॥ স্পোর্টস রিপোর্টার ॥

রাঙামাটির ক্রিকেট পাগল নাছির উদ্দীন সোহেল। ক্রিকেট ঘিরে যার ধ্যান, জ্ঞান। যার চিন্তা-চিতনায়, মগজে-মননে সারাক্ষণ জুড়ে থাকে ক্রিকেট।

ক্রিকেট পাগল এ মানুষটা মাঠে পড়ে থাকতে ভালবাসেন। ক্রিকেটার হিসেবে খেলা ছেড়ে দিলেও ক্রিকেট তাকে ছাড়তে পারেনি। তাই রাঙামাটির তৃণমূল পর্যায় থেকে ক্রিকেটার তুলে আনতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন। নিজের হাতে গড়ে তুলেছেন কনফিডেন্স ক্রিকেট একাডেমী নামের একটি প্রতিষ্ঠান।

গত ৬ বছর ধরে এ প্রতিষ্ঠান থেকে অসংখ্য ক্রিকেটার বেরিয়েছে। যারা অনুর্ধ্ব ১৪, ১৬ ও ১৮ জেলা দলে নিয়মিত খেলে প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন।

ক্রিকেট পাগল মানুষ সোহেল একান্ত সা¦ক্ষ্যৎকারে হিল রিপোর্টকে বলেছেন, রাঙামাটির স্থানীয় ক্রিকেট লীগ ও জেলা ক্রিকেট দল মিলিয়ে খেলেছেন ১৮ বছর ধরে। যুব দল ও জেলা ক্রিকেট দলে খেলেছেন প্রায় এক দশক।

সর্বশেষ ২০১০ সালে জাতীয় ক্রিকেট প্রতিযোগিযোগিতায় রাঙামাটি জেলা ক্রিকেট দলের অধিনায়কত্ব করে অবসরে নিয়েছেন। এরপর বিসিবির আম্পায়ার কোর্স ও ক্রিকেট কোচিং কোর্স শেষ করে স্থানীয় লীগ ও ক্রিকেট কোচিংয়ে মনযোগী হয়েছেন। স্থানীয় ক্রিকেটকে আরও এগিয়ে নিতে কনফিডেন্স ক্রিকেট একাডেমী নামের একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন।

তিনি আরও বলেন, খেলোয়ার হিসেবে দীর্ঘ ১৮বছরে ক্রিকেটের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় তার দল লীগ চ্যাম্পিয়ান ও রানার্সআপ হয়েছেন অসংখ্যবার। নিজের অধিনায়কত্বে ২০০৭ সালে অভিলাষ ক্রিকেট ক্লাবকে রাঙামাটি ক্রিকেট লীগ চ্যাম্পিয়ান করিয়েছেন। ২০০৮ সালে তার অধিনায়কত্বে ব্রার্দাসকে রানার্সআপ করিয়েছেন ক্রিকেট লীগে।

২০০৭ ও ২০০৮ অধিনায়কত্ব করে রাঙামাটি পৌরসভাকে টানা দুইবার চ্যাম্পিয়ান করিছেন টি/২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্টে। ২০০৯ সালে রাঙামাটি অনুর্ধ্ব ১৬ ক্রিকেট লীগে তার কোচিংয়ে অভিলাষ ক্রিকেট ক্লাব চ্যাম্পিয়ন হয়। ২০১০ সালে টি/২০ টুর্নামেন্টে অভিলাষ ক্রিকেট ক্লাব রানার্সআপ হয়। ২০১৪ সালে আরসিসি একাদশ টি/২০ লীগে রানার্সআপ হয় তার কোচিংয়ে।

এরপর টানা গত তিন বছর তার কোচিংয়ে রাঙামাটি ক্রিকেট লীগে ২০১২-১৩ সালে অভিলাষ চ্যাম্পিয়ান, ২০১৩-১৪ অভিলাষ রানার্সআপ ও ২০১৬ অভিলাষ ক্রিকেট ক্লাব লীগ চ্যাম্পিয়ান হয়।

এছাড়া গত বছর ২০১৭ সালে জাতীয় ক্রিকেট লীগে কর্মকর্তা হিসেবে রাঙামাটি জেলা দলকে প্রথমবারের মত মৌলভীবাজার ভেন্যুতে চ্যাম্পিয়ান করে জাতীয় ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় চুড়ান্ত পর্যায়ে পোঁছে দিয়েছি। স্বপ্নের শিখড়ে পৌছাতে এখনো নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন রাঙামাটি কনফিডেন্স ক্রিকেট একাডেমী মাধ্যমে।

এ মানুষটি এবার ২৯ সেপ্টেম্বর জেলা ক্রীড়া সংস্থার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সদস্য পদে নির্বাচন করছেন। তার প্রতীক হলো চশমা। কার্যকরী কমিটির সদস্য পদে নির্বাচিত হয়ে তিনি রাঙামাটির ক্রীড়াঙ্গনকে আরও অনেক দূর এগিয়ে নিতে চান, এজন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।