॥ স্টাফ রিপোর্টার ॥

ছাত্রলীগের মধ্যে বিরাজমান দলীয় কোন্দলকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার (২৮জানুয়ারী) সকালে আ’লীগের দলীয় কার্যালয়ে জেলা ছাত্রলীগের একাংশ সংবাদ সন্মেলনের মাধ্যমে বর্তমান কমিটির সভাপতি আব্দুল জব্বার সুজন এবং সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ চাকমাকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করে জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সাইফুল আলম রাশেদকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঈনুদ্দিন শাকিলকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করেছে।

অপরদিকে একইদিনে বিকেলে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত এক প্রেস বার্তার মাধ্যমে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ৪নেতার পদ স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে জেলা ছাত্রলীগ।

পদ স্থগিতরা হলেন, জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সাইফুল আলম রাশেদ, রুপম দাশ, যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক সুলতান মাহমুদ চৌধুরী এবং মঈনুদ্দিন শাকিল।

মঙ্গলবার সকালে ছাত্রলীগের একাংশের আয়োজনে আ’লীগের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সন্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুলতান মাহমুদ বাপ্পা বলেন, বর্তমান জেলা কমিটি অনেক আগেই মেয়াদ পেরিয়েছে। সভাপতি সম্পাদক একের পর এক অনৈতিক,সংগঠনের চেতনা ও গঠনতন্ত্র বিরোধী কর্মকান্ডের মাধ্যমে সবাইকে বিব্রত করছে। তারা গঠনতন্ত্র অনুসরণ না করে উপজেলা কমিটি বিলুপ্ত করছে। যা তাদের এখতিয়ারের বাইরে।’

তিনি আরও বলেন, বর্তমান কমিটির সভাপতি ও সম্পাদকের বিরুদ্ধে টেন্ডারবাজি, মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজির বিভিন্ন অভিযোগও রয়েছে। যার কয়েকটি মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে বলে জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।

সভায় সর্বসম্মতিক্রমে বর্তমান কমিটির সভাপতি আব্দুল জব্বার সুজন এবং সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ চাকমাকে অবাঞ্চিত করে জেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি সাইফুল আলম রাশেদকে সভাপতি এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঈনুদ্দিন শাকিলকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়েছে।

নতুন ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পাওয়া সাইফুল আলম রাশেদ বলেছেন, বর্তমান কমিটির সভাপতি ও সম্পাদকের ব্যর্থতার দায় পুরো ছাত্রলীগ নিতে পারে না। তাদের দু’জনের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। সর্বশেষ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীও পালন করেনি তারা। অথচ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর কথা বলে চাঁদাবাজি করেছে। আবার পুলিশের গাড়ী থেকে আসামী ছিনতাই,রাণীরহাট থেকে গাড়ী ছিনতাই করে আনা, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি,সর্বশেষ যুবলীগের এক নেতাকে কোপানোর মতো জঘণ্য অপরাধ করেছে। শুধু তাই নয়, সম্প্রতি সেক্রেটারি সরকারি স্থাপনা ভাংচুর করায় তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে এই ‘অযোগ্য ও ব্যর্থ’ সভাপতি-সম্পাদককে আমরা অবাঞ্চিত ঘোষণা করেছি।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, জেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি সাইফুল আলম রাশেদ, সহ-সভাপতি পলাশ বড়ুয়া, রুপন দাশ, যুগ্ম সম্পাদক সুলতান মাহমুদ বাপ্পা, মঈনুদ্দীন শাকিল, সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সুপায়ন চাকমা, পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক অপু শ্রীং লেপচা, রাঙামাটি সরকারি কলেজ কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আহমেদ ইমতিয়াজ রিয়াদ, বাঘাইছড়ি উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. এমরান সহ সংগঠনের বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃবৃন্দ।

অপরদিকে রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ বলেন, ভবিষ্যতে পদ স্থগিত নেতাদের যেকোন অসামাজিক, অনৈতিক এবং সংগঠন পরিপন্থী কর্মকান্ডের দায়ভার জেলা ছাত্রলীগ বহন করবে না । জেলা ছাত্রলীগের পরবর্তী নির্দেশ ছাড়া এসব নেতাদের পদ স্থগিত রাখা হলো।