॥ মঈন উদ্দীন বাপ্পী ॥

রাঙামাটির বৌদ্ধমন্দিরগুলোতে সেনাবাহিনীর কর্মকতারা শান্তির বার্তা পৌছে দিচ্ছেন। কঠিন চীবর দান উপলক্ষ্যে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সেনা কর্মকতারা এ মহতি উদ্যোগ হাতে নিয়েছেন। এরই পরিপক্ষিতে সম্প্রতি গত ২৫অক্টোবর রাঙামাটির উলুছড়ি গ্রামের আলুটিলা ছাবা বৌদ মন্দিরে স্বয়ং অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শান্তির বার্তা পৌছে দিলেন- রাঙামাটি জোনের জোন কমান্ডার লে.কর্ণেল মোহাম্মদ রেদওয়ানুল ইসলাম, এসজিপি, এসইউপি।

ওইদিন অত্র পাড়ার কারবারী বিধান চাকমা জোন কমান্ডারকে সন্মানের সাথে বরণ করে জোন কমান্ডারের আগমনকে সুস্বাগত জানান এবং উপস্থিত সকল পূন্যার্থীরা স্বাগতধ্বনীতে মুখরিত করে জোন কমান্ডারকে অথিতির আসনে সন্নিবেশ করান।

ধর্মীয় সভায় জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্ণেল মোহাম্মদ রেদওয়ানুল ইসলাম, এসজিপি, এসইউপি, পিএসসি বলেন- সেনাবাহিনী কোন অন্যায় করেনা, কোন অন্যায়কে মেনে নেয় না। সেনাবাহিনী রাষ্ট্রের একটি সুশৃঙ্খল দল।

সেনা কর্মকর্তা আরও বলেন- ১৯৭৪সাল থেকে সেনাবাহিনী পাহাড়ের উন্নয়নে ঘাম জড়িয়ে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছে। অন্ধকার পাহাড়ে আলোর মুখ দেখিয়েছে। শিক্ষা,স্বাস্থ্য এবং উন্নয়নে জোয়ার সৃষ্টি করেছে কোন বৈষম্য না করে। সেনাবাহিনী মানুষকে মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন করে। দেশ প্রেমে জাগ্রত এ বাহিনী দেশকে গড়ে তোলে, ভাঙে না। তারা গড়াকে নিজেদের পবিত্র দায়িত্ব বলে গণ্য করে।
জোন কমান্ডার রেদওয়ান জানান- পাহাড়ে শান্তি বিনষ্ট করার লক্ষ্যে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে একটি মহল। তাদের হীনস্বার্থ উদ্ধারে অবশেষে মানুষের দুর্বলতার জায়গা ধর্মকে বেচে নিয়েছে এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে হামলা চালিয়ে মূর্তি ভেঙেছে। সম্প্রতি মাটিরাঙায় এমনি ঘটনা ঘটিয়েছে ওই মহল।  আর এ স্বার্থনেষী মহলটি তাদের স্বার্থ উদ্ধারে পাহাড়ের খুন,গুম, চাঁদাবাজির আগ্রাসন চালাতে রাষ্ট্রের সুশৃঙ্খল বাহিনীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

কমান্ডার আরও জানান- দেশের সাধারণ মানুষ তা ভাল ভাবে বুঝে কারা বৌদ্ধ মন্দিরে হামলা চালিয়েছে। সময় হয়েছে, এসব স্বার্থনেষী মহলকে পাহাড়ের সাধারণ জনতা প্রতিহত করবে এবং তাদের মুখোশ উন্মেচন করে দিবে।

কমান্ডার রেদওয়ান বলেন- সেনাবাহিনী তথা নিরাপত্তা বাহিনী সবসময় অসাম্প্রদায়িক সম্প্রিতির ব্যাপারেও সজাগ দৃষ্টি রেখে চলছে। সেই সাথে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল জাতি ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সমঅধিকার প্রতিষ্ঠায় নিরাপত্তা বাহিনী সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ বাস্তবায়নে দৃঢ় পদক্ষেপ রেখে চলছে। তাই আমাদের আসল সত্যকে উপলব্ধি করতে হবে, কারো উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে মিথ্যা গুজবে কান দিয়ে অসাম্প্রদায়িক সম্প্রিতির বন্ধনকে নষ্ট করা যাবে না মন্তব্য করেন এ সেনা কর্মকর্তা।

কতিপয় দুস্কৃতিকারীরা নিজেদের ফায়দা হাসিলের জন্য সবসময়ই এ ধরনের উস্কানীমূলক কার্যক্রম করে থাকে যার ফলশ্রুতিতে দুস্কৃতিকারীরাই লাভবান হয় আর ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ জনগন।

তিনি আরও বলেন- অত্র এলাকায় চলাচলের জন্য যে কাঠের ব্রীজটি রয়েছে সেটির অবস্থা খুবই নাজুক। তাই জনগনের চলাচলের জন্য এই ব্রীজটি দ্রুত সংস্কারের ব্যাপারে রাঙামাটি জোন প্রশাসনের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এদিকে ওইদিন চিবরদানে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভিক্ষু সংঘের বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শুভদর্শী মহাথের বলেন- আলুটিলায় এই সেনাকর্মকর্তার আগমন সত্যি আমাদের মুগ্ধ করেছে। এজন্য এ সেনা কর্মকর্তাকে আমাদের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।
ধর্মীয় এ নেতা আরও বলেন- ২০১৭ সালে রাঙামাটিতে ভূমি ধসের সময় সেনাবাহিনী জাতি-বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে সকলের বিপদে যেভাবে এগিয়ে এসেছেন এবং জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছেন তার সত্যি প্রশংসার দাবিদার।

তিনি জানান- শুধু এটা নয় যেকোন বিপদের সময় সেনাবাহিনী এগিয়ে আসে। পাহাড়ের উন্নয়নে সেনাবাহিনী অতীতে কাজ করেছে, বর্তমানে কাজ করেছে এবং ভবষ্যিতে সেনাবাহিনী পাহাড়ের উন্নয়নে এ ধরণের মহতি উদ্যোগ চালিয়ে মানুষকে সহযোগিতা করবেন বলে যোগ করেন তিনি। এছাড়া মাটিরাঙায় সংঘঠিত বৌদ্ধ মূর্তি ভাঙ্গাকে কেন্দ্র করে যেন সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টি না হয় সেদিকে আলোকপাত করেন ধর্মীয় এ নেতা। ধর্মীয় এ নেতা এসময় জোন কমান্ডার ধর্মীয় উপাসনালয়ে যোগদান করায় আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানায় এবং ২০১৭ সালের পাহাড় ধসে অত্র এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনকে সেনাবাহিনী থেকে সহযোগীতা করার জন্যও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

ধর্মীয় আলোচনা শেষে জোন কমান্ডার রেদওয়ান অত্র এলাকার জনমানুষের উন্নয়ন এবং কঠিন চিবর দান ২০১৮ সফলতা কামনা করে কিছু আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।