॥ মঈন উদ্দীন বাপ্পী ॥

দীপংকর তালুকদার; পাহাড়ের অবিসংবাদিত এক নেতার নাম। প্রায় ৫০টি বছর আ’লীগের রাজনীতির সাথে কাটিয়ে দিয়েছেন। তাই তাকে বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ বললেও কম বলা হয়। পাহাড়ের আদি রাজনীতিবিদরা তাকে পাহাড়ের রাজপুত্র বলে খ্যাতি দিয়ে রেখেছেন।

যার নেতৃত্বে পাহাড়ের আনাচে-কানাচে আ’লীগের জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। যিনি বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদকারীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। এজন্য তাকে সে সময়ে দেশ ছাড়তে হয়েছে। তিনি নিজেকে গড়ে তুলেছেন এক অনন্য উচ্চতায়।  রাঙামাটির মতো একটি জায়গায় দাঁড়িয়ে আ’লীগতে সুসংগঠিত করে গেছেন। যার নেতৃত্বে সুউচ্চ পাহাড়েও আজ জয় বাংলা স্লোগান শুনা যায়।
দীপংকর তালুকদার শুধু রাজনীতির মধ্যে নিজ দলের স্বার্থে নিজেকে ডুবিয়ে রাখেননি। পাহাড়ি-বাঙালী সকলের মধ্যে সম্প্রতির বন্ধন সৃষ্টির লক্ষ্যে পার্বত্য শান্তি চুক্তিতেও তার রয়েছে অসামান্য অবদান।

তাই তার খ্যাতির জুড়ি নেই বললে চলে। পাহাড়ে তার সমসাময়িক যারা রাজনীতি করছে তারা সকলে তাকে ‘দাদা ’বলে সন্বোধন করে।

আর দাদার আর্শিবাদ নিয়ে অনেকে অনেক জায়গায় প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন। এসব শিষ্যরা চষে বেড়াচ্ছেন রাজনীতির মাঠ।
শান্তি চুক্তির পর পাহাড়ে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অস্ত্র, খুন, চাঁদাবাজি, গুমসহ অসংখ্য অপরাধ বেড়ে যাচ্ছে দিনদিন। দীপংকরের একটি বড় চমক হলো- এসব অপকর্ম রোধ করতে দীপংকর সামনের থেকে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে। তাই সফলও হয়েছেন তিনি। সফল হিসেবে এবার একাদশ জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনে ২৯৯ আসনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন।

রোববার (৬জানুয়ারী) বিকেলে সচিবালয় থেকে সংবাদ সন্মেলনের মাধ্যমে সরকার মন্ত্রী পরিষদের তালিকা ঘোষণা করে। কিন্তু মন্ত্রী পরিষদের তালিকায় দীপংকর তালুকদারের নাম না দেখে রাঙামাটি আ’লীগের অনেকে হতাশ হয়েছেন আবার অনেকে আশাবাদ, আবার অনেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে দীপংকরকে মন্ত্রী করার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন।

মহিলা সংরক্ষিত আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু জানান- দীপংকর তালুকদার শুধু একজন নেতা নন। তিনি আমাদের অভিভাবক। যার নেতৃত্বে পাহাড়ে আজ সম্প্রতির বন্ধন অটুট রয়েছে। যিনি অক্লান্ত পরিশ্রমের মধ্যে পাহাড়ে আ’লীগকে সুসংগঠিত করেছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান- সকল মন্ত্রীর জন্য শুভ কামনা। তবে রাঙামাটিবাসীর উন্নয়ন, পাহাড়ে সম্প্রতির বন্ধন অটুট রাখতে এবং পার্বত্যঞ্চলের মানুষের ভাগ্যয়ন্ননে অন্যতম ভূমিকা রাখতে প্রধানমন্ত্রী ও আ’লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার কাছে আবেদন- দীপংকর তালুকদারকে যে কোন মন্ত্রলালয়ের পূর্ণমন্ত্রী দেওয়া হোক।

রাঙামাটি জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী মুছা মাতব্বর জানান- পাহাড়ের অবিসংবাদিত এক নেতার নাম দীপংকর তালুকদার। জেলার আপামর জনসাধারণের ভাগ্যয়ন্ননে দীপংকর তালুকদারের কোন বিকল্প নেই।

মুছা আরও জানান- আমরা জননেত্রী শেখ হাসিনার কথা রেখেছি। দীপংকর তালুকদারকে বিজয়ী করে জননেত্রীকে নৌকা উপহার দিয়েছি। এখন আমাদের দাবি- জননেতা দীপংকর তালুকদারকে যে কোন একটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হোক।
রাঙামাটি জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নূর মোহাম্মদ কাজল জানান- আমরা দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনার সিন্ধান্তকে সাধুবাদ জানায়। তবে দীপংকর তালুকদার হলো- আমাদের আশ্রয়স্থল। পাহাড়ের মানুষের উন্নয়নে দীপংকর তালুকদারকে মন্ত্রী করা অত্যন্ত জরুরী।

রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ চাকমা জানান- পাহাড়ের ভাজে ভাজে এক সময় রক্তের দাগ লেগে থাকতো। এখন সে দাগ উঠে গেছে। আর যার নেতৃত্বে এ দাগ উছে গেছে তিনি হলেন- দীপংকর তালুকদার। যার নেতৃত্বে রক্তাক্ত পাহাড়ে আজ শান্তির পায়রা উড়ছে। পাহাড়ি-বাঙালী সকলে মিলে-মিশে এক সাথে বসবাস করছে। তাই দেশের সফল প্রধামন্ত্রী ও দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি জোর আবেদন জানায় যে দীপংকর তালুকদারকে কোন একটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার।