মঈন উদ্দীন বাপ্পী । হিলরিপোর্ট

রাঙামাটি: প্রতি বছরের ন্যায় রাঙামাটিতে এবারও প্রধান পশুর হাট-বাজার বসেছে রাঙামাটি শহরের পুরাতন বাস স্টেশন এলাকায়। পবিত্র ঈদুল আযহার আর মাত্র তিনদিন বাকী। কিন্তু এখনো জমে উঠেনি পশুর হাট। প্রতি বছর ঈদুল আযহার এক সপ্তাহ আগে পশুর হাট জমে উঠলেও এই বছর করোনা কেড়ে নিয়েছে হাটের রমরমা আকর্ষণ ।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, শনিবার থেকে পুরাতন বাস স্টেশন এলাকায় গরু তোলা হয়েছে। তবে দাম হাকানো হচ্ছে চড়া দাম। ব্যবসায়ীরা মনে করছে, অন্যান্য বছর ভাল ব্যবসা করতে পারলেও করোনা তাদের ব্যবসাকে গ্রাস করে নিয়েছে। যে কারণে তাদের ব্যবসা ভাল হবে না।

গরু বিক্রেতা পরিমল ঘোষ বলেন, তিনি এইবার হাটে ২০টি গরু তুলেছেন। এই পর্যন্ত মাত্র দু’টি গরু বিক্রি করেছেন। দাম তেমন ভাল পায়নি।

গরু বিক্রেতা জ্যোতিময় চাকমা জানান, তিনি জুরাছড়ি উপজেলা থেকে এইবার ৪টি গরু হাটে তুলেছেন। বড় গরুটি দাম হাকানো হয়েছে ১ লাখ ৩৬হাজার টাকা এবং আরেকটি ১লাখ ২৬হাজার টাকা। বাকী দু’টির মধ্যে একটি ৭০হাজার টাকা এবং আরেকটি ৬৫হাজার টাকা দাম হাকানো হয়েছে।

লংগদু উপজেলার মাইনী এলাকার বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলেন, এইবার তিনি ৫০টি গরু হাটে নিয়ে আসছেন। এখনো বিকিকিনি করা হয়নি। আগামী দু’দিনের মধ্যে বিকিকিনি ভাল হবে বলে আশা করছেন।

হাটের ইজারাদার কর্তৃপক্ষের ম্যানেজার মোকাদ্দেম সায়েম বলেন, আমরা প্রতি বছর এই হাটের ইজারা নিয়ে থাকি। এই বছরও ব্যতিক্রম ঘটেনি। তবে গত দু’দিন মাত্র ৭টি গরু বিক্রি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অন্যান্য বছর এক সপ্তাহ আগে যেখানে হাট জমে উঠে সেখানে এইবার করোনার কারণে হাট জমেনি।

এদিকে করোনা মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে বারবার স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য বলা হলেও হাটে ক্রেতা-বিক্রেতা কেউ স্বাস্থ্য বিধি মানছে না। কারো কারো মাস্ক গলায় ঝুলে থাকতে দেখা গেছে। কেউ বা অবলীলায় মাস্ক ছাড়া চলাফেরা করছে। হাটে হাত ধোয়ার জন্য নেই কোন সাবান-পানির ব্যবস্থা। নিরাপত্তার জন্য সেখানে নেই পুলিশি টহলের জোরদার ব্যবস্থা। পশুর রোগ-বালাই মোকাবিলায় অস্থায়ী পশুর ক্লিনিকের ব্যবস্থা রাখা হয়নি। হাটে কোন মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে কোন ব্যবস্থা রাখেনি প্রশাসন। যে কারণে কোভিট-১৯ এর এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে ডিমেতালে চলছে হাটের ব্যবস্থাপনা।

রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) মো. আরিফুর ইসলাম বলেন, রাঙামাটিতে এইবার সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে দু’টি হাটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মধ্যে পূর্বের ন্যায় জেলা শহরের পুরাতন বাস স্টেশন এলাকায় একটি অপরটি রাঙামাটি মারী স্টেডিয়াম সংলঘ্ন এলাকা। পশুর হাটগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মানতে প্রতিনিয়ত মোবাইল কোট পরিচালনা করা হচ্ছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, হাটে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করার জন্য পৌরসভা এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অসুস্থ পশুকে চিকিসা দিতে হাটে একটি অস্থায়ী পশু ক্লিনিক ব্যবস্থা রাখার জন্য প্রাণী সম্পদ বিভাগ রাঙামাটি অঞ্চলের সংশ্লিষ্ট কর্তাদের অবগত করা হয়েছে।

এনডিসি মো. আরিফুল ইসলাম জানান, হাটে পশু ক্রয় করার জন্য দু’জনের বেশি আসা যাবে না। এছাড়াও বয়স্ক ও ছোট ছেলে-মেয়েরা আসা নিষেধ রয়েছে। হাটে কোন ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে গেলে তাকে দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনাস্থল থেকে নিয়ে আসার জন্য সরকারি-বেসরকারি কয়েকটি এ্যাম্বুরেন্স ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে যোগ করেন এনডিসি।