॥ মঈন উদ্দীন বাপ্পী ॥

রাঙামাটি শহরে যৌথবাহিনী গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিকি চাকমা (২৩) এবং সঞ্জয় চাকমা (২৪) নামের জেএসএস সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র চিকিৎসা শাখার দু’প্রধানকে আটক করেছে। মঙ্গলবার (১৬অক্টোবর) দুপুরে ট্রাইবেল আদম এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটককৃতদের মধ্যে বিকি রাঙামাটি সরকারি কলেজের স্নাতক শেষ বর্ষের ছাত্র। তার গ্রামের বাড়ি লংগদু উপজেলার কাট্টলী এলাকায়। তার বাবা লরেন চাকমা জেএসএস সন্তু গ্রপের একজন সশস্ত্র ক্যাডার। অপরদিকে সঞ্জয়ও একই কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। তার গ্রামের বাড়ি বরকল উপজেলার ঠেগার মুখ এলাকায়।

এসময় তাদের কাছ থেকে সামরিক শাখায় যোগাযোগের জন্য বিকাশ করা পাঁচটি মোবাইল সেট, চিকিৎসা সেবার সরঞ্জমাদী, ঔষুধ, বিভিন্ন হাসপাতালের ডাক্তারদের সাথে যোগাযোগের তালিকা, সশস্ত্র শাখার অসুস্থ, আহত কর্মীদের তালিকা এবং সামরিক কাজে প্রয়োজনীয় জরুরী কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়।

যৌথবাহিনী সূত্রে জানানো হয়- রাঙামাটি শহরে মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপনের মাধ্যমে সেবাদান করার নামে দীর্ঘ বছর ধরে বিকি এবং সঞ্জয় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) সন্তু গ্রপের সশস্ত্র চিকিৎসা শাখার প্রদান হিসেবে রাঙামাটি শহরে কাজ করে যাচ্ছে। তাদের কাজ হচ্ছে জেএসএস সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র শাখার আহত, অসুস্থ সৈনিক এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা প্রদান করা । আর তাদের এ কর্মকান্ডের সাথে সমন্বয়ক হয়ে কাজ করে বাঘাইছড়ি উপজেলার সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র শাখার প্রধান গতি চাকমা ওরফে গতি বাবু।

আটক বিকি এবং সঞ্জয় নিজেরা লেখা-পড়ার পাশাপাশি মাসিক বেতনে জেএসএস’র সশস্ত্র গ্রুপের আহত, অসুস্থ কর্মী এবং তাদের পরিবারদের চিকিৎসা দিয়ে আসছে বলে স্বীকার করেছেন। ২০১৫ সাল থেকে উভয়ই এ কাজে জড়িত বলে সাংবাদিকদের তারা জানান।

এছাড়া বিকির বাবা জেএসএস সন্তু গ্রুপের একজন সশস্ত্র শাখার ক্যাডার এবং বাবার সাহচর্যে বিকি তার বন্ধু সঞ্জয়কে নিয়ে এ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে সাংবাদিকদের কাছে স্বীকার করেন।

রাঙামাটি কোতয়ালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সৌরজিৎ বড়ুয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন এবং আটককৃতদের থানায় নিয়ে এসে মামলা রুজু করা হবে বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা ।