মাননীয় ভাইস চ্যান্সেলর জবাব দিবেন আমাদের…..

রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০১ ততকালীন প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার সংসদে পাশ করেন,তখন রাঙামাটির সংসদ সদস্য ছিলেন জননেতা জনাব দীপংকর তালুকদার এমপি মহোদয়।

মূলত শান্তি চুক্তির প্রেক্ষিতে পার্বত্য চট্টগ্রামে উচ্চ শিক্ষার জন্য মাননীয় সাংসদের দাবী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ইচ্ছায় পাহাড় ও লেকের সৌন্দর্যে রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।

এর পর থেকে এর বিরোধিতা করে চলেছে আঞ্চলিক কয়েকটি সংগঠন। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেটে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হয়।

আরও শোনা গেছে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ক্রয় করা বিভিন্ন উপকরণ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু করেননি বিএনপির সরকার। এইদিকে বিশ্ববিদ্যালয় চালু করার জন্য আন্দোলন অব্যাহত রাখেন স্থানীয় কিছু সংগঠন, ছাত্রলীগ, যুবলীগ।

২০০৯ সালে আওয়ামীলীগ সরকার গঠনের পর সরকারের শেষ সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার এমপি মহোদয়ের জোর দাবীর মুখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ক্রমে আবার যাত্রা শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে নিয়োগ পান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাবস্থাপনা বিভাগের সম্মানিত শিক্ষক জনাব ড.প্রদানেন্দু বিকাশ চাকমা। ২০১৪ সালের শেষ দিকে ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্স ও ব্যাবস্থাপনা বিভাগে ৫০ জন করে মোট ১০০ জন শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য প্রথম বারের মতো সার্কোলার দেওয়া হয়।

২৪ এপ্রিল ২০১৫ সালে ভর্তি পরিক্ষা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগে। ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হয় ৪ মার্চ ২০১৫ সাল পর্যন্ত। সকল কার্যক্রম চলতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাবস্থাপনা বিভাগের মাননীয় জনাব ড.প্রদানেন্দু বিকাশ চাকমার কক্ষে। জুন মাসের তিন তারিখ থেকে ভর্তি করা হয় দুই বিভাগের ৭৩ জন শিক্ষার্থীকে।

জুলাই মাস যায় কিন্তু ক্লাস শুরু হওয়ার কোনো নাম নেই। অফিসে কল দিলে শুরু হবে হচ্ছে এই বলে জুলাই আগষ্ট মাস যায়।

জুলাই মাসের সাতাশ তারিখ ভর্তি কৃত কয়েকজন শিক্ষার্থী রাঙামাটি যায়,অনেক আশা আকাঙ্খা নিয়ে। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পর দেখা গেলো বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো অস্তিত্ব নেই।

অনেকেই ভয় দেখিয়েছে, আবার অনেকে সাহস দিয়েছে। প্রকৃতির প্রেমে সেখানেই থাকা হয়ে গেলো রাজশাহী থেকে আসা ইমরান, কুমিল্লা থেকে আসা রাসেল,নোবেল, ময়মনসিংহ থেকে আসা সাম্য এবং আমি বাপ্পির। তারপর খুজতে শুরু করলাম স্থানীয় কারা চান্স পেয়ে ভর্তি হয়েছে। পেয়ে গেলাম অপু দা, লংগদুর জহির, রুবেল এবং সাইমনকে।

তাদের কাছে অনেক তথ্য পেয়েছি, জানুয়ারী মাসের দশ তারিখ মেডিকেল কলেজ উদ্ভোদন নিয়ে অনেক ঝামেলা হয়েছে ইত্যাদি।

