মো. সোলায়মান । হিলরিপোর্ট

রাঙামাটি: বিশ্বব্যাপী মহামারী করোনার যে তান্ডব তা থেকে বাদ যায়নি বাংলাদেশও। প্রতিদিন ভয়ঙ্কর থেকে ভয়ঙ্কর হচ্ছে করোনার ছোবল। এ মহামারির ভয়াবহতা ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে গোটা দুনিয়া।

বাংলাদেশে মার্চে করোনার প্রাদূর্ভাব দেখা দেয়। যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। দেশে কোন পর্যায় গিয়ে থামবে করোনার তান্ডব তার কোন সীমা নির্ধারণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ মাহামারির ভয়াবহতা যত বাড়বে ততই মানব সভ্যতায় বিপর্যয় নেমে আসবে তাতে কোন সন্ধেহ নেই। আর এ বিপর্যয় ঠেকাতে পুরো বিশ্বসভ্যতা লড়ছে অদৃশ্য করোনার বিরুদ্ধে।

এ যুদ্ধে প্রত্যক্ষভাবে যারা লড়ছে তাদের বলা হচ্ছে ফ্রন্ট লাইন ফাইটার। বাংলাদেশের মতো ঝঁকিপূর্ণ দেশে শুরু হয়েছে করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ। এ যুদ্ধে ফ্রন্ট লাইন ফাইটার হিসেবে লড়ছে প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও গণমাধ্যম কর্মীরা।

প্রশাসন বা সরকারী সংস্থাগুলোর সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বেসরকারীভাবে কাজ করছে গণমাধ্যম কর্মীরা। স্বাভাবিকভাবে যুদ্ধে জয়ী হতে হলে প্রত্যক্ষ যোদ্ধা বা ফ্রন্ট লাইন ফাইটারদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার বিষয়টি চলে আসে।

এসব ক্ষেত্রে যারা কাজ করছে তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে না পারলে দ্রুত বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। শুধুমাত্র জীবনহানি নয় দেশের অর্থনীতি, শৃঙ্খলা ও সামাজিক নিরাপত্তায় নেমে আসবে ভয়াবহ বিপর্যয়। তাই যুদ্ধের শুরুতে ফ্রন্ট লাইন ফাইটারদের সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব দিতে হবে। এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট যে ফ্রন্ট লাইনে থেকে যারা লড়ছে তাদের গুরুত্ব কারো চেয়ে কারো কম নয়।

বৈশ্বিক এ মহামারি প্রতিরোধে এখন পর্যন্ত একমাত্র প্রতিষেধক হচ্ছে সচেতনতা আর সামাজিক বা শারীরিক দুরত্ব বজায় রাখা। দেশে দেশে এ পদ্ধতিকেই করোনা প্রতিরোধে ব্যবহার করা হচ্ছে। আর সচেতনতা সৃষ্টিতে সরকারের অন্যতম সহায়ক হিসেবে কাজ করছে গণমাধ্যম। দূর্যোগ মুহুর্তে তথ্য সরবরাহের গুরুত্বটাও অনেক বেশি।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে করোনা প্রতিরোধ যুদ্ধে শুরু থেকে সরকারের অন্যতম সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করছে গণমাধ্য। দেশের বিশাল জনগোষ্ঠির মাঝে জনসচেতনতা সৃষ্টিসহ সার্বিক বিষয়ে গণমাধ্যমের ভুমিকা প্রশংসার দাবি রাখে।

এ বাস্তবতায় নানামুখি ঝুঁকি নিয়ে মাঠে কাজ করছে গণমাধ্যম কর্মীরা। মাঠে কাজ করতে গিয়ে সরাসরি সংক্রামনের ঝুঁকি মাথায় নিতে হচ্ছে তাদের। ইতোমধ্যে বাংলাদেশে আর্ধ ডজনের বেশি সাংবাদিক সংক্রামিত হয়েছেন। বিশেষ করে সম্প্রচার মাধ্যম তথা টেলিভিশন সাংবাদিকদের প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয়।

সংক্রামন ছাড়াও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সংবাদকর্মীদের আর্থিক নিরাপত্তা ও স্বাধীনতার বিষয়টিও এখন মূখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। করোনার প্রভাবে মন্দাভাব শুরুর আগে গণমাধ্যমগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সংকটের কারণে কর্মীদের রুজি রোজগারে আঘাত হেনেছে।

যেসব প্রতিষ্ঠান এখনো তাদের স্বাভাবিক অবস্থান ধরে রেখেছে তা কতদিন টিকে থাকবে তার কোন নিশচয়তা নেই। এ অবস্থায় ফ্রন্ট লাইন ফাইটার হিসেবে গণমাধ্যম কর্মীদের মনোবল ও এ সেক্টরে ধ্বস নামার আশঙ্কা তৈরী হয়েছে। যা চরমভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে করোনা যুদ্ধের পুরো প্রক্রিয়ায়।

সমান ঝুঁকি নিয়ে কাজ করলেও গণমাধ্যম সেক্টরের জন্য এখনো কোন প্রকার প্রনোদনা, আর্থিক নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যবস্থা হয়নি। সরকারের সু স্পষ্ট কোন ঘোষণা আসেনি এবং মিডিয়া হাউজগুলোও নিজেদের কর্মীদের জন্য বিশেষ কোন ব্যবস্থা রাখেনি।

বিশেষ করে এ ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন মফস্বল এলাকার সংবাদকর্মীরা। মাঠের প্রথম সারির যোদ্ধা হিসেবে গণমাধ্যম কর্মীদের আর্থিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষায় এখনি উদ্যোগ না নিলে বিপর্যয় আরো ঘনিভূত হবে এবং করোনা প্রতিরোধ যুদ্ধ হোঁচট খাবে।

লেখক : মোহাম্মদ সোলায়মান, বার্তা প্রধান সিএইচটি টিভি ও সভাপতি, রাঙামাটি সাংবাদিক ইউনিয়ন।