॥ নুরুল কবির ॥

সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার সাথে সাথে উপজেলা নির্বাচনের দৌড় শুরু হয়ে গেছে। নির্বাচন কমিশন আগামী ফেব্রয়ারিতে তফসীল ঘোষণার কথা প্রকাশ করার পর এই তোড়জোর শুরু হয়। তবে এই তোড়জোড় আপাতত ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগে মধ্যেই সীমাবদ্ধ। চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান উভয় পদেই অনেক আগ্রহী দেখা যাচ্ছে। বিএনপি বা অন্য কোনো দলের প্রর্থীদের আগ্রহ এখন পর্যন্ত দেখা যায়নি।

জানা গেছে, আগামী ফেব্রয়ারিতে উপজেলা নির্বাচনের সম্ভাব্য তফসীল ঘোষনা হতে পারে। এই ঘোষণার পর থেকে বান্দরবান জেলার সাতটি উপজেলায় উপজেলা নির্বাচনের হাওয়া লেগেছে। তবে তা আপাতত আওয়ামী লীগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। এসব আওয়ামীলীগ নেতারা সবাই দলীয় মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করার কথা ভাবছেন। ইতিমধ্যে অনেকে দলীয় মনোনয়ন পেতে লবিংও শুরু করেছেন বলে জানা গেছে।

গতবার উপজেলা নির্বাচনে ৭ উপজেলায় আওয়ামীলীগের ভরাডুবি হওয়ার কারণে এবার আগে থেকে যোগ্য সম্ভাব্য প্রার্থীরা সিনিয়র নেতাদের মন জয় করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। গতবার যে সব কারণে ভরাডুবি হয়েছে এবার সেসব কারণ গুলো বিচার বিশ্লেষণ শুরু করেছে জেলা আওয়ামীলীগ।

প্রার্থীরা যাতে পরাজিত না হন সে জন্য যোগ্য প্রার্থীদের বাছাই করে নির্বাচনে মনোনয়ন দেয়া হবে বলে আওয়ামীলীগের একটি দলীয় সুত্রে জানাগেছে। জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মোঃ ইসলাম বেবী জানান, উপজেলা নির্বাচনের বিষয় নিয়ে এখনো দলীয় কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে তৃণমুল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের সাথে আলাপ-আলোচনা করে যোগ্য প্রার্থীদের মনোনয়ন দেয়া হবে।

ইতিমধ্যে বান্দরবান সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান বান্দরবান জেলা আওয়ামী লীগের সহ- সভাপতি একে এম জাহাঙ্গীর, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পাবত্য জেলা পরিষদ সদস্য মোজাম্মেল হক বাহাদুর, বতমান উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন চৌধুরী। নাইক্ষংছড়ি উপজেলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক মো: সফিউল্লাহ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ- সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তসলিম ইকবাল চৌধুরী ও সাবেক সভাপতি তাহের কোম্পানী।

লামায় বর্তমান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ ইসমাইল ও গজালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বাথোয়াই চিং , আলীকদম উপজেলায় বতমান সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মংব্রাচিং মামা, মোজাম্মেল হক ও নাছির উদ্দিন।

থানচি উপজেলায় বতমান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মংথোয়াই ¤্রয় রনি, সাবেক সভাপতি বাশৈসিং, সহ-সভাপতি উবামং মার্মা ও অলসেন ত্রিপুরা, রুমা উপজেলায় বতমান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি উহ্লাচিং মার্মা, অ্যাডভোকেট বাসিং থোয়াই মার্মা ও সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়াম্যান শৈমং চিং মারমা এবং রোয়াংছড়ি উপজেলায় আলেক্ষ্যং ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি বিশ্বনাথ তংচংঙ্গ্যা, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি চ হাই মং মারমা, বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদিকা মা উ সাং ও আওয়ামীলীগ নেতা সা হ্লা মং মারমাকে সম্ভব্য প্রার্থী হিসেবে নাম শোনা যাচ্ছে।

এদিকে বিএনপি ও অন্যান্য দলের প্রার্থীদের এখনো কোন তোড়জোড় লক্ষ্য করা না গেলেও আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল জনসংহতি সমিতির পক্ষ থেকে সম্ভাব্য বেশ কয়েকজন প্রার্থীর নাম শুনা যাচ্ছে।