এখন বিশ্ববিদ্যালয় কিভাবে চালু করা যায় রাঙামাটি সেদিকে নজর দিলাম। বিভিন্ন মিডিয়া কর্মিদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলাম। রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এই কথা শোনার পর তারা আমাদেরকে পরামর্শ দিলেন। আমরা স্থানীয় নেতৃবৃন্দের কাছে গেলাম,কথা বললাম,সবাই আমাদের কে আশ্বস্থ করলেন ভয় না পেতে এবং ধৈর্য্য ধরতে।

আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে সম্মানিত ভিসি স্যার রাঙামাটি আসলেন কড়া নিরাপত্তার মধ্যে। আমরা একটা স্মারকলিপি লিখলাম মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর। উনি যখন জেলা প্রশাসক শামসুল আরেফিন স্যারের কক্ষে প্রবেশ করেন তার দশ মিনিট পর আমরাও জেলা প্রশাসকের কক্ষে প্রবেশ করি উনার মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদানের জন্য। ভিতরে প্রবেশ করেই গর্বিত হলাম যে আমি একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির সামনে। তিনি অবাক করে দিয়ে আমার নাম ঠিকানা সব মুখস্থ বলতে শুরু করলেন।

যাক তারপর আমরা আন্দোলনে গেলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু করার জন্য। মানববন্ধন, প্রেস কনফারেন্স। মূলত ০৫/১১/২০১৫ ইং তারিখে রাবিপ্রবি ছাত্র আন্দোলন সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে আয়োজিত প্রেস কনফারেন্সের আত্মহত্যার হুমকি বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণী কার্যক্রম শুরু করতে অনেকটা অনিচ্ছা স্বত্বেও বাধ্য করে ভিসি স্যার কে। এরজন্য তিনি আমার উপর প্রচন্ড ক্ষোভ করেন। ভিতরের কিছু কথা আছে যে তিনিও চাইতেন না বিশ্ববিদ্যালয় রাঙামাটি তে হোক।

কড়া নিরাপত্তার চাদরে মাঝের বস্তির শাহ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের দুইটি কক্ষে ০৯/১১/২০১৫ ইং তারিখে শ্রেণী কার্যক্রম শুরু হয়। উদ্ভোদনী ক্লাসে মাননীয় জেলা প্রশাসকের সাথে ফোনে খোজ খবর নিচ্ছিলেন মমতাময়ী মা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা।

অন্যদিকে আঞ্চলিক সংগঠন হুমকি দিয়েছিলো যে মাঝের বস্তির রাবিপ্রবি উড়িয়ে দিবেন। কিন্তু নিরাপত্তা চাদরে থাকা রাবিপ্রবির কার্যক্রম বন্ধ করতে পারেননি। সেদিন জয় হয়েছিল আমাদের রাবিপ্রবির। ছেলেরা থাকতো মাঝের বস্তির অস্থায়ী ছাত্র হলে আর মেয়েরা থাকতো বিশ্ববিদ্যালয় অস্থায়ী প্রশাসনিক ভবন ভেদভেদীতে।

এই ভাবেই চলতে থাকে রাবিপ্রবি, ভিসি স্যার কিন্তু আমাকে চব্বিশ ঘন্টা নজরবন্ধী রাখতেন, হয়তোবা ইহাই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ বা আমাকে ভালোবাসতেন বেশী। এর মধ্যে বিভিন্ন অনিয়মের প্রতিবাদ সবসময় অব্যাহত ছিল।

২০১৬ সালে আসে ২য় ব্যাচ। প্রথম ব্যাচ অনেক খুশী ছিলো। নভেম্বরের শেষ দিকে আবার আন্দোলন শুরু হয় স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য যদিও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে জমি ক্রয় করেননি।

