স্টাফ রিপোর্টার । হিলরিপোর্ট

রাঙামাটি: বৈশ্বিক করোনার প্রভাবে পৃথিবীর সামাজিক, অর্থনৈতিক, যোগাযোগ সকল ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। কর্মহীন হয়েছে কোটি মানুষ। বাংলাদেশও করোনার প্রভাব থেকে নিস্তার পায়নি। দেশে মৃতের সংখ্যা কম থাকেলেও আক্রান্তের সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে।

করোনায় বাঙালীর প্রাণের উৎসব বৈশাখ ছিলো রংহীন। এইবার মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে ধর্মীয় রীতি পবিত্র মাহে রমজানও করোনার বিপাকে পড়েছে। প্রতিবছর রমজানের আগমনে ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলাে নতুন সাজে রূপ নেয়। কিন্তু এইবার বিশ্বসহ বাংলাদেশে রমজানের ছোঁয়া লাগেনি। পুরো পরিবেশ করোনায় থমকে আছে। থমকে আছে পাহাড়ি জেলা রাঙামাটিও।

রাঙামাটিতে প্রতিবছর রমজান আসার আগে মসজিদ পরিষ্কার, তারাবির জন্য হাফেজ নিয়ােগ, রাস্তা-ঘাট পরিষ্কার, বিপনী বিতানগুলোর সুস্বাদু খাবারের পসড়ার রমরমা উৎসবের প্রস্তুতি দেখা গেলেও এই বছর কিছুই দেখা যাবে না। পুরো পরিস্থিতি বদলে দিয়েছে করোনা।

হোটেল মালিকরা হাত গুটিয়ে বসে আছে। লোকসান ও ঋণগ্রস্থের মধ্যে দিয়ে তারা দিন অতিবাহিত করছে। পরিবহন ব্যবসায় নেমেছে বড় ধস। কাপড় ব্যবসায়ীরা চরম অসহায় হযে পড়েছে। খেটে খাওয়া মানুষেরা পড়েছে চরম বিপাকে। মধ্যবিত্তদের চাপা কান্না। এই যেন তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের চেয়ে বড় ভয়ংকর পরিস্থতির মধ্য দিয়ে মানুষ দিন কাটাচ্ছে।

রাঙামাটি রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এম.নেকবর আলী জানান, রমজান আসলে আমাদের বিকিকিনি বেড়ে যায়। নানা রকম সুস্বাদু ইফতারীর খাবার তৈরি এবং ইফতারীর বড় ধরণের অর্ডার করে অনেক টাকা রোজগার করি। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে আমাদের ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। ফলে অনেক কর্মচারী কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। কেউ কেউ চলে গেলেও অনেক কর্মচারীদের খরচ বহন করতে হচ্ছে। হোটেল বন্ধ থাকায় একদিকে যেমন কর্মচারীদের খরচ বহন করতে হচ্ছে। তেমনি অন্যদিকে দোকানের বাকি, দোকান ভাড়া ও ব্যাংক লোনের টাকা নিয়ে প্রতিনিয়ত চাপে মধ্যে রয়েছেন।

এমতাবস্থায় সরকারের পক্ষ থেকে যদি রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীদের জন্য কোন প্রণোদনার ব্যবস্থা করা যায়, তাহলে ব্যবসায়ীরা ঘুরে দাঁড়াতে পারবে বলে তিনি জানান।

ট্যুরিস্ট বোট-মালিক কল্যাণ সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. রমজান আলী জানান, রমজান চলে আসছে। আর একমাস পর ঈদ। ঈদকে ঘিরে এখানে লাখ লাখ পর্যটকের সমাগম ঘটে। এইবার করোনা সব শেষ করে দিয়েছে। আমাদের এই বছর বড় আর্থিক ক্ষতির সন্মুখীন হতে হবে।

তিনি আরও জানান, রাঙামাটিতে পর্যটক না আসায় এ পর্যন্ত প্রায় ৯ লক্ষ টাকা মত আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন বোট-মালিক সমিতি । এতে প্রায় ১০০ শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়ে। তাই অন্যান্য শিল্পের মত পর্যটন শিল্পের শ্রমিকদের জন্য প্রণোদনা প্যাকেজ চালু করার জোর দাবি জানান তিনি।

রাঙামাটি আবাসিক হোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মইন উদ্দিন সেলিম জানান, ঈদকে সামনে রেখে আমরা পর্যটক বরণে পূর্ব প্রস্তুতি সেরে রাখি। এই বছর করোনাভাইরাসের কারণে যেখানে পর্যটক আসা বন্ধ হয়ে গেছে।

মার্চ মাস থেকে হোটেল বন্ধ থাকায় আর্থিক সংকটে পড়েছেন আমাদের হোটেল ব্যবসায়ীরা। ফলে এই পরিস্থিতিতে হোটেল ব্যবসায়ীদের অস্তিত্ব রক্ষায় করা ও ব্যাংক ঋণের সুদ মওকুফ করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি।

রাঙামাটির পর্যটন করপোরেশনের ব্যবস্থাপক সৃজন বিকাশ বড়ুয়া জানান, ঈদকে সামনে রেখে আমরা ব্যবসা করার ছক আঁকি। কিন্তু করোনা আমাদের ব্যবসার সকল ছক মুছে দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রতি মাসে তাদের আয় প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা। ঈদে আমাদের আয় দ্বীগুণ হয়ে পড়ে। করোনা পরিস্থিতির আমাদের আয়ের পথ বন্ধ করে দিয়েছে।

রাঙামাটির কাঠাতলী মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ সিকান্দর হোসেন রিজবী বলেন, আমরা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতো পরিবেশের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। রমজান আসলে আমরা ইমাম সমাজের মৌলবীদের পকেট ভারী থাকে। বোনাস পায়।

মসজিদগুলো সাজসাজ রূপে থাকে। কুরআনে হাফজেদর তেলওয়াত আমাদের প্রশান্তি দান করে। কিন্তু এই বছরটা আমাদের কাছে কেয়ামতের মতো লাগেছে। কিছু ভাল লাগছে না। মহান আল্লাহ সহায়।

এই খতিব আরও বলেন, সরকারের নির্দেশনা মেনে আমরা ২০রাখাত সুরা তারাবি পড়াবো। তবে সেখানে ১০জনের অধীক লোকের সমাগম হওয়া যাবে না।