উপজেলা প্রতিনিধি । হিলরিপোর্ট

রাজস্থলী: রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলার ৩নং বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের দুস্থ ও অসহায় নারীদের ভিজিডি তালিকায় নাম দেওয়ার কথা বলে ইউপি সদস্য নজরুল এর বিরুদ্ধে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দরিদ্র-অসহায়দের এভাবে হয়রানি করে আসছে দীর্ঘদিন থেকেই।

অবশেষে হয়রানি থেকে মুক্তির জন্য প্রশাসনের সহায়তা কামনা করেছে ভুক্ত ভুগিরা।

অভিযুক্ত ইউপি সদস্য বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়ের ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসের শুরুতেই নজরুল ইসলাম ভিজিডি,র তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলে শফিপুর এলাকার মিনারা বেগম, শারমিন আক্তার, জান্নাতুল ফেরদৌস ও কমলা বেগমের নিকট হতে এক হাজার করে টাকা চান।

পরে তাকে ৩ জনে ৫০০ টাকা করে এবং মিনারা বেগম ১০০০ টাকা দুই কপি ছবি ও জাতীয় পরিচয়পত্র জমা দেন। কিন্তু ডিসেম্বরের শেষ দিকে ৪ জনের নাম না থাকায় তারা ক্ষুব্দ হন। এ বিষয়ে তারা জানান, ভিজিডি কার্ড দেওয়ার কথা বলে ছবি, জাতীয়পরিচয় পত্র সহ টাকা নেন। তারা পরে জানতে পারেন, তালিকায় তাদের নাম ও নেই। তারা এখনো এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেননি প্রশাসনকে।

রবিবার ১৪ ফেব্রুয়ারী অভিযোগকারীরা এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট মৌখিকভাবে জানালে তিনি তাদের আশ্বস্থ করেন বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার এবং আগামীতে তাদের ভিজিডি কার্ডে অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দেন।

অভিযোগকারীরা আরো বলেন, ঐ ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বিভিন্ন লোকজনকে সরকারি সহায়তা প্রদানে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য নজরুল ইসলামের সাথে মুঠো ফোনে আলাপকালে তিনি টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন আমি ৫০০ টাকা করে নিয়েছি।

ভিজিডি কার্ড না হওয়ায় গত ১৩ ফেব্রুয়ারী ভিজিডি চাউল বিতরনের সময় চাউল আনতে গেলে তারা ভিজিডি বই না পাওয়ায় ক্ষুব্দ হয়ে ইউপি সদস্য,র সাথে বাক বিতন্ডা শুরু হয় । সংশ্লিষ্ট ৩নং ইউপি চেয়ারম্যান ঞোমং মারমা জানান, ভিজিডি কার্ড করার জন্য কোন টাকা নেওয়া হয়নি। যদিও বা প্রমাণিত হয় তা দেখার বিষয় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ ছাদেখ জানান, সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ করার জন্য ৪ জন মহিলা আমার অফিসে এসেছিল। তাদের অভিযোগ শুনে আমি ৩নং বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জানান।