মঈন উদ্দীন বাপ্পী, হিলরিপোর্ট

রাঙামাটি: তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে সবচেয়ে বড় এবং পুরনো কারাগারের নাম রাঙামাটি কারাগার। বর্তমানে এই কারাগারে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে কয়েদী বেশি রয়েছে।

কারাগারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, করোনার কারণে আদালতে মামলা পরিচালনা বন্ধ থাকায় কারাগারে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে কয়েদী এবং বন্দির সংখ্যা বেশি রয়েছে। আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা শুরু হলে কয়েদীর সংখ্যা কিছুটা কমে আসবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাঙামাটি কারাগারে ধারণ ক্ষমতা রয়েছে ১৪৫জন কয়েদীর। এর মধ্যে পুরুষ ১৪০ এবং নারী ৫জনের। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন সাজাপ্রাপ্ত ২৬৬জন কারাগারে বন্দি রয়েছে। যা ধারণ ক্ষমতার চেয়ে ১২১জন বেশি রয়েছে।

এর মধ্যে- নিম্নতর ৬মাস থেকে সর্বোচ্চ ৩বছর মেয়াদী শাস্তিপ্রাপ্ত আসামী রয়েছে। যাবজ্জীবন, ১০ বছর কিংবা ৫বছর মেয়াদী শাস্তিপ্রাপ্ত কোন আসামী নেই। অতীতে বিদেশী (রোহিঙ্গা) আটক থাকলেও বর্তমানে কারাগারে বিদেশী নেই। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে ২৫১জন পুরুষ এবং ১৫জন নারী রয়েছেন। এরমধ্যে মায়ের সাথে ২জন শিশুও রয়েছে।

জানা গেছে, সরকারি এই কারাগারটিতে জেলার, ডেপুটি জেলার এবং সহকারী সার্জন নেই। সহকারী সার্জন থাকার কথা থাকলেও তিনি ডেপুটেশনে পুলিশ হাসপাতালে কর্মরত রয়েছেন। তবে কর্মচারীর সংখ্যা নিয়মত রয়েছে।

করোনা মোকাবিলায় এবং সচেতনতা বৃদ্ধিতে কারাগার কর্তৃপক্ষ খুবুই সচেতন রয়েছে। প্রতিটি কক্ষ পথে স্যানিটাইজার, পরিষ্কার, পরিছন্ন এবং সতর্কতা অবলম্বন বেশ লক্ষণীয়।

সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, কয়েদীকে প্রতিদিন নিয়ম করে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার পরিবেশন করা হয়। এরমধ্যে সপ্তাহে ৪দিন প্রতি সকালে রুটি-সবজি, ২দিন খেচুরী এবং ১দিন রুটি-সুজি প্রদান করা হয়। আর প্রতি দুপুরে প্রতিদিন ভাতের সাথে মাংস অথবা মাছ পরিবেশন করা হয় এবং বিকেলে ভাতের সাথে সবজি-ডাল পরিবেশন করা হয়। এছাড়া রমজানে যারা রোজা রাখবে তাদের জন্য সেহেরীর এবং ইফতারের ব্যবস্থা রয়েছে।

রাঙামাটি জেলা কারাগারের জেল সুপার মতিউর রহমান বলেন, রাঙামাটি কারাগারটি তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে সবেচেয়ে পুরনো কারাগার। এটি ব্রিটিশ আমলে তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে কারাগারটির কিছু সংস্কার কাজ শুরু করা হয়েছে। এরমধ্যে করোনার কারণে কাজটি বন্ধ রয়েছে।

জেলা সুপার আরও বলেন, কারাগারে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে কিছু কয়দি বেশি রয়েছে। করোনার কারণে আদালত কার্যক্রম বন্ধ থাকায় কয়েদীর সংখ্যা বেশি রয়েছে। তবে আদালত কার্যক্রম শুরু হলে কয়েদীর সংখ্যা কমতে থাকবে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির মধ্যে করার কিছু নেই, কোনরকমে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। দেশের অন্যান্য কারাগারের তুলনায় রাঙামাটি কারাগারের ব্যবস্থাপনা বেশ ভাল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

জেল সুপার জানান, করোনার ব্যাপারে আমরা খুব সতর্ক। কারাগারে পরিষ্কার-পরিছন্নতা, প্রতিটি কক্ষ পথে স্যানিটাইজার, কয়েদীদের সর্বক্ষণ পরিছন্ন রাখা এবং তাদের শরীরের ব্যাপারে খোজ-খবর রাখা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, সহকারী সার্জেন্ট না থাকলেও আমরা সর্বক্ষণ রাঙামাটি সদর হাসপাতালের সাথে যোগাযোগ রেখেছি। যেকোন মূহর্ত আমরা হাসপাতালের ডাক্তারদের শরাপন্ন হচ্ছি। এখন পর্যন্ত কোন সমস্যার সন্মুখীন হতে হয়নি জেল সুপার যোগ করেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা জানতে পেরেছি করোনার এই ক্রান্তিকালে সরকার কমশাস্তিযোগ্য কিছু আসামীকে শাস্তি কমিয়ে মুক্তি দিবে। আর আমাদের কারাগারে এই ধরণের তিনজন আসামী রয়েছে। তাদের নাম পাঠানো হয়েছিলো। কিন্তু তাদের মুক্তি মিলেনী।