॥ মঈন উদ্দীন বাপ্পী ॥

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনে জাতীয় পার্টির (এরশাদ) হয়ে ২৯৯ নং রাঙামাটি আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য পদ প্রার্থী, তরুণ রাজনীতিবীদ অ্যাডভোকেট পারভেজ তালুকদার বলেছেন- রাঙামাটি হলো আমার প্রাণের শহর। যে প্রান্তে থাকি না কেন মনে ভাবনা থাকে একটাই রাঙামাটির উন্নয়ন।

আর আমার স্বপ্ন যাত্রায় রাঙামাটিকে এগিয়ে নিতে চাই বহুদূরে। এজন্য জীবনের প্রতিটি ধাপে যেখানে সুযোগ পেয়েছি সেখানে এ প্রাণের শহরের উন্নয়নে ঝাঁপিয়ে পড়েছি। শুধু এ যাত্রায় থেমে থাকেনি। আইন পেশার পাশাপাশি এ এলাকার অনেক শিক্ষার্থীদের সহায়তা করে গেছি। গড়ে তোলেছি মানবিক সহায়তা বিষয়ক অনেক কেন্দ্র।

পারভেজ তালুকদার আরও জানান- আমার স্বপ্ন যাত্রা বাস্তবে রূপ দিতে চাই। স্বপ্ন যাত্রায় সব সময় থাকে রাঙামাটি, রাঙামাটিবাসীর উন্নয়ন। আর এ ধারাবাহিকতায় বহুদিন ধরে চিন্তা করি কিভাবে রাঙামাটির বৃহৎকারে উন্নয়ন সাধন করা যায়। এজন্য নানারকম চিন্তা করতে থাকি।

আর এ চিন্তা থেকে মাথায় আসে রাঙামাটির প্রতিনিধি হওয়া ছাড়া বৃহৎ পরিসরে রাঙামাটিবাসীর উন্নয়ন করা সম্ভব নয়। এজন্য এবার এ শহরের মানুষের ভালবাসা আর দোয়া নিয়ে এবারের একাদশ জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনে রাঙামাটির ২৯৯নং আসনে জাতীয় পার্টির (এরশাদ) হয়ে জাতীয় সংসদ সদস্য প্রার্থী হয়েছি।

পারভেজ তালুকদার জানান- কাকে কটাক্ষ করবো না। কাউকে ছোট করতে চাই না। আমি একজন শিক্ষিত এবং সচেতন মানুষ হিসেবে বুঝি- আমার প্রাণের শহরটায় হাজার হাজার বেকার উচ্চ শিক্ষিত শিক্ষার্থী রয়েছে। কিন্তু তাদের কপালে সোনার হরিণ নামক চাকরীটা জুটে না।

এছাড়া স্থানীয় ভাবে তৃতীয় শ্রেণীর কিছু চাকরী নিতে এসব শিক্ষার্থীদের ১০-১২লাখ টাকা উৎকোষ দিতে হয়। এজন্য তাদের পরিবার নিস্ব হয়ে যায়। অনেকে টাকা যোগাড় করতে না পারায় বেকার জীবন কাটে। অনেকে হতাশ থেকে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে।

কিন্তু অনেক সরকার এসেছে, দায়িত্ব পালন করেছে তাদের প্রতিনিধিরা। কিন্তু তাদের সেই প্রতিনিধিরা এ জেলার উচ্চ শিক্ষার্থীদের জন্য চাকরী এবং শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ উপহার দিতে ব্যার্থ হয়েছে।

পারভেজ তালুকদার আরও জানান- আমি তরুণ হিসেবে দীপ্ত প্রত্যয়ে শপথ করছি এসব উচ্চ শিক্ষিত বেকারদের জন্য চাকরী এবং এ জেলাকে শিক্ষাবান্ধব নগরী গড়ে তোলা হবে।

অ্যাডভোকেট পারভেজ বলেন- আমি এ আসনে যদি এমপি হয় তাহলে আমাদের বেকার উচ্চ শিক্ষিত শিক্ষার্থীদের জন্য চাকরী এবং শিক্ষা বান্দব নগরী গড়ে তুলবো।

