মঈন উদ্দীন বাপ্পী । হিলরিপোর্ট

রাঙামাটি: বৈশ্বিক করোনা ভাইরাসের প্রভাবের কারণে অস্থিতিশীল হয়ে পড়ছে রাঙামাটির ভোগ্যপণ্যের বাজার। বিশেষ করে বর্তমান বাজারে আদার দাম উর্দ্ধমুখী হওয়ায় আদা শূন্য হয়ে পড়েছে রাঙামাটি। ব্যবসায়ীরাও এর সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। দাম বাড়ায় হাতে গুণা কয়েকটি দোকানে অল্প পরিমাণে আদা বিক্রি করা হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা বলছে, চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ থেকে আমাদের প্রতিকেজি আদা ২৫০টাকায় ক্রয় করতে হচ্ছে। এরপর পরিবহন খরচ, শ্রমিক খরচ সব মিলে রাঙামাটিতে আদা এনে ৩০০ টাকা থেকে ৩২০টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। পেয়াজ, রসুনের দাম প্রতিকেজি ১৫টাকা করে বেড়েছে।

শনিবার (০২মে) রাঙামাটি শহরের পাইকারী ও খুচরা বাজার ঘুরে এবং ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, গত কিছুদিন আগে বাজারে আদা কেজিতে ২২০ থেকে ২৫০ টাকায় পাওয়া গেলেও তা কেজিতে ৬০-৭০ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে বিক্রি করা হচ্ছে ৩০০-৩২০টাকায়। তবে দাম বেড়েছে পেয়াজ, রসুনেরও। প্রতিটি পন্য ১৫-২০টাকা বেড়েছে।
বর্তমানে বাজারে কেজি প্রতি পিয়াজ বিক্রি করা হচ্ছে ৫৫টাকায়। যা গত সপ্তাহে বিক্রি করা হয়েছিলো ৩৫-৪০টাকায় । রসুন কেজি প্রতি বিক্রি করা হচ্ছে ১৪৫টাকায়। গত সপ্তাহে বিক্রি করা হয়েছিলো ১৩০-১৩৫টাকায়।

জেলা শহরের রিজার্ভবাজার এলাকার ব্যবসায়ী আবু সওদাগর বলেন, আদার দাম বাড়তি। আদার চাহিদা থাকায় বাজারে কয়েককেজি আদা বিক্রি করছি।
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে আমাদের কেজি প্রতি ২৫০টাকা করে আদা ক্রয় করতে হচ্ছে। পরিবহন এবং শ্রমিক খরচ মিলে আমাদের এখানে এনে প্রতিকেজি আদা ৩০০টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।

একই এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুল মোনাফ বলেন, প্রতিকেজি আদা বিক্রি (দেশী আদা) করা হচ্ছে ৩২০টাকায়। করার কিছু নেই। আপনারা দেখেন বাজারে আদার সরবরাহ নেই।

জাহাজ ঘাটার ব্যবসায়ী কাদের স্টোর এর ম্যানেজার শাহেদুল ইসলাম জানান, আদার দাম বাড়ায় আমরা এই সপ্তাহে সরবরাহ করেনি। পেয়াজ এবং রসুন পাইকারী আকারে বিক্রি করছি। প্রতিকেজি পেয়াজ ৫৫টাকায় এবং প্রতিকেজি রসুন ১৪৫টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

শহরের বনরূপা এলাকার ব্যবসায়ী মানিক চন্দ্র দে বলেন, আমাদের করার কিছু নেই। আদার দাম ৩০০টাকা রাখায় ভ্রাম্যমান আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট আমাকে জরিমানা করেছে। তাই আদা বিক্রি বন্ধ রেখেছি।

তিনি ক্ষোভের সাথে বলেন, আমি চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ থেকে যে টাকায় আদা ক্রয় করেছি তা ম্যাজিস্ট্রেটকে দেখিয়েছি। তারপরও তিনি জরিমানা করেছেন। এই ভাবে চললে আমাদের ব্যবসা করা কঠিন হয়ে যাবে।