স্টাফ রিপোর্টার । হিলরিপোর্ট

রাঙামাটি: ছাত্রলীগ একটি সংগঠন নয়, একটি আবেগের নাম। আর আবেগের নামটি হলো বাংলাদেশ। বাংলাদেশ-ছাত্রলীগ এক অভিন্ন প্রতীক। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরে ছাত্র সংগঠনটির যাত্রা যে শুরু হয়েছে তা আজ এশিয়ায় ছাত্র সংগঠনের সর্বোচ্চ শক্তি হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে।

সংগঠনটিকে প্রতিনিয়ত ঠিকে থাকতে হয়েছে নানা প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে। ঠিকে আছে এখনো মাথা উঁচু করে। ভাষা আন্দােলন, শিক্ষা আন্দােলন, গণঅভ্যুত্থান, স্বাধীনতা আন্দােলন সর্বপরী মুক্তিযুদ্ধসহ সকল আন্দােলনে সামনে সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে। কিন্তু কিছু ভুল সময়ে অশুভ আত্মার আগমনে সংগঠনটিতে অনেক সময় নেতৃত্ব নির্বাচন সঠিক হয়ে উঠেনি। তাই তৃণমূলরা মাঝে মাঝে হতাশ হয়, আন্দােলন করে দাবি আদায়ে।

দেশের ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠনটির বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপট নিয়ে রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ চাকমা সামাজিক যোগাযােগ মাধ্যমে তার ফেইসবুক টাইমলাইনে তৃণমূলদের উদ্দেশ্যে করে কিছু কথা বলার চেষ্টা করেছেন।  তার এই কথার মূল সারমর্ম হলো- বৈষম্যর অবসান, যোগ্যতার পরিস্ফুটি ঘটুক।

তার আবেগঘন স্টাটাসটি হুবহু হিলরিপোর্ট-এ তুলে ধরা হলো:-

ছাত্রলীগের বৃহৎ মিছিলটি কখনোই কমিটিতে স্থান পাওয়াভিত্তিক বা পদধারী কেন্দ্রিক ছিলোনা। দীর্ঘদিনের ইতিহাস তাই বলছে।
যাঁরা মিছিলে ছিলো কিন্তু পদ পাইনি(কারনে-অকারনে) তাঁদের পরিচয় দেওয়ার একটা সুযোগ থাকুক(গঠনতন্ত্রে)
ছাত্রলীগের মিছিলে যারা নিয়মিত অংশ নেয় তাঁদেরকে প্রাথমিক সদস্য হিসেবে গণ্য করা হোক(গঠনতন্ত্রে)
আওয়ামী লীগের মতো সদস্য সংগ্রহের একটি সার্বজনীন তালিকা করা হোক, যেখানে আগ্রহীদের আবেদন ও রাজনীতির পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ডের তথ্য পেতেও সুবিধে হবে।
আমরা যাঁরা মূল দায়িত্বে থাকি কমিটি করার সময় অসহায় হয়ে পড়ি। কাকে রেখে কারে বাদ দিই! সবার যোগ্যতা-অভিজ্ঞতা কমবেশি থাকে তারপরও প্রচলিত চলমান ধারাবাহিক সংস্কৃতি বলেই অলিখিত/অদৃশ্য কিছু নিয়ম প্রথা বলেই কিছু কথা থাকে! যেমন- এলাকাভিত্তিক, সিনিয়রদের কোটা, বন্ধু কোটা, সাবেকদের কোটা, স্ট্যাডি ব্যাচের কোটা, ঘনিষ্ঠ কোটা! আবার এসব কোটার বিপরীতে ব্যক্তিগত/পারিবারিক দ্বন্দ্বে, রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে, ভালো না লাগার দ্বন্দ্বে, ইগুর দ্বন্দ্বে, প্রতিযোগিতার দ্বন্দ্বসহ ইত্যাদি কোটার প্রভাবে হারিয়ে যায় অনেক কর্মীর যোগ্যতা ও রাজনৈতিক ত্যাগ। সকল প্রকার ত্যাগ যোগ্যতা অভিজ্ঞতা থাকার সত্ত্বেও অনেকেই পায়না তার প্রত্যাশিত পদ। আরেকটা সমস্যা- পদের ক্ষেত্রে সিনিয়র-জুনিয়র মধ্যকার অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পর্ক! একটা বয়সভিত্তিক সিনিয়র আরেকটা রাজনৈতিকভিত্তিক সিনিয়র! যাহোক, অনুমোদিত কমিটিতে কোন পদে অন্তর্ভুক্ত না হওয়াদের জন্য অন্ততঃ পরিচয় দেওয়ার সুযোগটা তৈরি করে দিলে কেমন হয়?
দাবি থাকলো- এদের নূন্যতম পরিচয় দেওয়ার সুযোগ থাকুক গঠনতন্ত্রে। নাহলে এদের(সক্রিয় ছিলো কিন্তু পদবঞ্চিত) হতাশা ও ব্যর্থতার অভিজ্ঞতা থেকে ভবিষ্যতের ছাত্রলীগ হবে ব্যক্তিকেন্দ্রিক, গ্রুপিংনির্ভর এবং লেজুড়বৃত্তিক।
সবচেয়ে বড় সমস্যার বিষয়টি হলো- জেলা,উপজেলা,ইউনিয়ন ওয়ার্ড তৃণমূল পর্যায়ের কমিটিসমূহের সেশনজট।
এক অর্থে বলা যায়- যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ!

এ বিষয়গুলোর উল্লেখযোগ্য সমাধান দিতে না পারলে….. ঐতিহাসিক এ সংগঠনটির কাছে যুগ যুগ ধরে দায়ী থাকবো আমি, আমরা, আপনারা সবাই(যাঁরা ছাত্রলীগের দায়িত্বশীল অবস্থানে আছি)

#ফ্যাক্ট- পদ পরিচয়।