মঈন উদ্দীন বাপ্পী । হিলরিপোর্ট

রাঙামাটি: তিন পার্বত্য জেলার প্রাণ ভোমরা পাহাড়ি জেলা রাঙামাটি তার রূপ, গুণ এবং বৈচিত্রের সমাহারের জন্য পুরো দেশে আলাদা সুখ্যাতি রয়েছে। এ অঞ্চলের মাটি, পানি, বায়ু এবং আবহাওয়া সব সময় চাষাবাদের অনুকূলে। যে কারণে এইবার সরকার ইতিহাসের প্রথম এ জেলায় কফি ও কাজু বাদাম চাষের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। পাশের পাশ্ববর্তী জেলা খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবান জেলায় অনেক আগে থেকে কফি এবং কাজু বাদাম চাষ শুরু করা হলেও রাঙামাটিতে এটি নয়া উদ্যোগ।

বর্তমান দুনিয়ায় কফির কদর সারাবিশ্বে রয়েছে। যে কারণে কফির চাহিদা বাড়ছে দিনে দিন। চাহিদা রয়েছে কাজু বাদামের। তাই সরকার আমদানী খরচ কমাতে পাহাড়ি জেলা রাঙামাটিতে কফি ও কাজু বাদাম চাষের উদ্যোগ নিয়েছে। যেমন সিন্ধান্ত তেমনি কাজ; ইতিমধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে দেশের অন্যান্য এলাকার ন্যায় এ অঞ্চলে কফি ও কাজু বাদাম চাষে বিনোয়াগ শুরু করা হয়েছে।

স্থানীয় সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বান্দরবানের রোয়াংছড়ি, থানচি এবং রুমা উপজেলায় অনেক আগে থেকে কফি ও কাজু বাদাম চাষ করা হতো। তবে তা বিছিন্ন ভাবে চাষ করা হয়েছে। আর খাগড়াছড়ি জেলা কৃষি গবেষণা কেন্দ্র ২০০১সাল থেকে কফি নিয়ে গবেষণা কার্যক্রম শুরু করে। প্রতিষ্ঠানটি রোবাস্টা গাছের বাগান করেছে।

তারা আরও জানান, সরকার এ খাতকে আয়বর্ধক করতে এবং দেশের মাটিকে কাজে লাগাতে কফি ও কাজু বাদাম চাষের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। দেশের পার্বত্য চট্টগ্রামসহ ১৬ জেলায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে কফি ও কাজু বাদাম গবেষণা, উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্ধ দিয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাঙামাটি অঞ্চলের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা তপন কুমার পাল বলেন, কফি ও কাজু বাদাম চাষ নিয়ে আমরা কৃষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে ফেলেছি। জমি থাকুক বা না থাকুক প্রকৃত কৃষকদেরকে প্রশিক্ষণের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ১০টি উপজেলার ৩০জন করে কৃষককে কাজু বাদাম এবং কফি চাষের উপর একদিনের প্রশিক্ষণ প্রদান করছি। আর কিছু উপজেলায় প্রশিক্ষণ বাকী আছে। করোনা যদি না থাকতো তাহলে আমাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শেষ হয়ে যেতো।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাঙামাটি অঞ্চলের উপ-পরিচালক কৃষ্ণ প্রসাদ মল্লিক জানান, ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে রাঙামাটির ইতিহাসে প্রথমবারে মতো কফি ও কাজু বাদাম চাষ শুরু হয়েছে। এইজন্য জেলার ১০টি উপজেলায় ৩৭টি কফি প্রদর্শনী এবং ৩৫টি কাজু বাদাম প্রদর্শনীর প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। প্রতি কফি প্রদর্শনীতে ৩৩শতক জমিকে একটি প্রদর্শনী ধরে প্রতি প্রদর্শনীতে ১০০টি চারা এবং কাজু বাদাম প্রদর্শনীতে ৫০শতক জমিকে একটি প্রদর্শনী ধরে প্রতি প্রদর্শনীতে ১০০টি করে চারা কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, ১০টি উপজেলার মধ্যে বেশকিছু উপজেলার কৃষকদের মাঝে কাজু বাদামের চারা বিতরণ করে দিয়েছি। বাকী উপজেলার কৃষকদের মাঝে চারা বিতরণ করা হবে। তবে কফির চারাগুলো এখনো বিতরণ করা হয়নি। খুব শিগগরই বিতরণ শুরু করবো।

কৃষি কর্মকর্তা কৃষ্ণ প্রসাদ মল্লিক বলেন, কফির অনেক জাত থাকলেও আমরা দু’টি জাতের চারা সংগ্রহ করেছি। একটি হলো- ভাষ্করা এবং অপরটি হলো-ভিয়েল (৪)। জাত দু’টি ভারত এবং ভিয়েতনাম দেশের। কাজু বাদামের চারা সংগ্রহ করা হয়েছে বান্দরবান জেলার ব্যক্তিমালিকানাধীন বাগান থেকে।

তিনি আরও বলেন, সরকারি এ উদ্যোগ সফল ভাবে সম্পন্ন করা যায় তাহলে কফি ও কাজু বাদাম চাষ করে রাঙামাটির কৃষকরা ভাগ্য বদলাতে পারবে। এইজন্য কৃষকদের মাঝে চারা বিতরণের সাথে গাছের যত্ন নিতে জৈব ও রাসায়নিক সার প্রদান করছি।