॥ মঈন উদ্দীন বাপ্পী ॥

 পর্যটন নগরী রাঙামাটিতে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে ৭০জনকে। বৃহস্পতিবার (১৯মার্চ) বিকেলে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ এবং উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগগুলোর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে

সংশ্লিষ্ট সূত্রটি থেকে জানা যায়, বিদেশ ফেরত রাঙামাটি শহরে ১১জনকে, কাপ্তাই উপজেলায় ৩৪জনকে, বাঘাইছড়ি উপজেলায় ২০জনকে এবং কাউখালী উপজেলায় ৫জনকে হোম কোয়ান্টোইনে রাখা হয়েছে।

রাঙামাটি জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত রাঙামাটি শহরে ১১জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। বাকীদের ব্যাপারে জানার জন্য স্বাস্থ্য বিভাগ কাজ করছে।

কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পহেলা মার্চ থেকে ১৮মার্চ পর্যন্ত বিদেশ ফেরত ৩৪জন প্রবাসি আসে কাপ্তাই উপজেলায়। তাদের সকলকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।

এদের মধ্যে চন্দ্রঘোনা এলাকায় ১২জন এবং কাপ্তাই সদরে ২২জন রয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ তাদের ১৪দিন নিজ ঘরে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ প্রদান করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাপ্তাই উপজেল স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: মাসুদ আহমেদ চৌধুরী।

ডা: মাসুদ বলেন, আমরা উপজেলা প্রশাসনের সাথে কথা বলে চারদিকে খোঁজ খবর নিচ্ছি। এজন্য স্থানীয়দেরর সহযোগিতা কামনা করছি। বিদেশ থেকে যারা আসবে তাদের ব্যাপারে আমাদের যেন তথ্য দেওয়া হয়।

কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কাউখালীতে ১৩জন বিদেশ ফেরত ব্যক্তি এসেছে। তাদের মধ্যে থেকে ৫জনকে হোম কোয়ারেন্টইনে রাখা হয়েছে। বাকীদের ব্যাপারে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: প্রদীপ কুমার নাথ বলেছেন, কাউখালীতে বিদেশ ফেরত ১৩ আসলেও ৫জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। বাকীদের ব্যাপারে পুলিশ খোঁজ চালাচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয়রা সহযোগিতা করলে তাদের এ কাজ আরও সহজ হবে বলেও জানান এ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।

বাঘাইছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০জন প্রবাস ফেরত বাঘাইছড়িতে ফিরেছে। তাদেরকে স্থানীয় মেম্বারদের সহযোগিতায় কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: মো. ইফতেখার বলেন, বিদেশ ফেরত ব্যক্তিরা যদি হোম কোয়ারেন্টাইনে না থেকে যদি আইন অমান্য করে অযথা ঘুরাফেরা করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রাঙামাটির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মো. ছুফি উল্লাহ বলেন, এয়ারপোর্টের তথ্য মতে রাঙামাটিতে ২৪৩জন বিদেশ ফেরত প্রবাসী ফিরেছেন। তাদের বিষয়ে পুলিশ খোঁজ নিচ্ছে।

কারণ অনেকে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বসবাস করতে পারে। তাই তাদের ব্যাপারে খোঁঁজ নিতে পুলিশ মাঠে কাজ করছে। তাদের এ কাজে স্থানীয়দের সহযোগিতার কামনা করেন পুলিশের এ কর্মকর্তা।

রাঙামাটি সিভিল সার্জন ডা: বিপাশ খীসা বলেন, করোনা সচেতনায় আমাদের স্বাস্থ্য বিভাগের মেডিকেল টিম মাঠে কাজ করছে। আমি নিজেও মাঠে নেমে পড়েছি।

সিভিল সার্জন আরও বলেন, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী রাঙামাটি শহরে প্রবাস ফেরত ১১জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। জেলার অন্যান্য উপজেলায় বিদেশ ফেরত কতজন হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে সে ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগগুলো থেকে এখনো পূর্ণাঙ্গ তথ্য আমাদের হাতে এসে পৌছানি। আসলে আরও বিস্তারিত জানানো হবে।

রাঙামাটি জেলা প্রশাসক (ডিসি) একেএম মামুনুর রশীদ বলেছেন, এয়ারপোর্টের তালিকা অনুযায়ী রাঙামাটিতে ২৪৩জন প্রবাসি প্রবেশ করেছে। তারা কে কোথায় রয়েছে সে ব্যাপারে খোঁঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।

ডিসি আরও বলেন, পুরো জেলা জুড়ে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এবং স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে করোনা মোকাবেলায় এবং সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য লিফলেট এবং মাস্ক বিতরণ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।