॥ মঈন উদ্দীন বাপ্পী ॥

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনে রাঙামাটি আসনে আ’লীগ তথা মহাজোটের প্রার্থী দীপংকর তালুকদার বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন-১লাখ ৫৯হাজার ২৯ ভোট। তার প্রতিদ্বন্ধী স্বতন্ত্র প্রার্থী (অনিবন্ধিত পিসিজেএসএস) সমির্থিত সিংহ প্রতীক নিয়ে ঊষাতন তালুকদার পেয়েছেন-১লাখ ৮হাজার ৩৬ ভোট।

মঙ্গলবার (১জানুয়ারী) বিকেলে জেলা প্রশাসনের সন্মেলন কক্ষে বেসরকারি ভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করেন- জেলা রির্টানিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশীদ।

এছাড়া বিএনপি তথা ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী মণি স্বপন দেওয়ান পেয়েছেন ৩১হাজার ৫৫৮ ভোট, হুসেন মুহাম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী নাঙ্গল প্রতীক নিয়ে অ্যাডভোকেট পারভেজ তালুকদার পেয়েছেন-৪৮৩ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’র প্রার্থী হাতপাখা প্রতীক নিয়ে জসীম উদ্দীন পেয়েছেন- ১হাজার ৫৫৮ ভোট এবং বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়াকার্স পার্টি’র প্রার্থী কোদাল প্রতীক নিয়ে জুঁই চাকমা পেয়েছেন-৪৯০ভোট।  এসময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এসএম শফি কামাল, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ শেখ।

গত ৩০ ডিসেম্বর সারাদেশের ন্যায় রাঙামাটিতে জাতীয় নির্বাচন অনৃুষ্ঠিত হয়েছে। ওইদিন দিবাগত রাতে জেলা প্রশাসনের সন্মেলন কক্ষে রাঙামাটির ২০৩টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ১৮৪টি কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এতে মহাজোটের প্রার্থী দীপংকর তালুকদার নৌকা প্রতীক নিয়ে ১লাখ ৫৬হাজার ৮৪৪ ভোট পেয়ে এগিয়ে ছিলো। স্বতন্ত্র প্রার্থী ঊষাতন তালুকদার সিংহ প্রতীক নিয়ে ঊষাতন তালুকদার পেয়েছিলো- ৫৪হাজার ৪৯ ভোট, ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী মণি স্বপন দেওয়ান ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছিলো ৩১হাজার ১৭ ভোট, জাতীয় পার্টির প্রার্থী পারভেজ তালুকদার নাঙ্গল মার্কা নিয়ে পেয়েছিলো-৪৭০ভোট, বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়াকার্স পার্টি’র প্রার্থী কোদাল প্রতীক নিয়ে জুঁই চাকমা পেয়েছিলো ৪৪৫ ভোট এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’র প্রার্থী হাতপাখা প্রতীক নিয়ে জসীম উদ্দীন পেয়েছিলো ১৫৪৬ ভোট।

ওইদিন রাতে রাঙামাটির দূর্গম এলাকার বাকী ১৯টি হেলিসোট কেন্দ্রের ফলাফল দূর্গমতার কারণে ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি। নির্বাচনের দু’দিন পর হেলিসোটের ভোটগুলো রাঙামাটিতে এনে মঙ্গলবার বিকেলে সর্বমোট ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

এদিকে আ’লীগের বিজয় এব স্বতন্ত্র প্রার্থী ঊষাতনের ভরাডুবিতে নাখোশ হয়েছেন পাহাড়ের অনিবনদ্ধিত রাজনৈতিক দল পিসিজেএসএস সমর্থিত প্রার্থী বর্তমান এমপি ঊষাতন তালুকদার। মঙ্গলবার বিকেলে রাঙামাটি শহরের একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন রেস্টুরেন্টে সংবাদ সন্মেলনের মাধ্যমে নাখোশের সংবাদ সাংবাদিকদের জানান।

এসময় তার দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য চাথোয়াই মারমা, দলটির উপদেষ্টা ধীর কুমার চাকমা, সদস্য ও এমপির নির্বাচনী প্রধান এজেন্ট উদয়ন ত্রিপুরা, মহিলা সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক জরিতা চাকমা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ঊষাতন অভিযোগ করেন- ২০১৪ সালের নির্বাচনে রাঙামাটিবাসী আমাকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করেছে কিন্তু এবারের ৩০ডিসেম্বর নির্বাজনে আমার জয় নিশ্চিত থাকার পরও আ’লীগ সরকার দলীয় প্রভাব কাটিয়ে ভোট জালিয়াতি, নজিরবিহীন কারচুপি, কেন্দ্র দখল, প্রতিপক্ষ পোলিং এজেন্টদের ঢুকতে না দেওয়া, ভোটারদের বাঁধা প্রদান, পরিচয়পত্র না থাকার অজুহাতে ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ নিষেধ করা হয়েছে।

এছাড়া নির্বাচন কমিশন, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী, জেএসএস সংস্কার’র নেতা তাতিন্দ্র ও সুদর্শন চাকমার নেতৃত্বে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যহার করে রাঙামাটির আসনটি ছিনেয়ে নেয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি আরও জানান- জেলার লংগদু উপজেলার ১৭টি কেন্দ্র, বাঘাইছড়ি উপজেলার ১৭টি কেন্দ্র, কাপ্তাই উপজেলার ৬টি কেন্দ্র, কাউখালী উপজেলার ১৩টি কেন্দ্র, নানিয়ারচর উপজেলার ২টি কেন্দ্র, বিলাইছড়ি উপজেলার ২টি কেন্দ্র এবং রাজস্থলী উপজেলার ১টি কেন্দ্রে তার পোলিং এজেন্টদেও ঢুকতে দেওয়া হয়নি এবং এসব কেন্দ্র দখল করে সরকার দলীয় নেতারা জাল ভোট প্রদান করে বলে অভিযোগ তুলেন।

এমপি বলেন- লংগদু উপজেলার কাপ্তাইয়ের বড়ইছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৯৩% ভোট কাস্ট ও নারায়নগিরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৯২% ভোট কাস্ট হওয়া অস্বাভাবিক ব্যাপার।

এছাড়া লংগদু উপজেলার ভাঙামুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৯১% ও খাগড়াছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৮৯% ভোট কাস্ট করা হয়েছে। গুলশাখালী, বগাচত্ত্বর, ভাসান্যাদাম, ইউনিয়নে পাহাড়ি ভোটারদের উপর হামলা চালিয়ে ১০-১২জন জুম্ম ভোটরকে আহত করা হয় বলে অভিযোগ করেন। মারিশ্যাছড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে জুম্ম ভোটারদের উপর হামলা চালিয়ে ৪০-৫০জনকে আহত করা হয়।

তিনি ক্ষোভের সাথে আরও বলেন-জেএসএস সংস্কার পন্থীর নেতা তাতিন্দ্র লাল চাকমা, সুদর্শন চাকমার নেতৃত্বে এবং আ’লীগের সন্ত্রাসীরা বাঘাইছড়ি উপজেলায় খেদারমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাবলাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঊলুছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে যেতে বাঁধা প্রদান করেছে।