মঈন উদ্দীন বাপ্পী। হিলরিপোর্ট

রাঙামাটি: বিশ্বেব্যাপী করোনার প্রভাবে আতঙ্ক বিরাজ করছে। মরছে মানুষ, বাড়ছে দু:চিন্তা। তার করাল গ্রাস এসে পড়েছে বাংলাদেশেও। তাই সারাদেশের চলছে অঘোষিত লকডাউন। সেই ধারাবাহিকতা পাহাড়ি জেলা রাঙামাটিতে চলছে। আর এ প্রভাবে রাঙামাটি শহরের হাট-বাজারগুলোও প্রাণ হারাতে বসেছে।

দ্রব্যমূল্যে হাতের নাগালে থাকলেও বেশির ভাগ মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ায় বাজারে যাচ্ছে না। এছাড়াও বন্ধ রয়েছে যান-বাহন চলাচল। প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। কেনার সামর্থ্য থাকলেও বেহিসেবি খরচ করছে না কোন মানুষ। যে কারণে হাট-বাজারের এমন করুণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা মনে করছেন।

তারপরও পেটের তাগিদে ব্যবসায়ীরা বিক্রির আশায় সীমিত আকারে বাজার ব্যবস্থা চালু রাখলেও ক্রেতা না থাকায় হাত গুটিয়ে বসে আছেন তারা। চেহেরায় তাদের মলীনের ছাপ পড়েছে। দু:চিন্তা ভর করেছে তাদের।

শনিবার (০৪এপ্রিল) সন্ধ্যায় জেলা শহরের বনরূপা বাজারে গেলে দেখা যায়- বাজারের নিদারুণ করুণ পরিস্থিতি। বাজাওে যথেষ্ট পরিমাণ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রী রয়েছে। কোন কিছুর কমতি নেই। কিন্তু বাজারে ক্রেতা না থাকায় ব্যবসায়ীরা অলস সময় পার করছেন।

এদিকে বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ললিত আলু বর্তমানে কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ২২টাকা, পূর্বে ছিলো ২৬ টাকা, দেশী আলু কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ৩০টাকা, পূর্বে ছিলো ৩৫টাকা, টমেটো কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ২০টাকা, পূর্বে ছিলো ২৫টাকা, শসা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ২৫টাকা, পূর্বে ছিলো ৪০টাকা, ফুলকপি কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ৪০টাকা, পূর্বে ছিলো ৬০টাকা, তিত করলা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ৫০টাকা, পূর্বে ছিলো ৬০টাকা, দেশি শিম কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ৩০টাকা, পূর্বে ছিলো ৪০টাকা, বরবটি কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ৪০টাকা, পূর্বে ছিলো ৬০টাকা, বাঁধাকপি পিস প্রতি বিক্রি হচ্ছে ১৫টাকা, পূর্বে ছিলো ২০টাকা, কাঁচা মরিচ কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ৩০টাকা, পূর্বে ছিলো ৬০টাকা, পেঁপে কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ৫০টাকা, পূর্বে ছিলো ৬০টাকা, চিচিঙ্গা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ৩০টাকা, পূর্বে ছিলো ৫০টাকা, পিঁয়াজ কেজিতে বিক্রি করা হচ্ছে ৪০টাকা, পূর্বে ছিলো ৫০টাকা এবং ভাল মানের পেঁয়াজ কেজিতে বিক্রি করা হচ্ছে ৫০টাকা, পূর্বে ছিলো ৬০টাকা।

তবে গাজরের দাম পূর্বের ন্যায় স্থিতি থাকলেও বেগুনের দাম কেজিতে ৫টাকা বেড়েছে। গাজর কেজিতে ২৫টায় বিক্রি করা হচ্ছে। আর বেগুন পূর্বে ২৫টাকা থাকলে কেজিতে ৫টাকা বেড়ে ২৫টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। লেবুর দাম কমেনি। জোড়া বিক্রি করা হচ্ছে ৪০টাকায়।

এদিকে পাইকারী মূল্যে লাল ডিম ১০০টি ৭৮০টাকায় বিক্রি করা হলেও বর্তমানে দাম কমে ৬৫০টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাইকারী মূল্যে সাদা ডিম ১০০টি ৭৭০টাকায় বিক্রি করা হলেও বর্তমানে দাম কমে ৬৪০টাকায় বিক্রি হচ্ছে

এছাড়াও লাল ডিম (১২টি) ডজনে ১০০টাকা বিক্রি করা হলেও বর্তমানে ডজন প্রতি একটি বেড়ে ১৩টি এক ডজন ধরে ১০০টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে এবং সাদা ডিম পূর্বে ১৩টি ডজন ধরে ১০০ টাকায় বিক্রি করা হলেও বর্তমানে ১৪টি এক ডজন ধরে ১০০টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

বনরূপা বাজারের সবজি ব্যবসায়ী মো. বেলাল জানান, কি করবো কিছু বুঝে উঠতে পারছি না। দ্রব্যমূল্যে ক্রেতাদের হাতের নাগালে থাকলেও ক্রেতারা বাজারে আসছে না। তাই প্রতিদিন অনেক শাক-সবজি পঁচে যাচ্ছে। কোন রকমে পুঁজির ব্যায় তুলতে পারলে বাঁচি।

একই বাজারের আরেক সবজি ব্যবসায়ী বিজয় পাল জানান, ক্রেতা না থাকায় আমাদের মাথায় বাজ পড়েছে। এতটাকা ব্যায় করে পন্য-সামগ্রী ক্রয় করেছি, সেই পরমাণ ক্রেতা না থাকায় বউ-বাচ্চা নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছি।

ডিম ব্যবসায়ী সালাউদ্দীন বলেন, আগে যে হারে ডিম বিক্রি হতো এখন সে পরিমাণে বিক্রি নেই। দু:চিন্তায় সময় ক্ষেপন করছি।

আরেক ডিম ব্যবসায়ী মো. নাছির বলেন, প্রতিদিন গড়ে আমরা দৈনিক ১০-১৫হাজার ডিম বিক্রি করতাম। এখন ৩হাজার ডিম বিক্রি করতে আমাদের হিমসিম খেতে হচ্ছে। এছাড়া পণ্য পরিবহন ভাড়াও বেশ বেড়েছে।