মঈন উদ্দীন বাপ্পী, হিলরিপোর্ট

রাঙামাটি: পাহাড়ি জেলা রাঙামাটি এক সময় দুর্গম হওয়ার কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিলো অত্যন্ত নাজুক। এ অঞ্চলে উন্নয়ন করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ছিলো। দুর্গমতার সুযোগ নিয়ে এ এলাকায় বেড়ে গেছে পাহাড়ি সন্ত্রাস। সন্ত্রাস দমনে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকেও চরম বেগ পেতে হয়। তাই স্থানীয় মানুষের চাহিদা ছিলো- এ অঞ্চলে যদি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নতি করা যায় তাহলে উন্নয়নের গতি কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান আ’লীগ সরকারের আমলে গত ১০বছরে রাঙামাটির যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। প্রত্যন্ত এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করতে সেতু,কালভার্ট এবং সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। এ সরকারের আমলে সড়ক উন্নয়নে যে কাজ হয়েছিলো তা অতীতের কোন সরকারের আমলে হয়নি।

চেঙ্গী সেতু:

রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলায় ২৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে চেঙ্গী নদীর উপর (কাপ্তাই হ্রদ) ৪৮৭ মিটার দীর্ঘ ‘চেঙ্গী সেতু’ নির্মাণ করা হয়েছে। সেতুটি দিয়ে নানিয়ারচর-লংগদু এবং বাঘাইছড়ি উপজেলা অথাৎ তিনটি উপজেলা যুক্ত হয়েছে। সেতুটি নির্মাণের ফলে তিনটি উপজেলার প্রায় কয়েক লাখ মানুষ খুব সহজে জেলা সদরের সাথে কম সময়ে যোগাযোগ করতে পারবে। এতে সময় বাঁচবে অনেক, যোগাযোগ হবে খুব দ্রুত। ব্যবসা-বাণিজ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন সাধিত হবে।

আসামবস্তী-ব্রাক্ষণটিলা সংযোগ সেতু:

স্থানীয় মানুষের দাবির ভিত্তিতে বর্তমান সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে ৩০কোটি টাকা ব্যয়ে রাঙামাটি শহরের আসামবস্তী-ব্রাক্ষণটিলা সংযোগ সেতুটি নির্মাণ করে দেয়। বর্তমানে সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন কয়েকহাজার মানুষ খুব সহজে চলাচল করছে। সেতু নির্মাণের আগে মানুষকে আগে নৌকাযোগে অত্যন্ত কষ্ট করে যোগাযোগ করতে হতো।

ঝুলইক্যা পাহাড়-পুরানবস্তী- রিজার্ববাজার সংযোগ সেতু:

জেলা শহরের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করে দিতে বর্তমান আ’লীগ সরকার দ্বীপ এলাকা ঝুইক্যা পাহাড় এবং পুরানবস্তী এলাকায় দু’টি সেতু নির্মাণ করে দিয়েছে। বর্তমানে সেতু দু’টির কাজ প্রায় শেষের পথে। সেতুর কাজ শেষ হলে দু’এলাকার কয়েকহাজার মানুষ এর সুফল ভোগ করবে। যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হয়ে যাবে। কাজটি বাস্তবায়ন করছে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড।

আসামবস্তী-কাপ্তাই সংযোগ সড়ক:

রাঙমাটি শহরের আসামবস্তী-কাপ্তাই উপজেলার সাথে সড়ক যোগাযোগ আরো সহজ করতে বর্তমান সরকার এলজিইডি’র অধীনে কোটি টাকা ব্যয়ে ১৮কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করে দিচ্ছে। সড়কটি কাজ শেষ হবে ২০২১ সালের শেষে দিকে। সড়কের কাজ শেষ হলে রাঙামাটি-কাপ্তাই উপজেলার কয়েকলাখ মানুষ দ্রুত সময়ের মধ্যে যোগাযোগ করতে পারবে।

মাইনীমুখ-গাঁথাছড়া সংযোগ সেতু:

রাঙামাটির লংগদু উপজেলার মাইনীমুখ ইউনিয়নের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবির মুখে বর্তমান আ’লীগ সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে ২০কোটি টাকা ব্যয়ে ৩৪৪মিটার দীর্ঘ এবং ৭দশমিক ৫০মিটার প্রশস্তের কাচালং নদীর উপর সেতু নির্মাণ করে দেয়। সেতুটি নির্মাণ হওয়ায় মাইনীমুখ-গাঁথাছড়া এলাকার প্রায় ১২হাজার মানুষ সেতুটির সুবিধা ভোগ করবে।

শুধু তাই নয়- দুর্গম বাঘাইছড়ি উপজেলার পর্যটন নগরী সাজেক সড়ক, সিজকমুখ-উদয়পুর সীমান্ত সড়ক, ঠেগামুখ স্থল বন্দর সড়কের কাজ চলমান রয়েছে বর্তমান সরকারের আমলে।

মহিলা সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও রাঙামাটি জেলা মহিলা আ’লীগের সভানেত্রী ফিরোজা বেগম চিনু বাংলানিউজকে বলেন, আ’লীগ সরকার জনগণের সরকার। জনগণের উন্নয়নে শেখ হাসিনা সরকার দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ। তাই সমতল থেকে পাহাড় সব স্থানে উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে এ সরকারের আমলে।

খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও রাঙামাটি জেলা আ’লীগের সভাপতি দীপংকর তালুকদার এমপি বাংলানিউজকে জানান, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আ’লীগ সরকার বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলায় পরিণত করছে। আ’লীগ সরকারের আমলে রাঙামাটিতে শিক্ষা, যোগাযোগ, স্বাস্থ্য প্রভৃতখাতে যে উন্নয়ন হয়েছে তা অতীতে কোন সরকার করতে পারেনি।