মঈন উদ্দীন বাপ্পী । হিলরিপোর্ট

রাঙামাটি: করোনার ভয়বহতা সারা বিশ্ববাসী হারে হারে ঠের পাচ্ছে। চারদিক মৃত্যুর মিছিল ভারী হচ্ছে। পুরো পৃথিবী স্তব্দ হয়ে পড়েছে। মানুষের বিরুদ্ধে এই যেন প্রকৃতির যোদ্ধ ঘোষণা। চোখের অশ্রু ঝড়ে গাঙ হচ্ছে। কেউ কারো নয়।

সারাবিশ্বের ন্যায় ঘনবসতি দেশ বাংলাদেশও করোনার হাত থেকে নিস্তার পায়নি। এ পর্যন্ত বাংলাদেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ১৬৩জনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে আক্রান্ত রয়েছে ৭হাজার ১০৩জন এবং সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৫০জন।

এতদিন দেশের ৬২জেলায় করোনা রোগী পাওয়া গেলেও খাগড়াছড়ি এবং রাঙামাটি করোনামুক্ত ছিলো। সর্বশেষ পাহাড়ের খাগড়াছড়ি জেলাও নারায়গঞ্জ ফেরত করোনা রোগী পাওয়া গেছে। বাংলাদেশের মধ্যে করোনামুক্ত বাকী জেলা থাকলো রাঙামাটি।

রাঙামাটি জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য মতে, ২৯এপ্রিল সর্বশেষ রাঙামাটি থেকে ২২১জনের নমুন সংগ্রহ করে চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে। এরমধ্যে ১৩২জনের রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। রাঙামাটি জেলায় কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে ১হাজার ৭৭৭জনকে। এর মধ্যে হোমকোয়ারেন্টাইনে ১হাজার ২৬৮জন এবং প্রতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে ৫০৯জনকে। কোয়ারেন্টাইনের মেয়াদ শেষ হয়েছে ৪৭৭জনের এবং কোয়ারেন্টাইনে আছেন ১২৯৯জন।

রাঙামাটিতে করোনা সন্দেহ নিয়ে রাজস্থলী, বাঘাইছড়ি এবং রাঙামাটি সদরে তিনজন মারা গিয়েছিলো। তবে তিনজনের রিপোর্ট নেগেটিভ ছিলো।

এদিকে সম্প্রতি কয়েকদিন বাইরের থেকে বিভিন্ন গার্মেন্টস কর্মী থেকে শুরু করে অনেক কমীজীবি প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে জেলা সদর এবং উপজেলা সদরে প্রবেশ করেছে। খোদ বাঘাইছড়ি উপজেলায় প্রশাসনের একটি সূত্র জানিয়েছেন, প্রায় তিনহাজার কর্মজীবী মানুষ প্রবেশ করেছে। তবে তাদের কোয়ারেন্টাইনে থাকার সত্ব দিয়ে প্রবেশ করা হয়েছিলো। তবে নানিয়ারচর, বরকল, জুরাছড়িসহ বিভিন্ন দূর্গম উপজেলায় পাহাড়ি গিরিপথ মারিয়ে কতলোক প্রবেশ করেছে এব্যাপারে প্রশাসনের কাছে কোন হিসেব নেই।

বর্তমানে দেশের ৬৩টি জেলা করোনায় আক্রান্তের তালিকায় পড়েছে। এখন প্রশ্ন হলো-রাঙামাটি জেলা করোনামুক্ত থাকতে পারবে তো? এই প্রশ্ন জেলার সচেতন বাসিন্দাদের।
রাঙামাটিতে করোনা মুক্ত রাখতে জেলার সচেতন অনেক নাগরিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সোচ্চার হয়েছে বেশ। তাদের দাবি, রাঙামাটির সাথে নৌ-পথ, সড়ক পথ যোগাযোগের সকল ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়া হোক। আগামী ১৪দিন অন্তত এইভাবে চলুক। তাহলে আমরা করোনার রাহুর গ্রাস থেকে মুক্তি পাবো।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সোচ্চার জামিল মোস্ততা তার ফেইসবুক টাইমলাইনে লিখেন- ‘আমরা রাঙামাটিবাসীরা আসুন একটু সারবধান হয়, কয়টা দিন সবাই দূরে থাকি, যাতে সারাটা জীবন কাছে থাকা যায়’।

ঝিনুক ত্রিপুরা তার টাইমলাইনে লিখেন- রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মহোদয় আপনাকে হাজার হাজার প্রণাম। রাঙামাটি শহরকে বাঁচাতে হলে খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, চট্টগ্রাম রাস্তা বন্ধ করে দিন। আপনি হলেন আমাদের অভিভাবক। আমাদেরকে বাঁচানোর দায়িত্ব আপনার। আপনার সাথে আমরা আছি সবসময় থাকবো।আপনার সিন্ধান্তই চূড়ান্ত সিন্ধান্ত। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, জয় হোক বাংলার মেহনতি মানুষের।

 

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়- পাশ্ববর্তী দুই পাহাড়ি জেলা খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবান জেলা করোনায় আক্রান্তের তালিকায় পড়েছে। আমরা এখনো নিরাপদে নেই। রমজানের কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নমনীয় দেখানোর কারণে মানুষ আবারো অবাধে চলাচলের চেষ্টা করছে। তাই বৃহস্পতিবার থেকে কঠোর অবস্থানে যাবে জেলা প্রশাসন। এজন্য মোবাইল কোর্টকে আরও বেগমান করে তোলা হবে। পাশাপাশি পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর টহল জোরদার বাড়ানো হবে।

রাঙামাটি জেলা প্রশাসক (ডিসি) একেএম মামুনুর রশীদ বলেছেন, আমরা এখনো ঝুঁকিমুক্ত হতে পারেনি। আমাদের পাশের দু’টি জেলায় করোনা রোগীর সন্ধান মিলেছে। এজন্য রাঙামাটি প্রশাসন সর্বদা সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। সামাজিক এবং শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে প্রশাসন আগের চেয়ে আরও বেশি তৎপর হবে।

পাশাপাশি রাস্তায় অবাধে ঘোরাঘুরি বন্ধে সেনাবাহিনী এবং পুলিশি টহলের জোরদার করার পাশাপাশি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। রাঙামাটিকে করোনামুক্ত রাখতে প্রশাসন সদা জাগ্রত হয়ে কাজ করবে বলে ডিসি যোগ করেন।