উপজেলা প্রতিনিধি । হিলরিপোর্ট

কাপ্তাই-রাজস্থলী: প্রতি বছর কোরবানের ঈদ এলে রাজস্থলী ও কাপ্তাইয়ে কামাররা পাড় করে ব্যস্ত সময়। দা,ছুড়ি,বটি বিভিন্ন লৌহা জাতীয় জিনিস তৈরিতে রাত-দিন ব্যস্থ সময় কাটতো তাদের। কিন্ত এবার বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের ফলে প্রভাব ফেলেছে দেশের ব্যবসা ক্ষেত্রে, সেই প্রভাব পড়েছেও রাজস্থলীর ঐতিহ্যবাহী বাজার রাজস্থলী,কাপ্তাই এর ব্যবসার প্রানকেন্দ্র নতুন বাজারে। অথচ প্রতিবছর এই বাজার সংলগ্ন আনন্দ মেলা মাঠে বসতো বিশাল গরু ছাগলের হাট।

রাজস্থলী,ফেরিঘাট,বাঙ্গালহালিয়া, কাপ্তাই, রাংগুনিয়া, বিলাইছড়ি হতে ক্রেতা বিক্রেতাদের সরগমে মুখরিত হতো এই হাট গুলোতে। এর প্রভাব পড়তো কামারের দোকানে। এই বছর বেচাবিক্রি কম থাকায় কাজ কমেছে কামারের দোকানে।

রোববার (২৬জুলাই) রাজস্থলীর বাঙ্গালহালিয়া , কাপ্তাই উপজলোর রাইখালী বাজার, কাপ্তাই নতুন বাজারে গিয়ে দেখা যায় কামাররা অলস বসে সময় পাড় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কামার জানান,আগের বছরে কোরবানি ঈদের ১৫ দিন আগে হতে রাত – দিন নতুন দা,ছুড়ি,বটি তৈরি এবং শান দিতে ব্যস্থ সময় পাড় করতাম। দিনে আয় হতো ৪/৫হাজার টাকা। আর এখন করোনা ভাইরাসের ফলে কোন ব্যবসা নেই।

দিনে ৪/৫শ’টাকা আয় করতে পারিনা। লোকজন আগের মত আর দা,ছুড়ি,বটি নিয়ে আসেনা এবং অর্ডারও দেয়না। তাই আর কি করব কাজ নেই, ব্যস্ততাও নেই। এ অবস্থায় পরিবার পরিজন নিয়ে কস্ট দিন পাড় করছি।

বাঙ্গালহালিয়া বাজার ব্যবসায়ী কল্যান সমিতির সভাপতি মো: শামসুল হক জানান,করোনা ভাইরাসের ফলে এবার বহু মানুষ পশু জবাই দিতে পারছে না, আগের মতো জমে উঠে নাই পশুর বেচাবিক্রির হাট। যার ফলে কামারদের এখানে লৌহজাতীয় জিনিস তৈরি এবং বিক্রিতে ভাটা পড়েছে ।

এই শিল্পের সাথে জড়িত কামাররা সকলে সরকারের নিকট অন্তত্য পক্ষে এই বছর আর্থিক প্রনোদনা দিয়ে তাদেরকে বাঁচিয়ে রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন।