মঈন উদ্দীন বাপ্পী । হিলরিপোর্ট

রাঙামাটি: করোনা বা কোভিট-১৯ ভাইরাস সারা বিশ্বকে এক বছরের অধিক সময় ধরে কাঁপিয়ে দিয়েছে। অর্থনীতি থেকে শুরু করে জীবন ব্যবস্থা সবই আজ ধ্বংসের পথে। চারদিকে মৃত্যুর মিছিল, মানুষের আত্মনাতের হাহাকার। দিন যতই অতিবাহিত হচ্ছে ততই করোনার করাল গ্রাস থেকে নিস্তার পাচ্ছে না পুরো পৃথিবী।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশ সরকারও দেশের মানুষকে সুরক্ষা দিতে কয়েক দফা লকডাউন দিয়েছে। এই লকডাউনের মূল উদ্দেশ্যে হলো- মানুষের গণজমায়েত বন্ধ করা এবং ভাইরাস থেকে মানুষকে বাঁচানো।

কিন্তু লকডাউন ভাইরাস থেকে মানুষকে বাঁচালেও চরম বিপাকে পড়েছে দেশের শ্রমজীবি মানুষেরা। তারা প্রতিদিন মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কায়িক শ্রম বিক্রি করে সংসাসের চাকা ঘুরাতে ব্যাতিব্যস্ত থাকে। কারণ প্রতিদিন সকাল হলে তাদের মাথায় চিন্তার ভাঁজ পড়ে পরিবারের সদস্যদের পাতে ভাত দিতে হবে। এ চিন্তা মাথায় নিয়ে প্রতিদিন শ্রম বিক্রি করে যান। কোন একদিন শ্রম বিক্রি করতে না পারলে তাদের চুলায় আগুন জ্বলে না। পরিবারের সদস্যদের পাতে ভাত ঝুঁটে না। কেউ দয়া করে তাদের পাতে একবেলা ভাতের ব্যবস্থা করে দেয় না।

এরকম বাংলাদেশে লক্ষ শ্রমিক-জনতা রয়েছে; তারা প্রতিদিন শ্রম বিক্রি করে সংসারের চাকা ঘুরায়। তাই এসব মানুষের পেটের দায়ের কাছে মৃত্যুকুপের নেই কোন ভয়। তাদের কাছে ভাইরাসের নেই ভয়। তাদের কাছে একটাই ভয়; পরিবারের সদস্যদের মুখে আহারের ব্যবস্থা করে দিতে না পারা। তাই তারা ভোরের সূর্য উঠার সাথে সাথে শ্রম বিক্রি করতে বেরিয়ে পড়েন।

তবে এসব শ্রমজীবি মানুষের এখন গলার কাঁটা ‘লকডাউন’। সরকার যখন মানুষকে বাঁচাতে লকডাউন দিয়ে রেখেছে তখনিই এসব শ্রমজীবি মানুষেরা পড়ে গেছে চরম বিপাকে। কারণ লকডাউন তাদের পেটের ভার বহন করবে না । ঘর থেকে বের না হয়ে শ্রম বিক্রি না করলে তারা খাবে কি। তাই এ লকডাউন তাদের কাছে আর্শিবাদ নয়; অভিশাপ হিসেবে নেমে এসেছে।

মৎস্য শ্রমিক মো. সিরাজ মিয়া বলেন, আমাদের কাছে করোনার ভয় নেই; কিন্তু পেটের দায়ের ভয় আছে। একবেলা কাজ করতে না পারলে বউ-বাচ্চাদের মুখে আহার তুলে দিতে পারবো না। এখন করোনার থেকে বাঁচতে সরকার দেশে লকডাউন দিয়েছে এটা বুঝি আমাদের ভালোর জন্য। কিন্তু কি করবো? কাজ বন্ধ থাকলে আমাদের না খেয়ে থাকতে হবে। আমাদের তো একবেলা মুখে কেউ খাবার তুলে দিবে না।

ঠেলাগাড়ি চালক রমজান আলী বলেন, লকডাউন, করোনা কিছুই বুঝি না। ঘরে ভাত নেই, রাস্তায় নামলে পুলিশ দৌড়ায়। কেউ আমাদের দু:খ বুঝে না। আমার ঘরে চারদিন ধরে চাল নেই। প্রতিদিন ঠেলা চালিয়ে বউ-বাচ্চার মুখে খাবার তুলে দেয়। এইভাবে চলতে থাকলে আমরা খাবো কি? আমার মতো এসব শ্রমজীবি মানুষের দায়ভার নেবে কে?

রাঙামাটি শহরের বনরূপা এলাকার ফল ব্যবসায়ী মো. হাসান জানান, বিকিকিনি নেই, মন ভাল নেই। ফলগুলো পঁচে যাচ্ছে। লকডাউনে মানুষ বাজারে আসছে না। মানুষের আয়-রোজগার বন্ধ। তারা কেনার সামর্থ হারিয়েছে। তারা না কিনলে আমাদের ব্যবসা হবে কি করে। আমরা ভাল নেই। কখন আমরা এ ক্রান্তিকাল থেকে মুক্তি পাবো জানা নেই।

বনরূপা এলাকার কাপড় ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের জানান, করোনা, লকডাউন আর পারছি না। একদিকে মৃত্যুর ভয় অন্যদিকে ব্যবসা নেই। কি করবো জানি না। কখন এর থেকে পরিত্রাণ পাবো জানা নেই।