায় টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। খুব শীঘ্রই কমপ্লেক্সটির কাজ শুরু করা হবে বলে জানান তিনি।