ক্লাস পরিক্ষা বর্জন, ভিসির কক্ষে তালা দিয়ে অবরোধ, প্রায় এক সপ্তাহ চলে আন্দোলন। বিনিময়ে আন্দোলনে যারা অগ্রজ ছিলো তাদেরকে বিভিন্ন মিথ্যা অভিযোগে সতর্ক নোটিশ এবং একজন প্রতিবাদ কারি কে তিনটি মিথ্যা অভিযোগের কারণ দর্শানোর নোটিশ এবং কোনো রকম প্রমাণ ছাড়াই সাময়িক বহিষ্কার যা অদ্যবদি পর্যন্ত বহাল রয়েছে। কিন্তু ঐ আন্দোলনের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে ৬৪ একর জমি ক্রয় করেন।

আজ দুই বিভাগের পঞ্চম ব্যাচ সহ রয়েছে মোট প্রায় ৪৭০ জন শিক্ষার্থী। দুইটা ব্যাচ হলে স্থান পেলেও পরবর্তী তিন ব্যাচের হলে থাকার সুযোগ হয়ে ওঠেনি এমনকি আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া সত্বেও মেয়েদের জন্য হলের ব্যাবস্থা করা হয়নি। যারা হলে আছে তাদের অবস্থাও করুণ।

এদের না আছে পড়ার টেবিল বা চেয়ার আর ঘুমের সময় তো ফ্লোর আছেই। দেখার কেউ নেই এদের,নাহ কেউ দেখে না। অনেকেই তো বলেন আবার বিশ্ববিদ্যালয় মাঝের বস্তিতে থাকুক। আসাম বস্তির ঝাগড়া বিলে যাওয়া কি দরকার!!!

ভর্তি হওয়ার সময় জিজ্ঞাসা করা হয় রাজনীতি কর? উত্তর যদি না হয় তাহলে ভর্তি কনফার্ম আর যদি হ্যা হয় তাহলে কিছু কাঠ কড় পোড়াতে হয় ভর্তির জন্য।

আর বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি নিষেধ সেই ০৯/১১/২০১৫ সালের নোটিশ অনুযায়ী। নেই বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে থাকা সিনেট বোর্ড। বিভাগ বাড়ানো হচ্ছে না,দুই কক্ষ সাথে আন্দোলন করে আনা ল্যাব এবং একটি বাস দিয়ে চলচে রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। এই বিশ্ববিদ্যালয় জন্ম হয়েছে আন্দোলনে, প্রতিটি প্রয়োজনে দরকার আন্দোলন।

ভিসি স্যার বা উচ্চ পদে যারা রয়েছেন তারা কখনও ভাবেন না তাদের ছাত্র ছাত্রীদের নিয়ে। প্রতিটি শিক্ষার্থী চায় তাদের ক্যাম্পাস, চায় ক্যান্টিন, চায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সুযোগ সুবিধা। দেশ প্রেমিক ছেলেরা চায় না স্বাধীনতা দিবসে বার্ষিক ক্রিড়া প্রতিযোগিতা ও পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠান।

হয়তোবা ভিসি স্যার ইচ্ছে করেই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের কাজ ধীর গতিতে করছেন যে কাজ শেষ করতে সময় লাগবে একশত বছর।

“হয়তো স্থায়ী ক্যাম্পাস দাও আমাদের, অন্যথায় ভিসি স্যার পদত্যাগ করুন, না হয় আমাদের ভবিষ্যৎ কে হত্যা কর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন”

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কর্মি হিসেবে নয় একজন সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে পাহাড়ি বাঙালীর ঐক্যের প্রতীক,পাহাড়ের রাজপুত্র, আমাদের অভিভাবক, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক সফল প্রতিমন্ত্রী জননেতা জনাব দীপংকর তালুকদার এমপি মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি,আপনি আমাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসনের হাত থেকে রক্ষা করুন। আমাদেরকে আমাদের ক্যাম্পাসে নিয়ে যান।আপনি ছাড়া আমাদের কথা আর কেউ শুনবে না। আপনি আমাদের অভিভাবক……..

চলছে লড়াই চলবে, রাবিপ্রবি স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য লড়বে

জয় হোক রাবিপ্রবির।।

(ফেইসবুক থেকে সংগৃহীত)