॥ স্টাফ রিপোর্টার ॥

রাঙামাটি জেলায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের জন্য বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর উড্ডয়ন সময়কে অজুহাত হিসেবে দেখালেন রাঙামাটি বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ কান্তি মজুমদার। জেলার আইন শৃঙ্খলা সভায় উপস্থিত সদস্যদের পক্ষ থেকে রাঙামাটির অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও ঘন ঘন লোড শেডিং এর বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হলে, নির্বাহী প্রকৌশলী জানান “ শুধুমাত্র কাপ্তাই থেকে আসা ৩৩কেভি বিদ্যুৎ লাইন দিয়ে গোটা রাঙামাটি কাভার দেওয়া সম্ভব নয়।

এ সময় তিনি বলেন, কাউখালীতে বেতবুনিয়া ভু-উপগ্রহ কেন্দ্রকে বঙ্গবন্ধু স্যাটালাইট-১ এর গ্রাউন্ড স্টেশন হিসেবে নির্বাচন করার কারণে এবং স্যাটেলাই উৎক্ষেপণের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ওই কেন্দ্রে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা থাকায় সেই চাহিদা সামাল দিতে গিয়ে রাঙামাটি শহরে বিদ্যুৎ বিভ্রাট বেড়ে গেছে।”

রোববার (১২ মে) রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মাসিক আইনশৃঙ্খলার সভায় এই মত ব্যক্ত করেন তিনি। এ সময় উপস্থিত সদস্যদের অনেকেই বিষয়টি অযৌক্তিক বলে আখ্যায়িত করলেও জাতির গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়টি চলে আসায় মুখ ফুটে তেমন কিছু বলতে চাননি।

তবে তারা মত ব্যক্ত করেন যে, এখনও স্যাটেলাই কক্ষপথে স্থিরই হয়নি। পূর্ণাঙ্গভাবে এই স্যাটেলাইট সিগনাল পাঠানো শুরু করলে তবে কি রাঙামাটির বিদ্যুৎ সমস্যা আরো মারাত্মক আকার ধারণ করবে? এ সময় অবশ্য জাতীয় সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণ হিসেবে এমন খোড়া অজুহাতের বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

তিনি বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের উদ্দেশ্যে বলেন, তাড়াতাড়ি বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করুন। জনপ্রতিনিধি হিসেবে জনগণের কাছে আমাদের জবাবদিহিতা করতে আমাদের। এই অবস্থা চলতে থাকলে আগামীতে নৌকার ভোট কমে যাবে। এসময় সভায় উপস্থিত বেশ কয়েকজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন।

গত বেশ কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টিপাতের কারণে কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে করে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন বাড়লেও বিদ্যুতের ভোগান্তি থেকে রেহাই পাচ্ছে না রাঙামাটিবাসী। বর্তমানে জেলার প্রায় সকল সরকারি বেসরকারি অফিস প্রযুক্তি নির্ভর হওয়ায় বিদ্যুতের অভাবে তাদের কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে।

এছাড়াও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। এবিষয়ে জেলার বনরুপার এক ব্যবসায়ী বেশ ক্ষোভের সাথে জানান, সামান্য বৃষ্টি বা একটু বাতাস হলেই বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে, এরপর ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎ ছাড়াই থাকতে হয় তাদের। এছাড়াও প্রতিনিয়ত লোডশেডিং, সঞ্চালন লাইনে সংস্কার, ত্রুটি অপসারণ ও পুনঃসংযোগ স্থাপনসহ অব্যাহত বিভিন্ন সমস্যার অজুহাত দেখিয়ে প্রায় সময় বিদ্যুৎ বন্ধ রাখা হয়।

স্থানীয়দের মতে, রাঙামাটির বিদ্যুতের এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের দায়িত্বে অবহেলাসহ নানা অনিয়ম দুর্নীতিও রয়েছে। স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন নানা অজুহাত দেখালেও প্রচুর বিদ্যুৎ চুরির ঘটনা ঘটছে। এছাড়া স্থানীয়রা এও জানান যে, রাঙামাটিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রেখে চট্টগ্রামে বিভিন্ন গার্মেন্টস ও ফ্যাক্টরির সঙ্গে গোপন আঁতাতের মাধ্যমে একটি চক্র মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

রাঙামাটি প্রেসক্লাবের সেক্রেটারী আনোয়ার আল হক বলেন, রাঙামাটিতে বিদ্যুৎ বিভ্রাট এখন চরমে, বিদ্যুতের এই অবস্থার কারণে সংবাদকর্মীরা ঠিকমত নিজেদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারছে না। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কারণে এ অঞ্চলের প্রায় সকল মানুষই কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, হারিয়েছে তাদের বাস্তভিটা। সেই প্রকল্প থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সারা বাংলাদেশ আলোকিত করলেও পূরণ হচ্ছে না স্থানীয়দের সামান্য চাহিদাটুকু।