॥ বান্দরবান থেকে ॥

মিয়ানমার সীমান্ত এলাকার বান্দরবানের থানছি ও রুমা উপজেলায় নিষিদ্ধ পপি বাগানের সন্ধান পেয়েছে সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা। তবে এসব পপি বাগান পুড়িয়ে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে।
থানছি উপজেলার দুর্গম তিন্দু ইউনিয়নের ¤্রােংখ্যয় পাড়ার কাছে পাহাড়ি ঝিড়ি এলাকায় পপি বাগানের খবর পেয়ে বিজিবির সদস্যরা অভিযান চালিয়ে তা পুড়িয়ে ধ্বংস করে দেয়।

বৃহস্পতিবার বিকেলে ওই এলাকায় অভিযান চালায় বলিপাড়া ৩৮ ব্যাটালিয়নের বিজিবি সদস্যরা। এছাড়া শুক্রবার সকালে সেখানে আরো পপি বাগানের খোঁজে অভিযান চালিয়েছে সেনা ও বিজিবি।

বিজিবি সূত্র জানা জায়, সাঙ্গু নদী পথে তিন্দু এলাকার দুর্গম পাহাড়ি ঝিড়িতে প্রায় ৫ শ বর্গফুটের বেশি একটি পপি বাগানের খোঁজ পায় বিজিবির সদস্যরা। সেখানকার বিপথগামী কিছু পাহাড়ি লাভের আশায় দুর্গম পাহাড়ি ঝিড়ির কাছে নিষিদ্ধ পপি চাষ করে। পরে খবর পেয়ে বিজিবির সদস্যরা ওই এলাকায় অভিযান চালায় এবং পপি বাগানটি পুড়িয়ে ধ্বংস করে দেয়। তবে পপি চাষে জড়িত কাউকে খুঁজে বা আটক করতে পারেনি যৌথ বাহিনীর সদস্যরা ।
এদিকে, রুমা উপজেলার বগামুখ পাড়ার কাছে ছোট একটি পপি বাগান ধ্বংস করেছে সেনাবাহিনীর রুমা জোনের সদস্যরা।

বলিপাড়া বিজিবির ৩৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. হাবিবুল হাসান পিএসসি জানান, নিষিদ্ধ পপি বাগানের খোঁজ পাওয়ার পরই সেখানে অভিযান চালানো হয়। একটি বাগান পুরো ধ্বংস করার পর সেখানে আরো কোনো পপি বাগান আছে কি না তা খুঁজে দেখা হচ্ছে। দুর্গম পাহাড়ে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক চাষ এবং চোরাচালান বন্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা অভিযান জোরদার করেছে বলেও এ বিজিবি র কর্মকতা জানান।

রেমাত্রিু ইউনিয়ন পরিষদচেয়ারম্যান মুইশৈথুই মারমা জানান, পাহাড়ি ঝিড়ির কাছে কে বা কারা পপি চাষ করেছে তা আমরা জানি না। বিশেষ করে রিজার্ভ এলাকা লোকজনের যাতায়াত নেই এমন জায়গায় পপি চাষ করা হয়। পরে এগুলো থেকে রস সংগ্রহ করে আগুনে জাল দিয়ে পপি উৎপাদন করা হয়। সীমান্ত পথে পাচারের পাশাপাশি স্থানীয় বয়স্করাও শরীরে শক্তি জোগাতে পপি খেয়ে থাকে। পপি চাষ লাভজনক হওয়ায় এখনো অনেকেই পাহাড়ের দুর্গম জায়গায় চাষ করে থাকে। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের কারণে পপি চাষ আগের তুলনায় অনেকাংশে কমে এসেছে বলে স্থানীয় জানিয়েছেন এ জনপ্রতিনিধি।

উল্লেখ্য, মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী বান্দরবানের সাঙ্গু রিজার্ভ ফরেস্টের দুর্গম ও জনমানবহীন পাহাড়ি এলাকায় কিছু বিপদগামী পাহাড়ি প্রতিবছর লাভজনক নিষিদ্ধ পপি চাষ করে আসছে। উৎপাদিত পপি পার্শ্ববর্তী মিয়ানমারে পাচার করা হয়ে থাকে। পপির সবচেয়ে বড় ক্রেতা মিয়ানমার। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান বেড়ে যাওয়ায় এখন পপি চাষ কমে এসেছে। প্রতিবছরই মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনী মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে আসছে।