॥ মঈন উদ্দীন বাপ্পী ॥

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় জেএসএস সংস্কা’র কর্মী বসু চাকমা হত্যা মামলার ঘটনায় স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর পলক চাকমাকে প্রধান আসামী করে ২৭জনের বিরুদ্ধে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। শনিবার (৫জানুয়ারী) বিকেলে বাঘাইছড়ি থানায় এ অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগ পত্রে আরও ৭-৮জনকে অজ্ঞাত আসামী দেখানো হয়েছে।

থানায় মামলা দায়েরের বিষয়টি বাঘাইছড়ি পুলিশ শিকার করলেও অভিযোগ পত্রে উল্লেখিত অভিযুক্তদের নাম বলতে নারাজ।

স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে- শনিবার বিকেলে বাঘাইছড়ি থানায় ওয়ার্ড কাউন্সিলর পলক চাকমাকে প্রধান আসামী করে জেএসএস সংস্কার এর পক্ষে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয় । অভিযুক্ত পলক বর্তমানে বাঘাইছড়ি পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে আসীন রয়েছেন।

তিনি বাঘাইছড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেএসএস সন্তু গ্রুপের নেতা বড় ঋষী চাকমার ঘনিষ্টজন হিসেবে সর্ব মহলে পরিচিতি। অভিযোগে জেএসএস সন্তু গ্রুপের কর্মী আবিষ্কার চাকমা এবং বিস্তার চাকমার নামও রয়েছে। তারা সকলে জেএসএস সন্তু গ্রপের সশস্ত্র কর্মী বলে সূত্রটি জানায়।

সূত্রটি আরও নিশ্চিত করে- একাদশ জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনে প্রত্যোকবার বাঘাইছড়ি উপজেলাটি জেএসএস’র নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এবার প্রথমবার এ এলাকাটি তাদের হাতছাড়া হয়ে যায় এবং এ উপজেলায় আ’লীগের প্রার্থী বিপুল ভোটে বিজয়ী হন।
আ’লীগের বিজয়ের মূল কারণ হলো- এ এলাকায় আ’লীগের সাথে একাট্টা ঘোষণা করে স্থানীয় আঞ্চলিক সংগঠন এমএন লারমার আদর্শবাদী জেএসএস সংস্কার।

এর রেশ ধরে ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও স্থানীয় জেএসএস নেতা পলক চাকমার নেতৃত্বে জেএসএস’র সশস্ত্র কর্মী আষ্কিার চাকমা এবং বিস্তার চাকমা তাদের দলবল নিয়ে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার বাবু পাড়ার মিসেস জ্যোতি চাকমার ভাড়া বাড়িতে অবস্থানরত জেএসএস সংস্কারের কর্মী বসুসহ তার দলের উপর গুলি চালায়। এতে বসু ঘটনাস্থলে নিহত হলেও তার সঙ্গীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশীয় এক নালা বন্ধুক, একটি পিস্তল, তিন রাউন্ড বুলেট, ৯টি গুলির খোসা এবং একটি লাঠি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে লাঠিটি পলকের বলে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করছে সংস্থাটি। কারণ পলকের পায়ে ব্যাথা থাকায় তিনি লাঠির উপর ভর দিয়ে চলছেন সম্প্রতি।

সূত্রটি বলে- নির্বাচনে পরাজয়ের রেশ ধরে সন্তু গ্রুপের নেতৃত্বাধীন জেএসএস এ ধরণের গুপ্ত হামলা পরিচালনা করেছে।

এ ব্যাপারে বাঘাইছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি ) এমএ মনজুরুল আলম মামলা দায়েরের বিষয়টি শিকার করলেও অভিযুক্তদের নাম জানাতে অপরাগতা প্রকাশ করেছেন। অপরাগতার কারণ জানতে চাইলে পুলিশের এ কর্মকর্তা জানান- নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের নাম বলা যাচ্ছে না। তবে থানায় মামলা রুজু হওয়ার পর পরে জানানো হবে বলে পুলিশের এ কর্মকর্তা যোগ করেন।

গত শুক্রবার (৫জানুয়ারী) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার বাবু পাড়া এলাকার মিসেস জ্যোতি চাকমার বাড়িতে জেএসএস এমএন লারমা গ্রুপের কর্মী বসু চাকমা ও তার দলবল আড্ডারত অবস্থায় একদল দুর্বৃত্ত এসে গুলি চালালে ঘটনাস্থলে বসুর মত্যৃ ঘটে। এসময় তার সঙ্গীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।এ ঘটনার পর স্থানীয় জেএসএস সংস্কার সন্তু গ্রপের নেতৃত্বাধীন জেএসএসকে দায়ী করলেও এ ঘটনার কথা অস্বীকার করে আসছে জেএসএস।