॥ বরকল প্রতিনিধি ॥

রাঙামাটির বরকল উপজেলায় হেপাটাইসি বি রোগের প্রকৌপ দেখা দিয়েছে। সর্বশেষ পর্যন্ত এ রোগে ১২জন আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। হঠাৎ করে রোগটি বেরে যাওয়ায় উপজেলার দূর্গম রেগেনাছড়ি গ্রামের মানুষ আতংকে দিন কাটাচ্ছে। আক্রান্তদের মধ্যে অনেকে স্থানীয় কবিরাজের ওষুধ খেয়ে ভাল হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। যাদের অর্থনৈতিক সামর্থ আছে তারা উপজেলার বাইরে গিয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করছে।

রেগেনাছড়ি গ্রামের বসিন্দা হেপাটাইটিস বি ভাইরাস রোগে আক্রান্ত ছায়া রানী চাকমা (৪৩) জানান, এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে রাতে খাওয়া-দাওয়া শেষে বিছানায় শোবার পর শরীরে তিব্র শীত অনুভব হয় এবং শরীরে কাপুঁনী দিতে থাকে। বমি বমি ভাব হয় কিন্তু বমি হয় না। শরীরে প্রচন্ড জ্বর ও তীব্র যন্ত্রণা শুরু হয়। যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে গ্রামের এক কবিরাজের শরণাপন্ন হয় তাতে ভাল না হওয়ায় জেলা সদরে গিয়ে ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়। ডাক্তার তাকে জানায় তিনি হেপাটাইটিস বি রোগে আক্রান্ত।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত তারা ১২জন হেপাটাইটিস বি রোগে আক্রান্ত রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে।
আক্রান্তরা হলেন- রেগেনাছড়ি গ্রামের বিজু মনি চাকমা (৩৮), সুভাষ মিত্র চাকমা (৩৫), মিকো চাকমা (৩৫), কালোবরণ চাকমা (২৫), উজ্জল কান্তি চাকমা (৪২), বুদ্ধ কুমার চাকমা (৩৫), বণিতা চাকমা (১৯), জুয়েল চাকমা (১৭), রুপাধন চাকমা (৩৬), কীর্তিমান চাকমা (১৯) এবং সুনীল চাকমা (৩২)।

ওই গ্রামের অনেকে এ রোগে আক্রান্ত হওয়া শর্তেও লোক লজ্জার ভয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে না বলে সূত্রটি নিশ্চিত করেছেন।
ওই গ্রামের বয়ো:জৈষ্ঠ মুরব্বী রতন চাকমা জানান- গত বছর তার ছোট ভাই রিপন চাকমার মধ্যে প্রথম হেপাটাইটিস বি ভাইরাস জনিত রোগটি পরীক্ষায় ধরা পড়ে। এ রোগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরনাপন্ন হয়ে চিকিৎসা করার পরেও তার ভাইকে বাঁচানো যায়নি।

এর পর তার পরিবারের বাকী সদস্যদের জেলা সদরের ডায়াগোনোসিস সেন্টারে নিয়ে পরীক্ষা করার পর তার আরেক ছোট ভাই সুভাষ মিত্র চাকমা মেয়ে বণিতা চাকমা ও ছেলে জুয়েল চাকমার হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের পজিটিভি পাওয়া যায়। এতে তিনি এবং ও তার পরিবারের মধ্যে পরিবারের আতঙ্ক সৃষ্ঠি হয়।

বর্তমানে আক্রান্ত নিজের ছেলে এবং ভাইয়ের মেয়েকে চিকিৎসা করাতে গিয়ে আর্থিক ভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, সামান্য জুম চাষ করে যা পায় তা দিয়ে রোগীদের চিকিৎসার খরচে চলে যাই। তাদের উন্নত মানের চিকিৎসা করাতে না পেরে তিনি বেশ উদ্বিগ্ন বলে জানান।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ মংক্যছিং সাগর জানান, হেপাটাইটিস বি ভাইরাস জনিত রোগটি হওয়ার আগে টিকা দিতে হবে। রোগটি হওয়ার পরে টিকা দিলে কোন লাভ হবে না। যারা আক্রান্ত হয়েছে তাদের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরার্মশ নিয়ে চিকিৎসা নিতে হবে।

ডা: সাগর আরও জানান, এ রোগটি পজিটিভ হলেও আতঙ্কের কিছু নেই। দীর্ঘ চিকিৎসায় এ রোগ নির্মুল করা যায়। তবে তার জন্য সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে ও পরার্মশ মেনে চলতে হবে বলে যোগ করেন ডা: সাগর।

সিভিল সার্জন ডা: শহীদ তালুকদার জানান- হেপাটাইটিস বি ভাইরাস জনিত রোগে আক্রান্ত হলে আতঙ্কিত হবার কিছু নেই। গর্ভবতী মায়েদের নিয়মিত টিকা দেয়া, সচেতনতা ও পরার্মশ মেনে চললে সমস্যা হয় না।

তিনি আরও জানান, ওই গ্রামে একটি মেডিকেল টিম সার্ভে করার জন্য পাঠানো হবে। পরবর্তীতে যা করার প্রয়োজন তা করা হবে বলে সিভিল সার্জন যোগ করেন।