॥ মঈন উদ্দীন বাপ্পী ॥

দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্বোধনের অপেক্ষায় রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলায় নির্মিত ‘চেঙ্গী সেতু’। এ সেতুটি উদ্বোধনের পরপরই পাহাড়ি জেলা রাঙামাটির তিন উপজেলার বাসিন্দাদের ভাগ্য বদলে দিবে।

সরকার ঘোষিত ২৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায়। কয়েকমাসের মধ্যে উদ্বোধনের মধ্যে দিয়ে সেতুটি দিয়ে যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। আর সেতুটি উদ্বোধন করা হলে স্থানীয়দের দীর্ঘ বছরের কাঙ্খিত স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে।

সেতুটি দিয়ে যান চলাচল শুরু করা হলে জেলার তিন উপজেলা নানিয়ারচর, লংগদু এবং বাঘাইছড়ি উপজেলার সাথে সংযোগ স্থাপন হবে খুব দ্রুত। ফলে অত্র এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের অর্থনৈতিক ভাগ্যর চাকা ঘুরে যাবে বলে স্থানীয়দের অভিমত।

গত ২০১৭ সালে নানিয়ারচর উপজেলায় রাজনৈতিক এক সফরে এসে কেন্দ্রীয় আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক, সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের স্থানীয়দের দাবির ভিত্তিতে চেঙ্গী নদীর উপর একটি সেতু নির্মাণ করে দিবেন বলে কথা দিয়েছিলেন। এরই ভিত্তিতে সরকার ২০১৮ সালের শুরুতে চেঙ্গী নদীতে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করে।

সেতুটি নির্মাণ কাজ করছেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মণিকো এন্ড কোম্পানী লিমিটেড। এতে সার্বিক সহযোগিতা ও তত্বাবধানে দায়িত্বে রয়েছেন, চট্টগ্রাম ২৪ (ইসিবি) ইঞ্জিনিয়ারিং সেকশন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

ঠিকাধারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানান, ব্রীজটি ৪৮৭ মিটার দীর্ঘ। এতে ব্যয় করা হয়েছে প্রায় আড়াইশ কোটি টাকা। তবে সেতুটি পুর্ণাঙ্গ কাজ শেষ করতে এর ব্যায় আরও বাড়তে পারে। তবে যান চলাচলের জন্য উপযোগী করে আগামী ২-১ মাসের মধ্যে উদ্ধোধন হতে পারে সূত্রটি নিশ্চিত করেন।

আর সেতুটি উদ্বোধনের পর কিছু সড়কের উন্নয়ন কাজে হাত দেওয়া হবে।, তৈরি করা কালভার্ট, প্রশস্ত করা হবে সড়কের পরিধি এমন তথ্য জানালেন প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্টরা।
নানিয়ারচর উপজেলার স্থানীয় বাসিন্দা হোসেন আলী বলেন, আমরা অনেক বেশি খুশি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। প্রধানমন্ত্রী আমাদের দাবি পুরণ করে দিয়েছেন।

নানিয়ারচর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আবদুল ওহাব বলেন, ব্রীজটি নির্মাণ বর্তমান সরকারের জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ ছিল। সরকার সেই চ্যালেঞ্জ পূরণ করেছে। আর কঠিন কাজটি একমাত্র সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিকতার কারণে।

আ’লীগের এ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে আরও বলেন, স্থানীয়রা অনেক খুশি। তাদের দীর্ঘ বছরের দাবি সরকার পূরণ করে দিয়েছে। সেতুটি নির্মাণের কারণে খেটে খাওয়া মানুষ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী সমাজ সকলে লাভবান হবে। এ অঞ্চলটি একটি সমৃদ্ধিশালী অর্থনৈতক অঞ্চলে পরিণত হবে।

আ’লীগ নেতা ওয়াহাব জানান, নানিয়ারচর উপজেলা ছিলো দূর্গম এবং অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা। এই দুর্গমতাকে কাজে লাগিয়ে পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা খুন, ঘুম, চাঁদাবাজিসহ সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করতো। সেতুটি নির্মিত হওয়ায় অনেকাংশে সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধ হবে বলে তিনি মতামত ব্যক্ত করেন।

নানিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিউলী রহমান তিন্নী বলেন, নানিয়ারচর উপজেলাটি এতদিন দূর্গম ছিলো। বর্তমানে এই উপজেলায় সেতুটি নির্মিত হওয়ায় এ অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থার যেমন উন্নতি হবে তেমনি ব্যবসায়ী সমাজ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ সকলে লাভবান হবে। এটি সরকারের আন্তরিকতার ফসল বলে অভিমত ব্যক্ত করেন ইউএনও।

রাঙামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফারহিন রুখসানা বলেন, ভাল কাজকে স্বাগত জানাতে হবে। ‘চেঙ্গী সেতু’ নির্মিত হওয়ায় এলাকাবাসীর ব্যাপক উন্নতি হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে এ প্রকৌশলী আরও বলেন, আমি এ কার্যালয়ে নতুন এসেছি। তাই তেমন কোন তথ্য জানা নেই। কারণ সেতুটি তৈরিতে সার্বিক তত্বাবধানে রয়েছেন সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং সেকশন।