মঈন উদ্দীন বাপ্পী । হিলরিপোর্ট

রাঙামাটি: করোনা সচেতনতায় এবং সামাজিক দূরত্ব রক্ষা রাখতে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন বনরূপা এলাকার ভাসমান ব্যবসায়ীদের শহরের মুজাদ্দেদ-ই-আলফেসানী একাডেমী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অস্থায়ী ভিত্তিতে হাট-বাজার স্থাপনের ব্যবস্থা করে দেন।

এসব ভাসমান ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের নির্দেশ মতো স্কুল মাঠে হাট-বাজার স্থাপন করে ব্যবসা শুরু করেন। বেশ কিছুদিন স্কুল মাঠে তাদের ব্যবসা জমে উঠে। মানুষজন অতি আগ্রহী হয়ে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস ক্রয় করতে থাকে। হাতের নাগালে অনেক দ্রব্যদি সস্তা থাকায় বিকিকিনি বেশ জমে উঠেছিলো।

কিন্তু বনরূপা এলাকার একটি ব্যবসায়ী শ্রেণী প্রশাসনের চোখে ফাঁকি দিয়ে সপ্তাহে বুধবার এবং শনিবার বনরূপা এলাকায় ভোরে হাট বসিয়ে ব্যবসা শুরু করে। ক্রেতা সাধারণও সেইসব পণ্য ক্রয় করতে থাকে। যে কারণে আলফেসানীস্কুল মাঠের হাটে ক্রেতা সাধারণ কমতে থাকে।বিকিকিনি কমতে শুরু করায় অনেকে নিজেদের দোকান বন্ধ করে দেয়। বর্তমানে যারা ব্যবসা করছে তারা দিনদিন হতাশ হয়ে পয়ে পড়ছেন।

একদিকে তাদের পেঠের তাগিদ অন্যদিকে পুঁজি রক্ষা করা তাদের জন্য চ্যালেঞ্চ হয়ে পড়েছে। এখন তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। বিকিকিনি কমতে শুরু করায় তাদের অধিকাংশ পণ্য পঁচে যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, তারা ভাল নেই। কিছুদিন আগে যে বাজার জমে উঠেছিলো এখন সে বাজারে ভাটা পড়েছে।

এদিকে সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, বৃষ্টি শুরু হলে ব্যবসায়ীদের বিকিকিনি বন্ধ হয়ে যায়। সাথে বন্ধ হয়ে যায় ক্রেতাদের আনাগোনাও । গত দু’দিনের টানা বৃষ্টিতে ব্যবসায়ীরা বিকিকিনি বন্ধ থাকায় তারা হাত গুটিয়ে বসেছিলো। এছাড়া এই অস্থায়ী হাট-বাজারে রয়েছে টয়লেট সমম্যা। রয়েছে পানি সংকট এবং পয়ো:নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেই।

এসব ব্যবসায়ীদের দাবি, কখন করোনা থেকে মুক্তি পাবো আমরা জানি না। আমরা যতদিন এই মাঠে ব্যবসা করবো ততদিন আমাদের সুযোগ-সুবিধা করে দিতে হবে। না হলে আমাদের ব্যবসা গুটিয়ে এখান থেকে চলে যেতে হবে।

স্কুল মাঠের সবজি ব্যবসায়ী বাবু বড়–য়া জানান, আমরা ভাল নেই। বৃষ্টি হলে ব্যবসা করতে পারি না। টয়লেট নেই। পয়ো:নিষ্কাশনের কোন ব্যবস্থা নেই। বনরূপা এলাকায় একদল ব্যবসায়ী ব্যবসা করার কারণে আমাদের এখানে ক্রেতারা আসে না।

একই স্থানের সবজি ব্যবসায়ী মো. সুমন বলেন, এইখানে ব্যবসা না হওয়ার মূল কারণ হলো-এইখানে মাছের বাজার নেই, মাংসের বাজার নেই। যদি মাছ ও মাংসের দোকান খোলা যায় তাহলে এই বাজারটি জমে উঠবে।

একই স্থানের ব্যবসায়ী মো. নুরু বলেন, বৃষ্টির মধ্যে আমরা যেন ব্যবসা করতে পারি সেইসজন্য এখানে শেডের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরী। কারণ বৃষ্টির মৌসুম শুরু হচ্ছে। বৃষ্টি হলে আমাদের পক্ষে এখানে ব্যবসা করা অত্যন্ত দূরূহ হয়ে পড়বে। সেইজন্য প্রশাসনের কাছে আহ্বান অতিসত্ত্বর ব্যবসায়ীদের সুবিধার্তে এখানে শেড নির্মাণ করে দেওয়া হোক।

রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) উত্তম কুমার দাশ বলেন, আমরা চাই বাজারটি জমে উঠুক। বুধবার এবং শনিবার বনরূপা এলাকায় যাতে বাজার বসতে না পারে সেইজন্য আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
এছাড়া ব্যবসায়ীরা যাতে চট্টগ্রাম থেকে রাঙামাটিতে প্রবেশ করার সময় যাতে পুলিশি হয়রানির শিকার না হয় এজন্য জেলা পুলিশকে অবগত করা হয়েছে।

এনডিসি আরও বলেন, বৃষ্টির কারণে ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করতে পারছে না বিষয়টি আমলে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি সমাধানে বনরূপা ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাথে আলোচনার ভিত্তিতে সমাধান করা হবে।