স্টাফ রিপোর্টার । হিলরিপোর্ট

বাঘাইছড়ি: রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের হাতে প্রকাশ্যে নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন উপজেলার কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ ফরহাদ মিঞা (৪০)। শনিবার (১১এপ্রিল) দুপুরে উপজেলারএফব্লক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মাদ্রাসা শিক্ষক মোহাম্মদ আলী বলেন, উপজেলার এফব্লক এলাকায় বদিউল আলম ও সেকান্দার আলী দুই প্রতিবেশির মধ্যে টিউওয়েলের পানি নেওয়াকে কেন্দ্র করে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পরে।

বদিউল আলম এর স্ত্রী এ ঘটনায় প্রতিবেশি সেকান্দর আলীর বিরুদ্ধে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করলে বাঘাইছড়ি থানার ওসি এমএ মনজুর বিষয়টি তদারকি করার জন্য এএস আই ইউনুছকে ঘটনাস্থলে যাওয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করে।

এরপর এসআই ইউনুছ ঘটনাস্থলে এসে সেকান্দরকে তার বাড়িতে খুঁজে না পেয়ে সেকান্দরের স্ত্রী পারভীন আক্তারকে (৩৫) তার বাড়ি থেকে টেনে হেঁচড়ে পুলিশের গাড়িতে তোলার চেষ্টা চালায়। এমন সময় ওই নারীর আত্মচিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে আসে।

গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) পিসি মো. শরিফ স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. পারভেজ আলীকে মুঠোফোনে বিষয়টি জানালে এ এসআই ইউনুছের সাথে কথা বলতে চায় কাউন্সিলর পারভেজ। কিন্তু এএসআই স্থানীয় কাউন্সিলরের কথা বলতে অপরাগতা প্রকাশ করে এবং পিসির মুঠোফোনটি ভেঙ্গে ফেলে।

এএসআই ঘটনাস্থলে কাউন্সিলরের নাম ধরে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কাউন্সিলরের বড় ভাই উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফরহাদ মিঞা এএসআই ইউনুছকে তার ভাইকে গালাগালের কারণ জানতে চাইলে এএসআই কৃষি কর্মকর্তাকে বেধড়ক পিটুনী দেয়। ঘটনাস্থলে কৃষি কর্মকর্তার বাবা দৌঁড়ে এসে পুলিশের হাত থেকে তার ছেলেকে ছাড়িয়ে নেয়। এরপর ওই নারীকে আটক করে পুলিশের গাড়ি করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার বাবা ফরিদ মিয়া জানান, আমি হতবাক। পুলিশ বিনা কারণে আমার ছেলের গায়ে হাত তুলেছে। আমি এএসআই এর বিরুদ্ধে পুলিশ সুপার বরাবরে অভিযোগ দায়ের করবো।

থানায় আটক পারভীন আক্তারের স্বামী সেকান্দর বলেন, করোনা ভাইরাস সচেতনায় আমি স্থানীয়দের বলেছি সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে পানি নেওয়ার জন্য। কিন্তু তারা তা মানায় আমি আমার নলকূপের মুখ খুলে রাখি। কিন্তু এ বিষয়টি নিয়ে এত বড় ঘটনা ঘটবে আমি চিন্তা করতে পারিনি।

তিনি আরও বলেন, আমাকে একটু আগে ওসি সাহেব ফোন করেছে আমার স্ত্রীকে থানা থেকে নিয়ে আসার জন্য। কিন্তু এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমি আমার স্ত্রীকে থানা থেকে নিয়ে আসবো না।

ঘটনার বিষয় সম্পর্কে জানতে এএসআই ইউনুছ এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আসলে আমার মেজাজ ঠিক ছিলো না। কি করতে কি করেছি বুঝে উঠতে পারিনি।

এ বিষয়ে বাঘাইছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমএম মঞ্জুর এই অনাকাঙ্খিত ঘটনাটির জন্য চরম ভাবে দু:খ প্রকাশ করেন এবং আটক পারভীনকে নিয়ে যাওয়ার জন্য তার স্বামী সেকান্দরকে ফোন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

ওসি আরও জানান, কেউ অভিযোগ দায়ের করলে এই এএসআইয়ের বিরুদ্ধে সরকারি বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নিবেন ।