স্টাফ রিপোর্টার । হিলরিপোর্ট

রাঙামাটি: রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদে অন্তবর্তীকালীন মেয়াদে চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সজল কান্তি বণিক স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।

নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন, সাবেক জেলা পরিষদের সদস্য এবং কাউখালী উপজেলা আ’লীগের সভাপতি অংসুইপ্রু চৌধুরী।

এছাড়া সদস্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন- বরকল উপজেলা আ’লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য সবির কুমার চাকমা, বাঘাইছড়ি উপজেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি প্রিয় নন্দ চাকমা, জুড়াইছড়ি উপজেলা আ’লীগের সভাপতি প্রবর্তক চাকমা, নানিয়ারচর উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ইলিপন চাকমা, রাঙামাটি জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক জেলা পরিষদের সদস্য হাজী মুছা মাতব্বর, লংগদু উপজেলা আ’লীগের সাবেক সহ-সভাপতি আব্দুর রহিম, রাঙামাটি সদরের বাসিন্দা ও অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বাদল চন্দ্র দে (বাদল মাস্টার), কাপ্তাই উপজেলা আ’লীগের সভাপতি অংসুই ছাইন চৌধুরী, রাজস্থলী উপজেলার গাইন্দা ইউনিয়নে সাবেক চেয়ারম্যান নিউচিং মারমা, রাঙামাটি মহিলা যুবলীগের সহ-সভাপতি ঝর্ণা খীসা, লংগদু উপজেলার বাসিন্দা ও সাবেক জেলা পরিষদের সদস্য জানে আলমের স্ত্রী মোছা: আছমা বেগম, রাঙামাটি জেলা যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিপুল ত্রিপুরা, কাপ্তাই উপজেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি দীপ্তিময় তালুকদার এবং সাবেক জেলা পরিষদের সদস্য ও বিলাইছড়ি উপজেলার বাসিন্দা রেমলিয়ানা পাংখোয়া।

জানা যায়, আইন অনুযায়ী জনগনের ভোটে তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ গঠন হওয়ার কথা থাকলে বিগত বিভিন্ন সরকারের সময় থেকে সরকারদলীয় লোক মনোনয়ন দিয়ে পূর্নঃগঠন হয়ে আসছে পার্বত্য জেলা পরিষদ।এবারও এর ব্যাতিক্রম হয়নি।
পার্বত্য জেলা পরিষদে প্রথম ও শেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৮৯ সালের ২৫ জুন। এরপর আর নির্বাচনের উদ্যোগ নেয়া হয়নি। নির্বাচন অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনগণের দাবি থাকলেও সরকার তিন পার্বত্য জেলা পরিষদে দলীয় লোক মনোনয়ন দিয়ে পরিচালনা করছে।

১৯৯৭ সালের ০২ডিসেম্বর পার্বত্য শান্তিচুক্তির আইনে বলা আছে, পাহাড়ের স্থায়ী বাসিন্দাদের নিয়ে প্রণীত পৃথক ভোটার তালিকায় ৩ পার্বত্য জেলায় পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে ১ জন চেয়ারম্যান এবং ৩৩ জন সদস্য নির্বাচিত হবে।

আইনে আরো বলা আছে, প্রত্যেক পরিষদে সংশ্লিষ্ট জেলার জনগণের ভোটে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠিদের মধ্যে থেকে ১ জন চেয়ারম্যান ও ২০ জন সদস্য, অ-উপজাতি ১০ জন এবং সংরক্ষিত তিনটি মহিলা আসনে ২ জন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠিদের ও ১ জন অ-উপজাতি সদস্য নির্বাচিত হবেন। প্রতিটি নির্বাচিত পরিষদের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। কিন্তু গত ৩০ বছর ধরে নির্বাচন না হওয়ায় পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোত জনগণের অংশগ্রহন নিশ্চিত হয়নি।

১৯৯৬ সালের ৫ আগস্ট নির্বাচিত তিনটি পরিষদ ভেঙ্গে দিয়ে প্রত্যেক পরিষদে ১ জন চেয়ারম্যান ও ৪ জন সদস্য মনোনয়ন দিয়ে অর্ন্তবতীকালীন পরিষদ গঠন করে আওয়ামী লীগ সরকার।

পাশাপাশি ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত পার্বত্য শান্তিচুক্তির শর্তে ১৯৯৮ সালে আইন সংশোধন করে পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ থেকে ‘পার্বত্য জেলা পরিষদ’ নামে সংশোধিত হয়। এরপর আর নির্বাচন দেয়নি সরকার। সর্বশেষ ২০১৫ সালের ২৫ মার্চ পরবর্তী নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত ১ জন চেয়ারম্যানসহ সদস্য সংখ্যা ৫ থেকে ১৫-তে উন্নীত করে তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠন করে সরকার।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ থেকে পরিষদ পূনঃর্গঠনের জন্য সূপারিশ পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয় আর এই তালিকার পরে পার্বত্য মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠালে প্রধানমন্ত্রী গত ৮ ডিসেম্বর মঙ্গলবার অনুমোদন প্রদান করেন এবং ১০ ডিসেম্বর এই বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।