\ প্রেস বিজ্ঞপ্তি \

রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে একটি নির্বাচনী গাড়িতে সন্ত্রাসীদের ব্রাশফায়ারে গুলিবিদ্ধ ১১ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম সামরিক হাসপাতালে নেয়া হয় গতকাল। বাঘাইছড়ি উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ঘিরে এ সহিংসতা ঘটে। এতে সন্ত্রাসীদের ব্রাশফায়ারে ৮ জন নিহত হয়েছেন।

সোমবার সন্ধ্যার দিকে ভোট গণনা শেষে উপজেলার সাজেক বাঘাইহাট থেকে বাঘাইছড়িফেরার পথে ৯ কিলোমিটার নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে।

বাঘাইছড়িতে উপজাতি সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত ৬ জনের নাম নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিহত যাদের নাম নিশ্চিত হওয়া যায় তারা হলেন- আনসার-ভিডিপি সদস্য মো, আল আমিন, বিলকিস, জাহানারা, মন্টু চাকমা, মিহির কান্তি দত্ত, মো. আমির হোসেন (শিক্ষক কিশোলয় প্রাথমিক বিদ্যালয়)।

গুলিবিদ্ধ ১১ জনের মধ্যে রয়েছেন পুলিশ সদস্য ৪ জন, শিশু ১ জন, নারী ২ জন, আনসার ৩ জন। আরও একজনকে নিশ্চিত করা যায়নি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বাঘাইছড়ির সাজেকের কংলাক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট গণনা শেষে সেখানে দায়িত্ব পালনকারী প্রিসাইডিং অফিসারসহ অন্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা নির্বাচনী সরঞ্জাম নিয়ে গাড়িযোগে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা ফিরছিলেন। পথে বাঘাইছড়ির ৯ কিলোমিটার নামক এলাকায় গাড়িটির ওপর লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি ব্রাশফায়ার করে অজ্ঞাত বন্দুকধারীপুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বাঘাইছড়ির সাজেকের কংলাক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট গণনা শেষে সেখানে দায়িত্ব পালনকারী প্রিসাইডিং অফিসারসহ অন্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা নির্বাচনী সরঞ্জাম নিয়ে গাড়িযোগে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা ফিরছিলেন। পথে বাঘাইছড়ির ৯ কিলোমিটার নামক এলাকায় গাড়িটির ওপর লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি ব্রাশফায়ার করে উপজাতি সশস্ত্র বন্দুকধারীরা।

নিহতদের মধ্যে আনসার ও ভিডিপিসহ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যও ছিলো। হতাহতদের সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া গেলেও তাৎক্ষণিক তাদের বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়নি। ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার আবদুল হান্নান আরব মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় খাগড়াছড়ি হাসপাতালে নেয়া হলেও তিনিও মৃত্যু বরণ করেন।

এছাড়া আজও রাঙামাটির বিলাইছড়ির উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সুরেশ কান্তি তঞ্চঙ্গ্যাকে জেএসএসের সশস্ত্র সন্ত্রাসী কর্তৃক গুলি করে হত্যা ও আরো কয়েকজনকে আহত করার মধ্য দিয়ে পাহাড়কে পুরোপুরি অশান্ত করার বার্তা দিচ্ছে পাহাড়ের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা।

পাহাড়ের শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে নষ্ট করায় ও নৃশংস এই হত্যাকান্ড ঘঠানোয় পার্বত্য অধিকার ফোরাম কেন্দ্রীয় সংসদের পক্ষ থেকে তিব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছি।
অবিলম্বে সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার জোর দাবী জানাচ্ছি, অন্যথায় পাহাড়ের নিরীহ মানুষ নিজেদের জীবন বাঁচাতে নিজেরাই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে তুলে নিতে বাধ্য হবে।

পাহাড়ে সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাসের যায়গাটি বার বার নষ্ট করছে উপজাতি সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী গুলো। তাই পাহাড়ে শান্তি সম্প্রীতি রক্ষার স্বার্থে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে পার্বত্য অধিকার ফোরাম কেন্দ্রীয় সংসদের আকুল আবেদন আপনি দ্রুত ব্যবস্থা নিন। সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের দমনে কার্যকরী ও কঠোর প্রদক্ষেপ গ্রহণ করুন।

আজ সকলেই নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছে। যে কোন সময় পাহাড়ে অনাকাঙ্ক্ষিত আরো বড় রকমের ঘঠনা এসব সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা ঘঠাতে পারে। তাই পাহাড়ের মানুষ বাঁচতে চায়। পাহাড়ের মানুষদের বাঁচাতে আপনি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে দ্রুত অভিযান পরিচালনার ঘোষনা দিন। আমরা পাহাড়ের সকল শান্তিকামী বাঙালী পাহাড়ী জনগোষ্ঠী আপনার সাথে থাকবো।

সুন্দর ও নিরাপদ বাংলাদেশের স্বার্থে আমরা সন্ত্রাস চাই না, শান্তিতে সকল জনগোষ্ঠী মিলেমিশে বসবাস করতে চাই। বাংলাদেশ বর্তমানে মাথা উচু করে এগিয়ে যাচ্ছে আর সেখানে গুটি কয়েক পাহাড়ের সশস্ত্র সন্ত্রাসী সেই অগ্রযাত্রাকে বির্তকিত করতে পাহাড়ে একের পর এক সশস্ত্র কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে।

আমরা শান্তি সম্প্রীতির বাংলাদেশের স্বার্থে পাহাড়ের আঞ্চলিক সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর প্রদক্ষেপ দেখতে চাই।