॥ মঈন উদ্দীন বাপ্পী ॥

সারাদেশের ন্যায় ১৮মার্চ দ্বিতীয় ধাপে রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে তালা মার্কা নিয়ে নির্বাচন করছেন স্থানীয় ভাবে স্বজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিতি সমাজ সেবক, নানিয়ারচর উপজেলা হ্যাডম্যান এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এবং উপজেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি সুজিত তালুকদার।

তার প্রতিদ্বন্ধী হিসেবে লড়াই করছেন বিএনপি’র দুই নেতা। তারা হলেন-রাঙামাটি জেলা বিএনপি’র আদিবাসী বিষয়ক সম্পাদক, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এবং বর্তমান উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রণ বিকাশ চাকমা এবং নানিয়ারচর উপজেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নুরুজ্জামান।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনপি’র এ দু’নেতা দলীয় হাই কমান্ডের নির্দেশ উপেক্ষা করে নির্বাচনী যুদ্ধে সামিল হয়েছেন। তবে বিএনপি থেকে দু’প্রার্থী নির্বাচন করায় সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে আ’লীগের সমর্থন নিয়ে নির্বাচন করা আ’লীগ নেতা সুজিত তালুকদার।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিএনপি’র দু’প্রার্থী থেকে সুজিত তালুকদারের ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিএনপি থেকে দু’প্রার্থী থাকলেও পাহাড়ের আঞ্চলিক দলগুলোর পক্ষ থেকে কোন প্রার্থী দেওয়া হয়নি। এক প্রকার বলা চলে যুদ্ধ হবে ক্ষমতাসীন দল আ’লীগ এবং বিএনপি’র প্রার্থীদের মধ্যে।

স্থানীয়রা জানান, বিএনপি’র বর্তমান অবস্থা বেহালদশা। দীর্ঘবছর ধরে ধরে ক্ষমতার মধ্যে তারা নেই। নির্বাচনে জিতলে পারলেও সরকারের উন্নয়নের সাথে গা ভাসাতে পারবে না।

বিএনপি প্রার্থীদের পরাজয়ের আরেক কারণ হলো- বিএনপি’র দু’জন প্রার্থী রয়েছেন। কেননা বিএনপি’র ভোট দু’ভাগে বিভক্ত হলেও আ’লীগের ভোট  সুজিতের বাক্সে পড়বে।

সব কিছু বিচার বিশ্লেষণ করলে সুজিত তালুকদার বিএনপি’র প্রার্থীদের থেকে অনেক সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে এবং ১৮মার্চ নির্বাচনে সুজিতের বিজয় এক প্রকার নিশ্চিত বলা চলে। যেহেতু তার সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা তার বিজয় সুনিশ্চিত করার জন্য একাট্টা হয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।

তারা আরও জানান, অন্যান্য প্রতিদ্বন্ধীদের চেয়ে সুজিতের জনপ্রিয়তা যোজন যোজন দূরুত্ব রয়েছে। তারা বলেন, দেশের স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তিকে বিজয়ী করতে সুজিতের কোন বিকল্প নেই এই উপজেলায়। তাই দল, মত, জাতি, বর্ণ নির্বিশেষে ১৮মার্চ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে সুজিত তালুকদারকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবো।

স্থানীয় আ’লীগের নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, দলের মধ্যে অন্য কোন প্রতিদ্বন্ধী ছিলো না। দলের মধ্যে সুজিত যোগ্য প্রার্থী। দলের কাছে স্বজ্জন ব্যক্তি হিসেবে তার আলাদা পরিচিতি রয়েছে। তাই দলের এ নেতার জন্য নেতা-কর্মী সকলে একযোগে কাজ করছে। ১৮মার্চ নির্বাচনে আমাদের এ নেতার বিজয় সুনিশ্চিত বলে যোগ করেন তারা।

এদিকে সুজিত দেশের প্রাচীন রাজনৈতিক সংগঠন আ’লীগের রাজনীতির সাথে দীর্ঘদিন ধরে জড়িত রয়েছেন। বর্তমানে তিনি রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলা আ’লীগের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন দীর্ঘদিন ধরে।

পাশাপাশি নানিয়ারচর উপজেলা হেডম্যান এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও সফলতার সাথে পালন করছেন তিনি।

ভাইস চেয়ারম্যান পদ প্রার্থী সুজিত তালুকদার বলেন, আমি দীর্ঘ দিন ধরে আ’লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত রয়েছি। পাশাপাশি স্থানীয় হেডম্যান এসোসিয়েশনের দায়িত্ব পালন করছি।

তিনি আরও বলেন, জনগণের জন্য বড় কিছু করতে বড় পরিসরের জায়গার দরকার হয়। তাই এবার সেই পরিধির জায়গা বাড়িয়ে তৃনমূল পর্যায়ে জনগণের কাছে সেবা পৌছে দিতে জনপ্রতিনিধি হওয়ার লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছি।

আ’লীগের এ নেতা জানান, যদি ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয় তাহলে আমার প্রথম কাজ হলো- এ উপজেলায় পাহাড়ি-বাঙালী সম্প্রদায়ের মধ্যে শান্তি, বিশ্বাস স্থাপন করা।

এরপর উপজেলার উন্নয়নে পাহাড়ি-বাঙালী নির্বিশেষে এলাকার, দেশের স্বার্থে কাজ করা এবং সরকার ঘোষিত নানা উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করা হবে।

সুজিত জানান, যারা দেশের শত্রু, জনগণের শত্রু তাদের বিরুদ্ধে আপোষহীন সংগ্রামের লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছে। সেই বিশ্বাস থেকে বলতে পারি এবারের নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে আমি সেরা।

বিজয়ের ব্যাপারে কতটুকু আশাবাদী এমন প্রশ্নে এ প্রার্থী বলেন, সবাই বিজয়ী হতে চাই। আমি বিশ্বাস করি, যদি আমার দলের সকল নেতা-কর্মীরা প্রাণ পণে কাজ করে যায় এবং ভোটাররা ভোট প্রদান করে তাহলে ১৮মার্চ ভাইস চেয়ারম্যান পদে আমার বিজয় কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না।