॥ মঈন উদ্দীন বাপ্পী ॥

রাঙামাটি সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ এবং প্রবীণ শিক্ষক প্রফেসর বিধান চন্দ্র  বড়ুয়াকে  বিদায়ী সংবর্ধনা প্রদান করেছে ‘স্বজন সন্মিলন পরিষদ’ নামের একটি সংগঠন। শনিবার (২০অক্টোবর) সন্ধ্যায় জেলা শহরের একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন রেস্টুরেন্টে এ সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

সংবর্ধনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন- বিদায়ী প্রফেসর বিধান চন্দ্র বড়ুয়া ।

এসময় রাঙামাটি সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক (ইংরেজী বিভাগ) অনির্বাণ বড়ুয়া, সহকারী অধ্যাপক (বাংলা) মো. মহিউদ্দীন মাহি, প্রভাষক জ্যোতিলাক্ষ চাকমা। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন- স্বজন সন্মিলন পরিষদের কর্তৃপক্ষ এবং প্রফেসর বিধানের সাবেক শিক্ষার্থীরা।

বিদায়ী টেবিল সভায় জেলার জনপ্রিয়, সর্বজন নন্দিত প্রফেসর বিধান বক্তব্যের প্রারম্ভে শুনালেন ত্রিশ দশক আগে ফেলে আসা নানান স্মৃতি, অপূরণীয় স্বপ্ন যাত্রা যত কথামাল্য। যৌবন থেকে প্রৌঢ় জীবনের দিনগুলো কাটিয়ে দিলেন মায়াবী কলেজটি ঘিরে। এ যেন প্রিয়ার টানে প্রেমিকের ছুটে আসা এক জীবনটা কাটিয়ে দিবে বলে।

মধ্যখানে পেশায় পদ্দোনতি পেয়ে মায়াবী এ কলেজটি ছেড়ে চলে গেলেও প্রেমের টানে ফিরে এসেছেন উপাধ্যক্ষ হয়ে। তাই তো জীবনের শেষ পথচলাটা এখানে দাড়ি দিলেন। উচ্ছ্বসিত কন্ঠে শুনালেন তার ত্রিশ দশক ধরে চলা প্রেমের রোমান্টিক কাহিনী, শুনিয়েছেন ব্যর্থতার যত গান, অপূরণীয় গীত।

ত্রিশ দশক আগে মায়াবী, রহস্য ঘেরা হ্যামিলনের সুরলা বাশিঁ বাজিয়ে যৌবনদীপ্ত নিয়ে আসা প্রফেসর বিধান বিদায়ী টেবিলে কথামালায় ফিরে যাচ্ছেন প্রেীঢ় রূপে। কেঁদেছেন, কাদিয়েছেন; বিদায়ী সুরলা বাঁশিতে। আর ফিরবেন না ত্রিশ দশকের ভালবাসার ক্যাম্পাসে।

এসময় স্বজনের নেতৃবৃন্দ এবং প্রফেসর বিধানের সাবেক শিক্ষার্থীরাও বক্তব্যে স্মৃতিচারণ করলেন এ শিক্ষকের সাথে কাটিয়ে আসা নানা স্মৃতি নিয়ে। বিদায় জানালেন পরম শ্রদ্ধা ও ভালবাসা দিয়ে।

বিদায়ী টেবিলের সভা শেষে মোমের আলোয় ভোজন বিলাসে নিমিত্ত হন প্রফেসর বিধানসহ তার সাথে আগত অতিথি এবং স্বজন সন্মিলন পরিষদের কর্তৃপক্ষ ও তার সাবেক শিক্ষার্থীরা। আড্ডায় আড্ডায় রোমন্থান করা হয় শৈশব-যৌবন অবশেষে প্রৌঢ় জীবনের শেষ প্রয়াণ।