॥ স্টাফ রিপোর্টার ॥

বর্তমান শাসক গোষ্ঠীর শাসন ব্যবস্থা যথাযথ নয় দাবি করে পার্বত্য জনসংহতি সমিতি (জেএসএস)’র সভাপতি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় ওরফে সন্তু লারমা বলেছেন, পার্বত্য অঞ্চলে যে শাসন ব্যবস্থা, বাংলাদেশ সরকার যততই দাবি করুক না কেন তার শাসন ব্যবস্থা অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল। বাস্তবে পার্বত্য অঞ্চলের দিকে তাকায় তাহলে বর্তমান শাসক গোষ্ঠীর শাসন ব্যবস্থা যথাযথ নয়। নিঃসন্দেহে বলতে পারি।

সাবেক সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির প্রতিষ্ঠাতা মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার  ( এমএন লামা) ৭৯তম জন্মদিন উপলক্ষে শনিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাঙামাটি জেলা শিল্পকলা একাডেমীতে এমএন লারমার মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের উদ্যেগে এ আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অথিতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, আজকে যদি আমরা পার্বত্য চট্টগ্রামের দিকে তাকায়, তাহলে চারেদিকে হতাশা আর হতাশা, হাহাকার আর হাহাকার। প্রতিদিন পাহাড়ীরা জমি-জমা হারাচ্ছে। প্রতিদিন আমরা লাঞ্চিত, নির্যাতিত হচ্ছি। প্রতিদিন মা বোনেরা অপমানিত হচ্ছে লাঞ্চিত ও বঞ্চিত হচ্ছে। আজকে পার্বত্য অঞ্চলের বুকে যে শোষণ নিপীড়ন, যে সীমাহীন দুরগতি, পাহাড়ে জুম্মো জনগণ অনিশ্চিত জীবন কাটাচ্ছে। কখন কি হয় বলা যায় না। বর্তমানে পাহাড়ে ধুরুধুরু মন নিয়ে চলাফেরা করতে হয়। আজকে পার্বত্য চট্টগ্রামে সবখানে এ বাস্তবতা বিরাজ করছে।

বর্তমান সরকারের প্রেক্ষাপট তুলে তরে জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় ওরফে সন্তু লারমা বলেন, বাংলাদেশ সরকার বর্তমান শাসকগোষ্ঠী যে আচারণ করছে আমাদের সাথে তথা পাহাড়ীদের সাথে। সেই আচারণ কতটুকু আমাদের কাছে গ্রহনযোগ্য সেই সম্পর্কে সবার জানা প্রয়োজন।

বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর আচারণে পাহাড়ের জনগন ও জুম্মো জাতি তাদের অস্থিত হারিয়ে ফেলছে। শাসকগোষ্ঠী আচারণে রয়েছে ধমন-পীড়ন, নির্যাতন-নিপীড়ন, শোষণ-বঞ্চনা। তাদের আচারণে আছে জুম্মো জাতির অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ, নিরাপত্তাহীন জীবন। এটাই বর্তমান পাহাড়ের বাস্তব চিত্র।

এই জিনিসগুলো আমরা পাহাড়ী এখন হারে হারে উপলদ্ধি করি। কিন্তু প্রশ্ন হলো আমাদের জুম্মো জাতির তরুণ সমাজ এই আচারণগুলোকে কিভাবে নিচ্ছে, কি ভাবছে? সেটাই আমি মনে করি, মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার ( এমএন লামা) ৭৯তম জন্মদিনে জরুরী বিষয়। আমাদের সবাইকে মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার জীবন আদর্শ নিয়ে আমাদের সবাইকে ও তরুণ প্রজন্মকে ভাবতে হবে।

অন্যদিকে বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ীরা অস্থিত্বের সংকটে রয়েছে উল্লেখ করে, চাকমা চীফ সার্কেল রাজা দেবাশীষ রায় বলেছেন, পাহড়ীদের অস্থিত্ব বিলীনের লক্ষে পার্বত্য অঞ্চলে যে রাজনৈতিক তৎপরতা, ষড়যন্ত্র, যে পাতানো খেলা চলছে, সেই অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতে হলে, আমাদের সকলের তথা পাহাড়ীদের একতার, সাহসের প্রয়োজন। অন্যদিকে সব চেয়ে বেশি প্রয়োজন কৌশলের। আমরা সংগ্রাম করবো ঠিক আছে কিন্তু সেটা হতে হবে টিকে থাকার সংগ্রাম। মরে যাওয়ার জন্য না। তবে হ্যা দাবি আয়ের জন্য প্রয়োজনে শহীদ হবো কিন্তু কৌশলী হয়ে আমাদের লগাই সংগ্রাম করতে হবে।

আলোচনা সভা তিনি আরো বলেন, লড়াই সংগ্রামের মাধ্যমে আমরা যাতে আমাদের কৃষ্টি, সামাজিকতা, জাতি সত্ত্বকে জীবন দিয়ে হলেও টিকিয়ে রাখতে পারি। পাহাড়িরা যাতে তাদের নিজস্ব ধেন-ধারণা নিয়ে বেঁচে থাকতে পারে। তিনি বলেন, ঐক্যের মাধ্যমে আমরা যাতে সবাই এগিয়ে যেতে পারি। পার্বত্য অঞ্চলে সম্মানের সাথে, মর্যদার সাথে টিকে থাকতে পারি। মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার ( এমএন লামা) যে পথনির্দেশনা ছিল, সেই পথ ধরে যাতে আমরা এগিয়ে যেতে পারি।

সর্বশেষ তিনি তার আদর্শকে সামনে রেখে জুম্ম জনগনকে তাদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। বক্তারা আরো বলেন, আওয়ামীলীগ সরকার শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন না করে চুক্তি বিরোধী কার্যক্রম চালাচ্ছে, বক্তারা অবিলম্বে শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের দাবি জানান।

এমএন লারমার মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের সভাপতি বিজয় কেতন চাকমার সভাপতিত্বে সভায় চাকমা সার্কেল চীফ ব্যারিষ্টার দেবাশীষ রায়, পার্বত্য জনসংহতি সমিতির রাজনীতি বিষয়ক সম্পাদক সত্যবীর দেওয়ান, পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের সভাপতি গৌতম দেওয়ান, লেখক ও সাহিত্যিক প্রমোদ কার্বারিসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। আলোচনা সভা শেষে, পাহাড়ীদের মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।