মঈন উদ্দীন বাপ্পী । হিলরিপোর্ট

রাঙামাটি: রূপের রাণী বলা হয়- পাহাড়-অরণ্য-হ্রদ ঘেরা রাঙামাটিকে। যেখানে প্রকৃতি সারা বছর ভিন্ন ভিন্ন ঋতুতে ভিন্ন রূপ ধারণ করে। পাহাড়ের এমন প্রকৃতি যেন স্বর্গীয় সৌন্দর্যের প্রতিচ্ছবি। প্রকৃতির এমন অপরূপের দেখা মিলে ‘ফুরোমন পাহাড়ে। পাহাড়টির অবস্থান রাঙামাটি সদরের কুতুকছড়ি এলাকায়।

‘ফুুরোমন’ শব্দটি চাকমা ভাষা। যার বাংলা অর্থ- ফুরফুরে। মানে ফুরোমন পাহাড় অর্থ দাঁড়ায় ফুরফুরে পাহাড়। পাহাড়টিতে গেলে মন ফুরফুরে হয়ে যায় বলে চাকমা জনগোষ্ঠি পাহাড়টির নামকরণ করেছে ফুরোমন পাহাড়। পাহাড়টির উচ্চতা এক হাজার ৫১৮ফুট। সমুদ্র পৃষ্ট থেকে প্রায় ২হাজার ৬০০ফুট উঁচু।

পাহাড়টিতে উঠতে পারলেই এর সৌন্দর্য দেখে বিমোহিত হবে না এমন লোক পাওয়া ভার। পাহাড়টি উঠতে হলে আপনাকে অনেক কাঠ-গড় পোড়াতে হবে। পার হতে হবে প্রায় চারশোর কাছাকাছি সিড়ি। স্থানীয় পাহাড়িরা পাহাড়ের চূড়ায় মন্দির স্থাপন করায় স্থানীয় প্রশাসন মন্দিরে যাতায়েতের সুবিধার্তে সিড়ি নির্মাণ করে দেয়।

বর্তমানে ফুরোমন পাহাড়টি স্থানীয়দের পাশাপাশি পর্যটকদের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। পাহাড়টি উঠলে দেখতে পাবেন সবুজের সমারোহ, কাপ্তাই হ্রদের স্বচ্ছ জরারাশির খেলা, সোনালী রঙের বৌদ্ধ মূর্তি। সূর্যাস্ত এবং সূর্যোদয় উপভোগ করবেন শীতল বাতাসে। পাহাড়ের দক্ষিণ-পশ্চিমে চট্টগ্রাম শহর, বন্দরে ভাসমান জাহাজের মাস্তুল, রাঙামাটির রাঙা রূপ। পাহাড়ের ভাজে ভাজে অজানা অসংখ্য ফোটা ফুল আপনার মনকে পুলকিত করে তোলবে। দু:খ, উদাসীনতা ভোঁড় দৌড় দিবে।

পাহাড়টির আরেকটি গোপন সৌন্দর্য হলো- মেঘের লুকোচুরি খেলা। সাজেকে যেমন মেঘের উপত্যকার দেখা মিলে তেমনি ফুরোমন পাহাড়েও দেখা মিলবে মেঘের এমন চিত্র। আর এ রূপ দেখতে হলে আপনাকে অবশ্যই খুব ভোরে যাত্রা করতে হবে।

পাহাড়টির এমন সৌন্দর্যের কথা মাথায় নিয়ে স্থানীয় পর্যটক সংশ্লিষ্টরা এখানে কিভাবে পর্যটন স্পট গড়ে তোলা যায় এমন চিন্তায় বিভোর। পর্যটকদের আকর্ষণ করতে তারা নতুন নতুন উদ্যোগ হাতে নিচ্ছেন। স্থানীয় প্রশাসনের সহযোাগিতা পেলে গড়ে তোলবেন পর্যটন স্পট।

রাঙামাটি হোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মঈনুদ্দীন সেলিম বলেন, রাঙামাটি হলো- প্রকৃতির সৌন্দর্যের লীলাভূমি। এমন প্রকৃতিকে ঢেলে সাজাতে পারলে মানুষ বিদেশে না যেয়ে পাহাড়ি এ জেলায় ছুটে আসবেন। এইজন্য পরিকল্পিত পরিকল্পনার প্রয়োজন। তবেই এ জেলা দেশের মধ্যে অন্যতম পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে উঠবে।

তিনি আরও বলেন, ফুরোমন পাহাড়টির সৌন্দর্যের কথা জানি। বাইরের মানুষ তো জানে না। এইজন্য পাহাড়টি নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে। যদি স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা পাওয়া যায় এবং নিরাপত্তা জোর করা যায় তাহলে আমরা পরিকল্পিত পর্যটন স্পট গড়ে তুলতে উদ্যেগী হবো।

রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অংসুই প্রু চৌধুরী বলেন, ‘ফুরোমন পাহাড় নিয়ে জেলা পরিষদের চিন্তাধারা রয়েছে। আগামী অর্থ বছরে পাহাড়টি নিয়ে কিছু চিন্তা আছে। যদি সময়পোযোগী সিন্ধান্তে পৌছাতে পারি তাহলে সেখানে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগানো হবে।

চেয়ারম্যান আরও বলেন, রাঙামাটিকে পর্যটন নগরী গড়ে তোলতে জেলা পরিষদ বদ্ধপরিকর। এইজন্য প্রতিষ্ঠানটি জন্মলগ্ন থেকে কাজ করছে।

যেভাবে যাবেন:

ঢাকার ফকিরাপুল এবং সায়দাবাদে রাঙামাটিগামী অসংখ্য এসি ও নন-এসি বাস রয়েছে। এই বাসগুলো সাধারণত সকাল ৮ টা থেকে ৯ টা এবং রাত ৮ টা ৩০ মিনিট থেকে রাত ১১ টার মধ্যে রাঙামাটির উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। এসব বাসে চেপে যেতে হবে রাঙামাটি শহর। রাঙামাটি শহর থেকে সিএনজিযোগে চলে যাবেন জেলা সদরের সাপছড়ি শালবাগান পুলিশ ফাঁড়ি। একটু সামনে দেখবেন বড় সাইনবোর্ডে লিখা আছে বৌদ্ধমূর্তি স্থাপনের জন্য নির্ধারিত স্থান। তার পাশ ঘেঁষে পাহাড়ি রাস্তা ধরেই চলে যাবেন ফুরোমন পাহাড়ে।