স্টাফ রিপোর্টার । হিলরিপোর্ট

রাঙামাটি: গেল বছর করোনা মহামারীর কারণে শারদীয় দূর্গোৎসবের কোন আনুষ্ঠানিকতা না থাকলেও এ বছর রাঙামাটিতে মহা ধূমধামে দূর্গোৎসব শুরু হয়েছে। এ বছর জেলায় ১০ উপজেলায় মোট ৪১টি মন্ডপে দূর্গোৎসব পালিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে মন্দিরে মন্দিরে প্রতিমা তৈরীর পর শেষ মুহুর্তের রং ও সাজসজ্জার কাজ শেষ করে শুরু হয়েছে পূজোঁর আনুষ্ঠানিকতা। তবে আয়োজক ও পূজারীদের মানতে হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি ও সরকারি নির্দেশনা।

পূজার নিরাপত্তায় তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে জেলা পুলিশ। রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে প্রতিটি মন্ডপের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে দেড় মে: টন খাদ্য শস্য।
গেল ৬ অক্টোবর থেকে মহালয়ার মাধ্যমে দূর্গাপুজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে।

তবে মূল আনুষ্ঠানিতকা শুরু হবে ১১ অক্টোবর মহাষষ্ঠির দিন থেকে। সেদিন মন্ডপে বেজে উঠবে দূর্গাপূজাঁর ঢোল। নানা ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের পাশাপাশি মন্ডপে মন্ডপে ঢল নামবে পূজাঁরী ও দর্শনার্থীর। ১৫ অক্টোবর বিজয়া দশমীর দিন প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে শেষ হবে দূর্গাৎসব।

রাঙামাটি পূজাঁ উদযাপন পরিষদ এর সাধারণ সম্পাদক স্বপন কান্তি মহাজন জানান, রাঙামাটি পৌরসভা এলাকায় ১৩টি ও পৌরসভার বাইরে সদর উপজেলার কেল্লামুড়া এলাকায় একটি বাকি নয় উপজেলায় ২৭টি মিলে মোট ৪১টি মন্ডপে দূর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

করোনা পরিস্থিতি হওয়ায় এবারে পুজাঁ উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে পূজাঁ উদযাপন ও সংশ্লিষ্ট মন্দির কমিটিকে বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সরকারি সহযোগিতা সন্তোষজনক জানিয়ে নির্বিঘেœ দূর্গোৎসব পালনের সুযোগ করে দেয়ায় পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে সরকারকে ধন্যবাদ জানান সনাতন সম্প্রদায়ের এ নেতা।

এবারে পূজায় আইন শৃঙ্খলা নিয়ে কোন প্রকার আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন রাঙামাটি পুলিশ সুপার মীর মোদদাচ্ছের হোসেন। তিনি জানান, দূর্গাৎসবের নিরাপত্তায় জেলা পুলিশ তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে। বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি। জেলা পুলিশ, বিশেষ শাখা ও থানা পর্যায়ে একযোগে কাজ করছে। আশা করা হচ্ছে করোনা পরিস্থতির মাঝেও এবার রাঙামাটিতে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখোর পরিবেশে দূর্গোৎসব পালিত হবে। পুজাঁয় সংশ্লিষ্ট সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মানার আহবান জানান পুলিশ সুপার।

এদিকে এক বছর বন্ধ থাকার পর আবারো বেজে উঠবে পূজোঁর ঢোল তাই ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা ছড়িয়ে পড়েছে সনাতনী হিন্দু ধর্মবলম্বী মানুষের মাঝে। চলছে শেষ মুহুর্তের কেনাকাটা । মন্দির কিমিটির সর্বোচ্চ প্রস্তুতি মন্ডপকে কিভাবে আকর্ষনীয় করা যায় । এবার মহামারী করোনা থেকে বিশ্ববাসীর মুক্তির জন্য দূর্গার কাছে আরাধনা করবেন বলে জানান হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা।