॥ স্টাফ রিপোর্টার ॥

রাঙামাটিতে নিরাপত্তা বাহিনীর ও র‌্যাবের যৌথ অভিযানে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার রাতে ও মঙ্গলবার ভোরে পৃথক অভিযানে তাদের আটক করা হয়েছে বলে নিরাপত্তা বাহিনী ও র‌্যাব-৭ সূত্রে জানা গেছে। আটককৃতরা হলেন, শঙ্খদীশ কুমার বড়–য়া (৪৬) ও দিগন্ত চাকমা (৩১)।

নিরাপত্তাবাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তি জানতে পারেন, মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) সকালে রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলার কুতুকছড়ি এলাকায় কয়েকজন সন্তাসী কাঠ ব্যবসায়ীসহ অন্যান্য ব্যবসায়ীদের নিকট হতে চাঁদা আদায় করছে। এই সংবাদের ভিত্তিতে নিরাপত্তা বাহিনী ও চট্টগ্রামের র‌্যাব-৭ যৌথভাবে ঐ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে শঙ্খদীশ বড়–য়াকে (৪৬) গ্রেফতার করে। এসময় তার কাছ থেকে ইউপিডিএফ ও জেএসএস দলের রেশন, পোষাক এবং ১টি অস্ত্র,৩ রাউন্ড গুলিসহ উদ্ধার করা হয়।

সূত্রে আরও জানা গেছে, সে দীর্ঘদিন ধরে রাঙামাটি জেলার বিভিন্ন এলাকার সন্ত্রাসী বাহিনীর সাথে যোগসাজশে চাঁদাবাজি করে আসছে এবং তার নামে কোতয়ালী থানায় চাঁদাবাজির মামলাও রয়েছে । গ্রেফতারকৃত শঙ্খদীশ বড়–য়া নানিয়ারচর উপজেলার কুতুকছড়ি এলাকার মৃত কালী কুমার বড়–য়ার ছেলে বলে জানা গেছে।

অপরদিকে,ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) দলের সাবেক আহ্বায়ক তপন জ্যোতি চাকমাসহ ৫ জনের হত্যাকান্ডের অন্যতম আসামী এবং ইউপিডিএফ (মূল) দলের সশস্ত্র সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ দিগন্ত চাকমাকে (৩১) গ্রেফতার করেছেন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা।

সোমবার (২মার্চ) রাতে নানিয়ারচর উপজেলার ১৯ মাইল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়েছে বলে নিরাপত্তা বাহিনী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

সূত্রে আরও জানা গেছে, দিগন্ত চাকমা দীর্ঘদিন ধরে নানিয়ারচর উপজেলার ১৭ মাইল, ১৮ মাইল, বেতছড়ি ও কেংগালছড়ি এলাকায় হত্যা,অপহরণ ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপের সাথে জড়িত বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে রাঙ্গামাটি কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর জাহিদুল হক রণি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গ্রেফতার শঙ্খদীশ কুমার বড়–য়াকে কোতয়ালী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি নানিয়ারচর উপজেলার দিশানপাড়া এলাকায় ভূমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পাহাড়ি-বাঙালিদের মাঝে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি করার পরিকল্পনার পেছনে সক্রিয় ভূমিকা, স্থানীয় পাহাড়িদের বাঙালিদের উপর হামলা চালানোর জন্য উস্কে দেয়া এবং সহিংসতার নেতৃত্ব দেয় দিগন্ত চাকমা।

এছাড়াও গত ৪ মে ২০১৮ সালে নানিয়ারচর উপজেলার কেংগালছড়ি এলাকায় ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) দলের সাবেক আহ্বায়ক তপন জ্যোতি চাকমা ওরফে বর্মাসহ ৫ জনের হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত।