বিশেষ প্রতিনিধি । হিলরিপোর্ট

রাঙামাটি: পার্বত্য খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার প্রায় ১০ট্রাক সরকারি গম চট্টগ্রামের পাহাড়তলিতে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। গত ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সাইলো থেকে এসব গম রামগড়ের উদ্দেশ্যে বেরকরা হলেও বিক্রি করে দেওয়া হয় পাহাড়তলী বাজারের একটি সিন্ডিকেটের নিকট । আর এই সরকারি গম বিক্রির সাথে রামগড় খাদ্য গুদামে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদ ভূঁইয়া ও পরিবহণ ঠিকাদাররা জড়িত বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।

বাইরে বিক্রি করা এই গমের মূল্য প্রায় অর্ধশত কোটি টাকাও বেশি। তবে পাহাড়তলিতে গম প্রতিটন ২৭ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা নিশ্চিত করেছেন।

চট্টগ্রাম সাইলো সূত্র জানায়, সরকারের নির্দেশনা মতে ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১০টি গমবাহী ট্রাক খাগড়াছড়িতে পাঠানো হয়। এসব ট্রাকের মধ্যে রয়েছে চট্টমেট্রো ট- ১৮০৩৩৬ (১৪.৯৭০ মেট্রিক টন), চট্ট মেট্রো ১১-৩৩০৬ (১৫ টন), চট্টমেট্রো ট ১৮-২৫১০ (১৪.৯৮৫ মেট্রিক টন), চট্টমেট্রো-ট ৩৯৭৮ (১৫ টন), ফেনী ট ১১-০৬৭৩ (১৪.৯৮০ মেট্রিক টন), ফেনী ট ১১-০৬৭৬ (১৪.৯৯০ মেট্রিক টন), চট্টমেট্রো ট ১১-৫৬৯৫ (১৪. ৯৮০ মেট্রিক টন), ঢাকা মেট্রো-১১-৫৫২৩ (১৪.৯৯৫ মেট্রিক টন), চট্টমেট্রো ট ১২-০২৬৩ (১৪. ৯৭৫ মেট্রিক টন), কুমিল্লা ট ১১-০০৪৬ (১৪. ৯৯০ মেট্রিক টন)। এসব ট্রাকের বেশির ভাগই রামগড় খাদ্য গুদামে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সবকটি ট্রাক পাহাড়তলি চালের আড়তে আনলোড করা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে পাহাড়তলির একাধিক ব্যবসায়ী জানান, ৩ সেপ্টেম্বর আনলোড করা হয়েছে দুইটি গমবাহী ট্রাক, ৫ সেপ্টেম্বর দুই ট্রাক, ৬ সেপ্টেম্বর চার ট্রাক ও ৭ সেপ্টেম্বর দুইটি গমবাহী ট্রাক পাহাড়তলি বাজার আনলোড করা হয়েছে। ১০ ট্রাকের মধ্যে বেশির ভাগ আনলোড করা হয় ‘ফারুক ট্রেডিংসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে।

যদিও সরকারি এই গম বিক্রির জন্য সংশ্লিষ্ট গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে দুষে দায়মুক্তির চেষ্টা করছেন এক পরিবহণ ঠিকাদার। তার ভাষ্য, বিভিন্ন গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা ট্রাক চালকদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেন। ট্রাক চালকরা ট্রাকে গম লোড করার পর গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের টেলিফোনে যোগাযোগ করেন। ঠিকাদারদের অগোচরে ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দেন। খাদ্য গুদামে পাঠানো শুধু ইনভয়েস বা চালান কপি।

তবে এর বিপরীত ঘটনাও রয়েছে। সংশ্লিষ্ট খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, পরিবহণ ঠিকাদার ও ট্রাক চালকরা মিলে সরকারি গম চাল গন্তব্যে না নিয়েই পথে বিক্রি করে দিচ্ছে। আর এতে করে খাদ্য পরিবহণ খাতে প্রতিনিয়ত গচ্ছা দিচ্ছে সরকার।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে খাগড়াছড়ির রামগড় খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদ ভূঁইয়া বলেন, এই মুহুর্তে কী পরিমান গম মওজুদ আছে এটা না দেখে বলা যাবে না। ট্রাকগুলোর নাম্বারও এই মুহুর্তে মনে নেই। কিছুক্ষণ পর কল করলে জানানো যাবে। পরে একাধিকবার চেষ্টা করেও তার মুঠোফোনে আর সংযোগ পাওয়া যায়নি।