মঈন উদ্দীন বাপ্পী, হিলরিপোর্ট

রাঙামাটি: পাহাড়ি জেলা রাঙামাটি সারাদেশের তুলনায় শিক্ষাক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে ছিলো। এখানে উচ্চ শিক্ষার কোন প্রতিষ্ঠান ছিলো না। দরিদ্র জনগোষ্ঠির সন্তানদের জেলার বাইরে গিয়ে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করা অত্যন্ত দুরূহ ছিলো।

বর্তমান আ’লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর পরই পিছিয়ে পড়া পাহাড়ের জনগোষ্ঠির সন্তানদের কথা ভেবে দুর্গম পাহাড়ের প্রতিটি আনাচে-কানাচে স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠা করে। প্রতিষ্ঠা করা হয়- সবচেয়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাঙামাটি মেডিকেল কলেজ’।

রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়:

রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রাবিপ্রবি) পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। আ’লীগ সরকার তৎকালীন সময়ে রাঙামাটিতে দেশের এ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করলেও পরবর্তী সরকার এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে আ’লীগ সরকার আবারো ক্ষমতায় এসে পুনরায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু করে।

ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি ( কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ), বায়োলজিক্যাল সায়েন্স (ফরেস্ট্রি এন্ড এনভায়রনমেন্ট সায়েন্স) এবং বিজনেজ স্টাডিস ( ব্যবস্থাপনা বিভাগ, ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ) তিনটি অনুষদের মাধ্যমে ২০১৪-২০১৫ শিক্ষাবর্ষে ভর্তির কার্যক্রম শুরু করে। সরকার বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পসের জন্য জেলা সদরের ঝগড়াবিল মৌজায় ৬৪ একর জায়গা অধিগ্রহণ করে ২২৭কোটি ব্যয়ে একটি মাস্টার প্লান তৈরি করে।

রাঙামাটি মেডিকেল কলেজ:

বর্তমান সরকার আরেকটি চমক দেখিয়েছে রাঙামাটিতে মেডিকেল কলেজ স্থাপন করে। ২০১৫সালের ১০জানুয়ারী থেকে রাঙামাটি সদর হাসপাতালে কার্ডিয়াক কেয়ার ইউনিটে চারটি ব্যাচের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা হয়। এখানে ১বছর মেয়াদী হাতে-কলমে শিখনসহ স্নাতক পর্যায়ে ৫বছর মেয়াদী এম.বি.বিএস শিক্ষাক্রম চালু রয়েছে। প্রতি বছর ৫১জন শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হয়।

মেডিকেল কলেজটি জন্য সরকার জেলা শহরের ‘সুখী নীলগঞ্জ’ (রাঙাপানি) এলাকায় প্রস্তাবিত নিজস্ব জমি অধিগ্রহণ করেছে। শিক্ষার্থীদের জন্য দু’টি ছাত্রীবাস এবং তিনটি ছাত্রীবাস রয়েছে। অধ্যক্ষ এবং কলেজের অন্যান্য স্টাফদের জন্য বাংলো রয়েছে। কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য মাইক্রোবাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

রাঙামাটি সরকারি কলেজ:

১৯৬৫সালের পহেলা জুলাই রাঙামাটি সরকারি কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়। কলেজটি বাংলাদেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ। কলেজটিতে স্বাধীনতার পর থেকে শিক্ষার ক্ষেত্রে তেমন কোন উন্নতি না ঘটলেও বর্তমান আ’লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে দেশের এ প্রাচীন কলেজটির দিকে সুনজর দেয়। এ সরকারের আমলে বর্তমানে কলেজে ১৭টি বিষয়ে অনার্স, মাস্টার্স চালু করা হয়েছে। কলেজে ১৩২ শয্যার ছাত্রীবাস, ৫তলা বিশিষ্ট পরিক্ষা হল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।

এছাড়াও রাজস্থলী উপজেলা কলেজ সরকারিকরণ, বাঙ্গালহালিয়া কলেজ সরকারিকরণ এবং নানিয়ারচর কলেজ স্থাপন করা হয়েছে। নির্মাণ করা হয়েছে অসংখ্য মাধ্যমিক, প্রাথমিক স্কুল।

রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাঙামাটি মেডিকেল কলেজ বাস্তবায়ন কমিটির অন্যতম নেতা জাহাঙ্গীর আলম মুন্না বাংলানিউজকে বলেন, আমাদের জন্য বড় সারপ্রাইজ হলো-বর্তমান সরকার আমাদের এলাকায় দু’টি বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রাঙামাটি মেডিকেল কলেজ) প্রতিষ্ঠা করেছে। দুর্গম এলাকায় আজ শিক্ষার আলো পৌছে গেছে। এটাই সরকারের বড় সাফল্য।

মহিলা সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও রাঙামাটি জেলা মহিলা আ’লীগের সভানেত্রী ফিরোজা বেগম চিনু বাংলানিউজকে বলেন, আমি এমপি থাকা অবস্থায় রাঙামাটির শিক্ষার উন্নয়নে জননেত্রী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে যতবার অনুরোধ করেছি ততবার তিনি আমার কথা রেখেছেন। রাঙামাটিতে শিক্ষা ক্ষেত্রে নিরব বিপ্লব চলছে বলে যোগ করেন।

খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও রাঙামাটি জেলা আ’লীগের সভাপতি দীপংকর তালুকদার এমপি বাংলানিউজকে জানান, রাঙামাটি শিক্ষা ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে ছিলো। বর্তমান আ’লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে রাঙামাটিতে শিক্ষার বিপ্লব ঘটিয়েছে। অতীতে কোন সরকারের পক্ষে তা করা হয়নি।