॥ সালাউদ্দিন শাহিন ॥

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় পাকা মৌসুমী ফলের মৌ মৌ গন্ধে ভরে উঠেছে এলাকা। বিভিন্ন গ্রামে এবার মৌসুমি ফলের বাম্পার ফলন হয়েছে। চাষিরা বাগান থেকে ফল এনে খুচরা ও পাইকারি বাজারে বিক্রি শুরু করেছে। বাজারে লিচু, আম, কাঁঠাল ও আনারসের সরবরাহ বেশ ভালো। এসব ফল ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলার ১৩৮ একর জমিতে আম, ৫২ একর জমিতে লিচু, ৩২১ একর জমিতে কাঁঠাল এবং ১৩৫ একর জমিতে আনারসের চাষ হয়েছে। ফলের বাগান ছাড়াও প্রতিটি গ্রামে বাড়ির আঙিনায় লাগানো মৌসুমি ফলের গাছে ফল পাকতে শুরু করেছে। ফলন ভালো হওয়ায় চাষিরা খুশি।

জানা গেছে, উপজেলায় চার জাতের লিচু, তিন জাতের আম, হানিকুইন জাতের আনারস ও কাঁঠালের ফলন ভালো হয়েছে। বাজারে আসা লিচুর মধ্যে চায়না থ্রি ও ফোর, বোম্বে থ্রি এবং দেশি জাতের লিচু আছে।

দেশি পাকা আম এলেও আম্রপালি ও বার্মিজ জাতের আম এখনো আসেনি। এই দুই জাতের আম আগামী এক মাসের মধ্যে বাজারে আসবে বলে ফল ব্যবসায়ীরা জানান। বাজারে পাকা কাঁঠালের সরবরাহ বেশ ভালো। হানিকুইন ও দেশি জাতের আনারসও উঠেছে স্থানীয় বাজারে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার রুপকারী,করেঙ্গাতলী, বটতলী,সারোয়াতলী,শিজক,উলুছড়ি, শিলকাটা ছড়া, খেদারমারা ও দূরছড়ি গ্রামে প্রচুর লিচুর ফলন হয়েছে। ইতিমধ্যে দেশি ও চায়না থ্রি লিচু পাকা শুরু হয়েছে। কিছু এলাকায় পাইকারদের কাছ থেকে পাকা লিচু,আম ও কাঁঠাল বিক্রি শেষ করেছেন উৎপাদকরা।

ব্যবসায়ী ও চাষিরা জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার মৌসুমি ফলের ফলন ভালো হয়েছে, পাশাপাশি দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে। এতে চাষি ও ব্যবসায়ীরা উভয়ে লাভবান হচ্ছেন। একশ লিচু আকারভেদে ৭০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আমও জাত ভেদে কেজি ৪০ থেকে ১০০ টাকায়, কাঁঠাল আকার ভেদে ২০ থেকে ৫০ টাকায় পাইকারি বিক্রি হচ্ছে। আর আনারস এক জোড়া বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে ।

মডেল টাউন এলাকার লিচু ব্যবসায়ী মো. মান্নান বলেন,অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর ঢাকা-চট্টগ্রামে লিচুর চাহিদা বেশি। সেজন্য আমরা বেশি দামে কিনে নিচ্ছি। এখানে ১০০ লিচু ১০০ টাকায় কিনলে ঢাকা-চট্টগ্রামে ২৫০ টাকায় বিক্রি করতে পারি। আর ১৫০ টাকার লিচু ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হয়।

রুপকারী লিচু চাষি সুশীল চাকমা বলেন,আমার বাগানে এ বছর ১০ থেকে ১২টি লিচুগাছে ফলন এসেছে। একটি গাছের লিচু বিক্রি করে পেয়েছি ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। গত বছর লিচুর দাম কম ছিল। এ বছর লিচুর ভালো দাম ওঠায় অনেক চাষি লাভবান হয়েছেন।

উপজেলা কৃষি অফিসার আল ইমরান বলেন,ঢাকা ও চট্টগ্রামে এসব ফলের সরবরাহ থাকায় চাষিরা ফলের দাম ভালো পাচ্ছে। ভালো দাম পেলে চাষিদের ও ফলচাষে আগ্রহ বাড়বে।