এক প্রশ্নের জবাবে তরুণ রাজনীতিবিদ আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়ে বলেন- সরকারি বিভিন্ন খাতে নিয়োগ দেওয়া নিয়ে রয়েছে নানা সমস্যা এবং জটিলতা। কিন্তু তাই বলে উচ্চ শিক্ষিক বেকাররা চাকরী পাবে না; তাই হবে না। তাদের কথা মাথায় রেখে এ অঞ্চলে গড়ে তোলা হবে বিভিন্ন কলকারখানা যেমন:- গামেন্টস, শিল্পকারখানা প্রভৃতি। এছাড়া মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ, চামড়া শিল্প এবং দুগ্ধশিল্পও গড়ে তোলা হবে।

এসব প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারলে একদিকে যেমন ব্যবসার নতুন খাত তৈরি হবে, ব্যবসায়ীরা ব্যবসার নতুন খাত খুঁজে পাবে ঠিক তেমনি অন্যদিকে বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। বেকাররা চাকরী পেলে তাদের হতাশা কেটে যাবে। মাদকমুক্ত থাকবে তরুণ সমাজ। তাদের পরিবারদেরকে আর উৎকোচ নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। আর সরকারি চাকরী নামক সোনার হরিণের পিছনে ছুটতে হবে না।

তরুণ-তরুণীদের স¦াবলম্বী করতে উদ্যোক্তা ঋণের ব্যবস্থা করা, আধুনিক প্রযুক্তি উৎকর্ষতা পেতে শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার কেনার জন্য বিনা সুদে ঋণের ব্যবস্থাও করা হবে।

তিনি আরও বলেন- আমাদের দেশে একটি কথা চালু আছে। মেধা নয়, টাকা থাকলে চাকুরী হয়। সেই ধারণা বদলে এবার মেধার বিনিময়ে চাকুরীর ব্যবস্থা করা হবে। জেলায় ইন্টারনেটের ব্যবস্থা উন্নতিকরণ, জেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ওয়াই-ফাই জোনের আওতাভুক্ত কর হবে।

এছাড়া প্রতিটি উপজেলায় ক্রীড়া স্কুল স্থাপন করা এবং রাঙামাটির ক্রীড়াবিদদের জাতীয় পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সকল প্রকার সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হবে বলে যোগ করেন।

পারভেজ তালুকদার জানান- এ অঞ্চলের নারীরা অনেক পিছিয়ে রয়েছে। তাই তাদের জন্য আমার আলাদা চিন্তা-ভাবনা রয়েছে। কারণ সমাজের নারীদের যদি এগিয়ে নিয়ে না যাওয়া যায় তাহলে সমাজ কখনো উন্নত হবে না। আর সমাজ উন্নত না হলে দেশ কখনও এগিয়ে যাবে না। যেহেতু বাংলাদেশে নারী-পুরুষ জনসংখ্যার দিকে দিয়ে সমান সমান অবস্থান করছে।

সবকিছু মাথায় রেখে আমি এ অঞ্চলে নারীদের জন্য আলাদা ক্ষেত্র তৈরি করেছি। তিনি আরও জানান- নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিনা জামানতে ঋণ ব্যবস্থা করা, নারীদের কর্মসংস্থানের জন্য সেলাই মেশিন প্রশিক্ষণ, বুটিক শিল্প এবং কুটির শিল্পসহ বিভিন্ন হস্তশিল্প গড়ে তোলা হবে।

পারভেজ আরও জানান- শিক্ষার্থীদের জন্য রাঙামাটিতে ডিজিটাল পাঠাগার স্থাপন, ভ্রাম্যমান লাইব্রেরি স্থাপন, আইটি ও ইন্টার্নশীপ ফার্ম স্থাপন, উপজেলাগুলোতে কারিগরী শিক্ষা ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠা করা, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়তা কেন্দ্র, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য রাঙামাটি- চট্টগ্রাম বাস সার্ভিস চালু, রাঙামাটি জেলা সদরে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্য আবাসন ব্যবস্থা এবং রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও রাঙামাটি মেডিকেল কলেজে পার্বত্যবাসীর শিক্ষার্থীদের জন্য ৩০ ভাগ কোটা চালুর জন্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।