॥ মঈন উদ্দীন বাপ্পী ॥

রাঙামাটি শহরে যৌথ বাহিনী অভিযান চালিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি সন্তু গ্রুপ’র (পিসিজেএসএস) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুঅতিশ চাকমা ওরফে তন্টু মণি চাকমাকে গ্রেফতার করেছে।

শুক্রবার (১১মে) রাতে জেএসএস’র কেন্দ্রীয় কমিটির সহ তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজিব চাকমা স্বাক্ষতির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে গ্রেফতারের কারণ সম্পের্কে উল্লেখ করে বলা হয়- বৃহস্পতিবার দিনগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে রাঙামাটি শহরের কল্যাণপুর এলাকার নিজ বাসা থেকে তন্টু মণিকে গ্রেফতার করে যৌথ বাহিনী। তার বিরুদ্ধে কোন মামলা ও ওয়ারেন্ট ছিলো না বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

পিসিজেএসএস’র কেন্দ্রীয় কমিটির সহ তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজিব চাকমা জানান, বৃহস্পতিবার যৌথ বাহিনী গভীর রাতে আমাদের নেতা তন্টু মনিকে ঘুম থেকে তুলে নিয়ে যায়। তার বিরুদ্ধে কোন মামলা বা ওয়ারেন্ট নেই।

এ ঘটনার জন্য পিসিজেএসএস’র পক্ষ থেকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ, অভিলম্বে এ নেতার মুক্তি দাবি এবং এই গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা জানানো হয় বলে পিসিজেএসএস’র এ নেতা জানান।

এদিকে রাঙামাটি শহর থেকে কিরণ জ্যোতি চাকমা (৫৫) নামের একজনকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১০মে) দুপুরে জেলা শহরের টিএন্ডটি এলাক থেকে তাকে আটক করা হয় বলে পুলিশ শিকার করেছে।

এ বিষয়ে রাঙামাটি কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সত্যজিৎ বড়ুয়া জানান, আটককৃত উভয়ে নানিয়ারচর ৬হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত। পুলিশ তাদের আটক করে আদালতে সোপর্দ করে।

রাঙামাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালত’র আদালত সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) মিঠু কুমার দাশ জানান, ৬হত্যাকান্ডের অভিযুক্তদের পুলিশ শুক্রবার (১১মে) বিকেলে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাহেদ আহমদ’র আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে। আদালত শুনানি শেষে চলতি মাসের ১৩মে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করে অভিযুক্তদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করে।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (৩মে) সকালে নিজ কার্যালয়ে যাওয়ার সময় দুবৃর্ত্তের গুলিতে শক্তিমান চাকমা নিহত হন। এসময় তার সাথে থাকা রুপম চাকমাও গুলিবিদ্ধ হয়। অপরদিকে, শুক্রবার (৪মে) দুপুরে শক্তিমান চাকমার অন্ত্যোষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানে যোগদান করে ফেরার পথে ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক প্রধান তপন জ্যোতি চাকমা বর্মার গাড়ি বহরে একদল দুর্বৃত্ত নানিয়ারচর উপজেলার বেতছড়ি এলাকায় ব্রাশ ফায়ার করে হামলা চালালে ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক প্রধান বর্মা এবং তার সাথে থাকা তার দলের তিন নেতা এবং গাড়ীর ড্রাইভার নিহত হন। এসময় ঘটনাস্থলে আরও ৯জন গুলিবিদ্ধ হয়।