॥ মঈন উদ্দীন বাপ্পী ॥

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড (পাচউবো) পাহাড়ের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠির আর্থিক অবস্থার উন্নতির লক্ষ্যে বাঁশ ভিত্তিক প্রকল্প কুটির শিল্প গড়ে তোলার সিন্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

পাচউবো মনে করে, পাহাড়ে বাঁশ চাষ সহজ লভ্য, খরচ কম লাগে এবং পাহাড় বাঁশ চাষের উপযোগী। তাই বাঁশ চাষকে কেন্দ্র করে যদি এ অঞ্চলে কুটির শিল্প গড়ে তোলা যায় তাহলে একদিকে যেমন পাহাড়ের পিছিয়ে পড়া মানুষের আর্থিক উন্নতি ঘটবে তেমনি বাঁশ শিল্পের মাধ্যমে এ অঞ্চলের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি তুলে ধরা যাবে দেশের মানুষের কাছে।

এ শিল্পের প্রসারের মাধ্যমে এ অঞ্চল আলাদা সমৃদ্ধি লাভ করবে বলে পাচউবো বিশ্বাস করে। এরই ধারাবাকিতায় পাচউবো বাঁশ শিল্পকে কেন্দ্র করে নানা উদ্কুটিরযোগ হাতে নিয়েছে।

পাচউবো’র অফিস সূত্রে জানানো হয়- উন্নত জাতের বাঁশ উৎপাদন প্রকল্পের আওতায় সম্প্রতি ৪২২০ জন প্রার্šিÍক বাঁশ চাষীকে নির্বাচিত করা হয়েছে। ২০২১ সালের মধ্যে বাশঁ চাষীদের মধ্যে ১৩ হাজার বাঁশ বাগান শিজন করা হবে এবং ২৬০টি বাঁশ ভিত্তিক কুটির শিল্প স্থাপনে সহায়তা করা হবে। এই লক্ষে পাচউবো ২৩ কোটি ৭৮ লক্ষ টাকা ব্যায়ে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বলে জানানো হয়।

এদিকে শনিবার (৭জুলাই) সকালে পাচউবো এ প্রকল্পের আওতায় উপকারভোগী রাঙামাটি সদর উপজেলার ৭৮ জন বাঁশ চাষীর মাঝে বিনামূল্যে প্রতিজনকে ২১৫টি করে ৬প্রজাতির বাঁশের চারা বিতরন করা হয়।

অনুষ্ঠানের পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড চেয়ারম্যান নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই চারা বিতরণ করেন। অনুষ্ঠানে পার্বত্য চট্টগ্রামের ভাইস চেয়ারম্যান তরুন কান্তি ঘোষ, বাঁশ চাষ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক শাহিনুর ইসলাম, উন্নয়ন বোর্ড সদস্য ডঃ প্রকাশ কান্তি চৌধরী, সাপছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মিনাল কান্তি চাকমা বক্তব্য রাখেন ।

এ ব্যাপারে বাঁশের চেয়ারম্যান নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড পাহাড়ে সম্ভামনাময় কৃষি সেক্টরে বিভিন্ন আয়বর্ধক মুলক প্রকল্প গ্রহনের মাধ্যমে অনগ্রসর দরিদ্র ও প্রার্ন্তিক লোকজনদের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। অদূর ভবিষ্যতে পাহাড়ের সম্ভাবনময় বিভিন্ন সেক্টরে আয়বর্ধনমূলক নানাবিদ প্রকল্প গ্রহণ করবে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ।