॥ স্টাফ রিপোর্টার ॥

বনবিভাগের সঙ্গে যোগসাজশে রাঙামাটি থেকে অবৈধভাবে কাঠবোঝাই জীপগাড়ি নিয়ে চট্টগ্রাম যাওয়ার পথিমধ্যে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তায় পাশে একটি ঘরের ভেতরে ঢুকে যায়। এতে ঘটনাস্থলে ৪ জন ইটভাটার শ্রমিক নিহত হন।

বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) ভোর ৪টায় রাঙামাটি চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নে এই ঘটনা ঘটে। নিহত শ্রমিকদের বাড়ি নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলায় বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বেপরোয়া গতির চাঁদের গাড়ি জীপটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঘুমন্ত ওই শ্রমিকদের ওপর উঠে পড়ে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ ভূঁইয়া বলেন, রাঙামাটি থেকে কাঠ বোঝাই জীপগাড়ি বেপরোয়া গতিতে চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছিলো। ভোর চারটার দিকে রাঙ্গুনিয়া পৌঁছলে জীপটির নিয়ন্ত্রণ হারান চালক। এসময় সেটি রাস্তার পাশের একটি ঘরে ঢুকে পড়ে।

ওসি বলেন, এতে ওই ঘরে ঘুমিয়ে থাকা চার জন শ্রমিক জীপ গাড়ির চাপায় সঙ্গে সঙ্গেই মারা যান। খবর পেয়ে পুলিশ মোট চারজনের মৃতদেহ উদ্ধার করে।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, এদের সবার বাড়ি নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায়। যে স্থানে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে আর আশপাশে বেশ কয়েকটি ইটভাটা রয়েছে। ফলে ধারণা করা হচ্ছে, নিহতরা সবাই ইটভাটার শ্রমিক।

পার্বত্যঞ্চলে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ও প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রতিদিন কয়েকশ’ কোটি টাকার কাঠ অবৈধভাবে পাচার করে অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট৷ অথচ সরকার কাঠ পাচার নিষিদ্ধ করেছে। সরকারি কতিপয় কর্মকর্তা ও অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এতে চাঁদার টাকা আদায় করে লাভবান হচ্ছে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ও সরকারি কতিপয় কর্মকর্তা সহ অসাধু ব্যবসীয় সিন্ডিকেট।

সম্প্রতি লক্ষ্যণীয়ভাবে দেখা যায়, যেসকল গাড়িগুলো কাঠ বহন করে থাকে তারা বেশিরভাগ সময় বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে থাকেন। এর কারণ হিসেবে জানা গেছে, এই লাইনের প্রায় ট্রাক ও জীপ গাড়িগুলোর কোন বৈধ কাগজপত্র নেই৷ চালকদের নেই ড্রাইভিং লাইসেন্সও!

আরো জানা যায়, এই সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত প্রায়ই পাহাড়ে সন্ত্রাসীদের সোর্স হিসেবে কাজ করে। বেশিরভাগ গাড়িচালক ও কাঠ-ফার্নিচার ব্যবসায়ী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সোর্স হিসেবে কাজ করে। এইজন্য এদের প্রচুর দাপট থাকে সড়কে৷