॥ মঈন উদ্দীন বাপ্পী ॥

রাঙামাটিতে একদিকে তীব্র লোডশেডিং অন্যদিকে ভ্যাপসা গরমে চরম দুর্ভোগে পড়েছে রাঙামাটি বাসিন্দারা। লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে সাধারণ মানুষ চলতি বছরের ৩মে রাস্তায় নেমে মানববন্ধন করেছে। কিন্তু বিদ্যুৎ বিভাগের এ ব্যাপারে কোন ভ্রক্ষেপ নেই।

বিদ্যুতের এমন বেহাল দশায় বেসরকারি মোবাইল অপারেটরগুলোর টাওয়ারে বিদ্যুৎ না থাকায় রাঙামাটিতে বেশির ভাগ সময় নেটওয়ার্ক বিছিন্ন থাকে। এতে দিনের অধিকাংশ সময় জেলার বাসিন্দারা যোগাযোগে বিছিন্ন হয়ে পড়ছে। বিদ্যুতের এমন বেহাল হওয়ার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দিনদিনই বাড়ছে। বিদ্যুৎ বিভাগের এমন কান্ডজ্ঞানহীন আচরণে নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে জেলার স্থানীয় পত্রিকা, অনলাইন পত্রিকাগুলোতে নিউজ প্রকাশে চরম বেগ পেতে হচ্ছে।

বিদ্যুতের নাজুক অবস্থা জানতে বিদ্যুৎ বিভাগের নাম প্রকাশে অনিশ্চুক একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে কথা হয়। তাদের সাথে আলোচনায় কেচোঁ খুঁড়তে গিয়ে সাপ বের হয়ে আসে। যে গল্প অবিশ্বাস্য, তবে বাস্তব।

তাদের ভাষ্য,বিভাগটিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গ্রুপিং, বিভাগটি জুড়ে ঠিকাদারদের কঠিন সিন্ডিকেট এবং গ্রুপিং, ঠিকাদারদের সাথে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাসোজ থাকায় বিদ্যুতের এমন বেহাল দশা। এসব অপকর্মের কারণে পুরো বিভাগের চিত্র বদলে গেছে।

এছাড়া বিভাগটির একজন কর্মকর্তার সাথে কথিত কয়েকজন সাংবাদিকদের রয়েছে অর্থ বাণিজ্য সম্পর্কের অভিযোগ। গণমাধ্যম কর্মীরা এ কর্মকর্তার সাথে সাক্ষাত করতে গেলে অনেক সময় সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের সম্মুখীন, এক্রিডিটেশন পার্স খোঁজা, তথ্য দিতে গড়িমসি করে কথিত সাংবাদিকদের প্রভাব বলয়ের জাহির করার চেষ্টা চালায় এ কর্মকর্তা। অতীতে অনেক গণমাধ্যমকর্মী বিভাগটির অনিয়ম, দুর্নীতি নিয়ে লেখার কারণে ওই কর্মকর্তা ওকিল নোটিশ পাঠনোর মতো নজির সৃষ্টি করেছেন।

এদিকে জেলার স্থানীয় বাসিন্দা কুদ্দুস জানান, সরকার বলছে দেশে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে, কিন্তু যে হারে রাঙামাটিতে লোডশেডিং হচ্ছে তাতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের একফোটা চিত্র রাঙামাটিতে দেখতে পাচ্ছি না।

বিদ্যুতের এমন সমস্যায় এবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও নিন্দার ঝড় বইছে।

  • Facebook
  • Twitter
  • Print Friendly

নাছির উদ্দীন সোহেল নামের এক যুবক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেইসবুকে লিখেছেন, বর্তমান সরকারের বিদ্যুতের সব অর্জন ধুলিসাৎ করতে রাঙামাটি বিদ্যুৎ বিভাগই যথেষ্ট। দিনের পর দিন কাজের নামে বিদ্যুৎ বন্ধ রাখা ঠিকাদারী কাজে বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত মনোযোগ রাঙামাটি বাসীকে নাকাল করে ছেড়েছে।

কারণ-অকারণে বিদ্যুৎ চলে যায় তার কোন জবাবদিহিতা নাই অথচ বিদ্যুৎ বিল আগের মাস থেকে কখনও কম আসে না পারলে বেশি আসে। সবাই অদ্ভুদভাবে এ অন্যায়ের কোন প্রতিবাদ করছে না।

রাঙামাটি প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় পত্রিকা দৈনিক রাঙামাটি পত্রিকার সম্পাদক আনোয়ার আল হক বলেছেন, রাঙামাটি বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগে বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। ট্রেড ইউনিয়নের কাছে জিম্মি এই বিভাগ এখন চতূর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের মর্জি মাফিক চলে।

সাংবাদিকদের এ নেতা আরও বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগ লাইন সচল রাখার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা- কর্মচারীদের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে বিদ্যুতের সমস্য দিন দিন বেড়ে চলেছে। পাহাড়ে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতের লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ বরাদ্ধ দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্টদের দুর্বলতার কারণে তার সঠিক ব্যবহার তো হচ্ছেই না। উল্টো বিনাকাজে লোপাট হয়ে যাচ্ছে সরকারের কোটি কোটি টাকা।

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বিতরণ বিভাগ রাঙামাটি শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ কান্তি মজুমদার জানান, লোডশেডিং নয়, লাইনের ত্রুটির কারণে বিদ্যুতের সমস্যা হচ্ছে। এক প্রশ্নের জবাবে প্রকৌশলী আরও বলেন, রাঙামাটিতে ভূমি ধসের কারণে হাটহাজারি থেকে আসা লাইনটি বিছিন্ন রয়েছে।

দীর্ঘদিন লাইন বিছিন্ন থাকার সম্পর্কে তিনি জানান, এ ব্যাপারে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে এবং বোর্ড সভায়ও একাধিকবার এ বিষয়টি সমস্যা সমাধানের জন্য বলা হয়েছে।